ভয়াল পার্বত্য ভূমিধস আজ

ঢাকা, বুধবার   ১৯ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৫ ১৪২৬,   ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

ভয়াল পার্বত্য ভূমিধস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২৩ ১৩ জুন ২০১৯   আপডেট: ১৬:৩৮ ১৩ জুন ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আজ ভয়াল ১৩ জুন। ২০১৭ সালে পার্বত্যাঞ্চলে শতাব্দীর ভয়াবহ ভূমিধসে দুই সেনা কর্মকর্তা ও ৩ সেনা সদস্যসহ ১৫২ জনের প্রাণহাণি ঘটে। আহত হন কয়েক শতাধিক মানুষ। বিলীন হয় শত শত ঘরবাড়ি। 

তিনদিন টানা প্রবল বর্ষণে ১২ জুন মধ্যরাত ও ১৩ জুন ভোরে এবং তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্থানে দেড় শতাধিক মানুষ মারা যায়। বৈরি আবহাওয়ায় বিদ্যুৎ এবং যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকর্মীদের পক্ষে আটকে পড়াদের উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে। আটকেপড়া এবং নিখোঁজদের সন্ধানে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন সম্মিলিতভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। প্রচণ্ড বৃষ্টিতে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

১২ জুন সকাল থেকে ৩৪৩ মিলিমিটার (১৩.৫ ইঞ্চি) করে ২৪ ঘণ্টা বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধস হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়। মৌসুমি জলবায়ুর কারণে প্রায় বন্যা দেখা দেয়। দেশের দক্ষিণ দিকের পাহাড়গুলোতে ভূমিধস দেখা দেয়।

পরেরদিন পাহাড়ধসে রাঙামাটিতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ১৩ জুন ভোর পাঁচটা থেকে রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস শুরু হয়। বেলা ১১টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টায় শহরের ভেদভেদি, রাঙ্গাপানি, যুব উন্নয়ন, টিভি স্টেশন, রেডিও স্টেশন, রিজার্ভ বাজার, মোনঘর, শিমুলতলি ও তবলছড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।

১২ জুন মধ্যরাত থেকে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রেক্ষাপটে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ, জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা।

১৩ জুন ভোরে রাঙামাটির মানিকছড়িতে পাহাড় ধসে মাটি ও গাছ উপড়ে পড়ে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে রাঙামাটি আঞ্চলিক সদরের নির্দেশে মানিকছড়ি থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল সেখানে যায়। তারা সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে উদ্ধারকাজ শুরু করে। উদ্ধারকাজ চলার সময় বেলা ১১টার দিকে পাহাড়ের বড় একটি অংশ উদ্ধারকারীদের ওপর ধসে পড়লে, তারা মূল সড়ক থেকে ৩০ ফুট নিচে পড়ে যান। পরে একই ক্যাম্প থেকে আরো একটি উদ্ধারকারী দল এসে দুই সেনা কর্মকর্তাসহ চার সেনাসদস্যকে নিহত এবং ১০ সেনাসদস্যকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে।

ওই উদ্ধার অভিযান চলাকালে সেনাবাহিনীর দুই কর্মকর্তা ও তিন সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়। পাহাড়ধসে বন্ধ হয়ে যাওয়া রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক চালু করতে গিয়ে প্রাণ হারান তারা।

১৬ জুন উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ১৫৬ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করে। রাঙামাটিতে ১১০ জন, চট্টগ্রামে ২৩ জন, বান্দরবানে ছয়জন, কক্সবাজারের দুজন ও খাগড়াছড়িতে একজনের প্রাণহানি হয়। এছাড়া চট্টগ্রামে ঢলে ভেসে যায় গাছপালা ও কাঁচাঘরবাড়ি। দেয়ালচাপায় ও বজ্রপাতে মৃত্যু হয় আরো ১৪ জনের।

রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরিভিত্তিতে ৫০ লাখ টাকা, ১০০ মেট্রিক টন চাল ও ৫০০ বান্ডিল টিন সহায়তা দেয়া হয়।

নির্বিচারে বন কেটে বসতি স্থাপন এবং বন-জঙ্গল ও গাছ উজাড়ের কারণেই চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করেন মাটি ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ব্যাপক হারে গাছ কাটার কারণে অনেক টিলার উপরিস্থল একদম ক্ষয় হয়ে পড়ছে। তারা বলছেন, এর আগে এ ধরনের ভূমিধস কখনো হয়নি। 

দ্বিতীয় বিষয় ছিল ভূমি, যেখানে প্রান্তিক এলাকাগুলোতে গরীব লোকজন কম ভাড়ায় থাকতে বাধ্য হয়। ওই সব এলাকায় সরকারি সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও পাহাড়ি ঢালু ভূমিতে ঘর বাঁধে মানুষ। সরকারি এক হিসেবে দেখা গেছে, দেশে প্রায় ৩ কোটি মানুষ ভূমিধস-প্রবণ পাহাড়ে বসবাস করছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এলকে/টিআরএইচ