ভয়ভীতি দেখিয়ে কৃষি জমিতে নতুন ইটভাটা 

ঢাকা, শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২১ ১৪২৬,   ১০ শা'বান ১৪৪১

Akash

ভয়ভীতি দেখিয়ে কৃষি জমিতে নতুন ইটভাটা 

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৪ ২৩ মার্চ ২০২০  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

কৃষকদের বাধা উপেক্ষা করে নাটোরের গুরুদাসপুরে কৃষি জমিতে নতুন করে ইটভাটা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে জাকির হোসেন সোনার নামে এক ইটভাটা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। 

উপজেলার ধারাবারিষা ও মশিন্দা ইউপির চরকাদহ মৌজায় ওই ইটভাটা নির্মাণের কাজ চলছে। তার অদূরে পৌরসভার মধ্যমপাড়ায় এসআরবি ব্রিকস নামে জাকির হোসেনের আরো একটি ইটভাটা রয়েছে।

এদিকে চার ফসলি জমি নষ্ট করে ইটভাটা নির্মাণ কাজ বন্ধ ও পরিবেশ রক্ষার দাবি জানিয়েছেন এলাকার কৃষকরা। 

কৃষকদের পক্ষে ডিসি’র কাছে লিখিত অভিযোগও দেয়া হয়েছে। কৃষকদের পক্ষে শাহিন কাওসার নামে একজন কৃষক ওই অভিযোগটি দেন। 

ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অভিযোগের অনুলিপি দেয়া হয়েছে। তার পরও ইটভাটা নির্মাণের তৎপরতা বন্ধ হয়নি। 

উল্টো কৃষি জমিতে ইটভাটা বন্ধের সঙ্গে জড়িত কৃষকদের তৎপরতা বন্ধ করতে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে পুলিশি হয়রানিসহ নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে ইটভাটার মালিক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে।

হয়রানির শিকার বরেন্দ্র সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার স্থানীয় কৃষক আলিমুদ্দিন ও ইটভাটা বন্ধের অভিযোগকারী শাহিন কাওসার অভিযোগ করেন, গত বুধবার থেকে ইটভাটা নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে কৃষিজমিতে মাটি ফেলা, ইট রাখাসহ শ্রমিকদের থাকার জন্য একটি ছাপড়াঘর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেখানে ইটভাটার মালিক জাকির হোসেন ও তার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় গ্রামের কৃষকরা সেখানে গিয়ে ইটভাটা বন্ধের দাবি জানান ভাটার মালিকের কাছে।

কৃষকদের দাবি অগ্রাহ্য করে জাকির হোসেন কৃষকদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ শুরু করেন। নিরুপায় কৃষকরা ফিরে যেতে বাধ্য হন। ওই ঘটনার পর কৃষক আলিমুদ্দিন ও ইটভাটা বন্ধের অভিযোগকারী শাহিন কাওসারের বিরুদ্ধে ইটভাটার মালিক জাকির হোসেনের শরীরে হাত ও সাড়ে চার লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

বুধবার রাতেই ধারাবারিষা ইউপি চেয়ারম্যান মো.আব্দুল মতিন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আহম্মদ আলীসহ নেতৃস্থানীয়দের  মধ্যস্থতায় থানায় বসেই সমঝোতায় রক্ষা পান তারা। তবে শর্ত জুড়ে দেয়া হয় ইটভাটা নিয়ে প্রতিবাদ করতে পারবেন না তারা। 

শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের হাজিরহাট সংলগ্ন পশ্চিম পাশের বিশাল কৃষি মাঠ। ধান,গম রসুন, ভুট্টা, তরমুজ, বাঙ্গির আবাদ করেছেন কৃষক। মাঠের পশ্চিম পাশে সেচের জন্য রয়েছে বরেন্দ্র প্রকল্পের অগভীর নলকূপ। ওই মাঠেই ইটভাটার কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন জাকির হোসেন। 

বরেন্দ্র সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার আলিমুদ্দিন জানান, নিজের দুই বিঘাসহ প্রায় ৮০ বিঘা কৃষি জমি রয়েছে ওই প্রকল্পের আওতায়। কষ্টের আবাদে সংসার চলে এসব কৃষকের। এই মাঠে ইটভাটা বাস্তবায়ন হলে ফসল হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষক। একারনে ইটভাটা বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এলাকার কৃষকরা। এই প্রতিবাদ করতে গিয়ে হয়রানির শিকারও হচ্ছেন তারা।

আরেক কৃষক রমজান প্রামাণিক জানান, তার তিন বিঘা জমি রয়েছে। বছরে চারটি ফসল ফলে। এতে সংসার চলে যায় তার। সেই জমিটি ইটভাটার নামে লিজ (বছর চুক্তিতে ভাড়া) দেয়ার জন্য নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে তাকে। একই রকম অভিযোগ করেন কৃষক ছাবেদ আলী, আবুল হোসেনসহ কমপক্ষে ১৫জন কৃষক।

এসব অভিযোগ সম্পর্কে মো. জাকির হোসেন সোনার দাবি করেন, সমঝোতায় বেশ কয়েকজন কৃষকের কাছ থেকে বছর চুক্তিতে জমি ভাড়ায় নিয়ে  ইটভাটা নির্মান করা হচ্ছে। অনেক কৃষককে অনুরোধ করা হয়েছে। কেউ জমি না দিলে জোর নেই। তবে কৃষকদের হয়রানি বা ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগটি সত্য নয়। তবে দুইজন কৃষক বাড়াবাড়ি করায় তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল। পরে সমঝোতা হয়েছে।

গুরুদাসপুর থানার ওসি মোজাহারুল ইসলাম সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জাকির হোসেনের মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে আলিমুদ্দিন ও শাহিন কাওছারকে আটক করা হয়েছিল। সমঝোতার পর ছেড়ে দেয়া হয় তাদের।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম বলেন, কৃষি জমিতে ইটভাটা করার সুযোগ নেই। কোনো ছাড়পত্র দেয়া হয়নি।

ইউএনও মো. তমাল হোসেন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ডিসি’র নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কৃষকদের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। ইটভাটার জন্য কোনো অনুমোদন নেয়া হয়নি। ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তার পরও কথা না শুনলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ