ভ্যালেন্টাইনের মাথার খুলি ও দেহাবশেষ আজো সুরক্ষিত

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২০,   আশ্বিন ১৫ ১৪২৭,   ১৩ সফর ১৪৪২

ভ্যালেন্টাইনের মাথার খুলি ও দেহাবশেষ আজো সুরক্ষিত

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:০৬ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৬:১৪ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভ্যালেন্টাইন ডে। এই দিনটির চল কবে থেকে শুরু হয়েছিল, জানেন কি? যার কারণে আজকের ভ্যালেন্টাইন ডে উদ্‌যাপিত হচ্ছে বিশ্বজুড়ে তার সম্পর্কে কতটুকু জানা আছে? 

কে ছিলেন সেন্ট ভ্যালেন্টাইন? তার পরিচয় নিয়ে নানা মুনির নানা মত। ইতিহাসে একাধিক সময় বিভিন্ন প্রসঙ্গে এসেছে তার কথা। জানা যায়, ২৭০ খ্রিস্টাব্দে ভ্যালেন্টাইন মারা যান। তাকে প্রাণদণ্ড দেয়া হয়েছিল। রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লদিয়াসের নির্দেশেই হত্যা করা হয় ভ্যালেন্টাইনকে। কারণ তিনি খ্রিষ্টান জুটিদের বিয়ে করিয়ে ঘর বাঁধতে সাহায্য করছিলেন। এই অপরাধেই দণ্ডিত করা হয় তাকে।

সম্রাট দ্বিতীয় ক্লদিয়াস বিশ্বাস করতেন, অবিবাহিত তরুণদের দিয়ে শক্তিশালী সৈন্যবাহিনী গড়া যায়। ফলে তার সাম্রাজ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ করে দেন। সম্রাটের এই নির্দেশ মেনে নেননি সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। তিনি গোপনে বিয়ে দিতে থাকেন খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের। তার এমন কাজে ক্ষিপ্ত হয়ে ক্লদিয়াস তাকে প্রাণদণ্ডের নির্দেশ দেন। সম্রাটের নির্দেশে মস্তকছেদ করে ভ্যালেন্টাইনকে প্রাণদণ্ড দেয়া হয়।

আরো এক তথ্যমতে, মধ্যযুগে ইতালির তার্নি শহরের বিশপকেও প্রাণদণ্ড দিয়েছিলেন দ্বিতীয় ক্লদিয়াস। দু’টি ঘটনার মধ্যেই সামঞ্জস্য রয়েছে। এজন্যই সবাই ভাবেন ওই বিশপই বোধ হয় খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বিয়েতে উৎসাহ জুগিয়েছিলেন।

তৃতীয় শতকের ১৪ ফেব্রুয়ারি বা তার কাছাকাছি কোনো এক দিনে রোমের শহরতলিতে হত্যা করা হয়েছিল সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে। প্রেমের দূত এই ভ্যালেন্টাইনের মাথার খুলি এখনো সংরক্ষিত রয়েছে। ফুল দিয়ে সুসজ্জিত রোমের কোসমেদিয়ানের ব্যাসিলিকা অব সান্তা মারিয়ায় রয়েছে তার দেহ ও খুলি।

১৯ শতকের প্রথম দিকে এই অঞ্চল খনন করে একটি নরকঙ্কাল পাওয়া গিয়েছিল। কঙ্কালের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া প্রত্নতাত্ত্বিক জিনিসগুলো পরীক্ষা করেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, এটি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের দেহাবশেষ। তারপর সেটিকে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উদ্ধার হওয়া কঙ্কালের খুলি সান্তা মারিয়ার ব্যাসিলিকায় সজ্জিত থাকলেও অন্য অংশ আছে চেক প্রজাতন্ত্র, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, স্কটল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের বিভিন্ন গির্জায়।

প্রথমে ভ্যালেন্টাইন ডে মানেই ছিল আত্মাহুতির দিবস। মধ্যযুগে এসে এর পরিবর্তন ঘটে। এই দিনটিকে প্রেম দিবসে রূপান্তরিত করেন জিওফ্রে চসার। তার রচনাতেই প্রথম এই দিনের সঙ্গে যুক্ত হয় প্রেমের অনুসঙ্গ। ক্রমে সেই ধারণা জনপ্রিয় হয়। এখন তো ভ্যালেন্টাইনস ডে আর প্রেম অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।

এখনো অবধি সেন্ট ভ্যালেন্টাইন পরিচয়ে একজনই সাধিকার সন্ধান পাওয়া যায়। কোথাও আবার তার নাম সেন্ট ভেলেন্টিনা। ৩০৮ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে তাকে প্রাণদণ্ড দেয়া হয় প্যালেস্তাইনে। তাই ইস্টার্ন অর্থোডক্স চার্চ বছরে দু’বার, ৬ জুলাই এবং ৩০ জুলাই ভ্যালেন্টাইনস ডে পালন করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস