ভোগান্তির অপর নাম ‘ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস’

ঢাকা, শুক্রবার   ১০ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৮ ১৪২৬,   ১৭ শা'বান ১৪৪১

Akash

ভোগান্তির অপর নাম ‘ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস’

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০৪ ১৭ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৭:৫৫ ১৭ অক্টোবর ২০১৯

সংগৃহীত

সংগৃহীত

জামালপুর-ময়মনসিংহ রুটে একসময় জনপ্রিয় ট্রেন ছিল আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস। ট্রেনটিতে সপ্তাহে ৭ দিনই থাকতো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। তবে সময়সূচি পরিবর্তন, শিডিউল ঠিক না থাকা, ভিক্ষুক, হকার আর হিজড়াদের উৎপাতে বর্তমানে ভোগান্তির অপর নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে 'ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস'।

পাঁচ বছর আগেও যখন সময় পরিবর্তন হয়নি তখন যাত্রীরা এই ট্রেনে ময়মনসিংহ কিংবা ঢাকায় গিয়ে অফিস ধরতে পারতেন। এখন অফিস তো দূরের কথা, ট্রেন চলে গরুর গাড়ির মতো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। নতুন সময়ে দেওয়ানগঞ্জ বাজার থেকে ভোর ৬:৩০ মিনিটে যাত্রা শুরু হয় এই ট্রেনের। ঢাকায় পৌঁছার কথা ১২:৩০ মিনিটে। কিন্তু এই টাইমিং কেবল কাগজে-কলমেই বিদ্যমান। একসময়ের দুর্দান্ত সার্ভিস আর দিতে পারছে না ট্রেনটি।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গেল লাইন হওয়ায় ক্রসিংয়ের জন্য এমনিতেই এই রুটে ট্রেনের শিডিউল টাইম বাড়িয়ে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ প্রকৃত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় দেয়া হয়েছে সবগুলো ট্রেনকে। তবে এরপরেও সময় মেনে চলতে পারছে না ট্রেনগুলো।

প্রারম্ভিক এবং গন্তব্য স্টেশনসহ এই ট্রেনের স্টপেজ মোট ১০টি। যেগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক বিবেচনায় নান্দিনা-পিয়ারপুরের মতো ছোট স্টেশনও যুক্ত করা হয়েছে। বাস্তবে এই ট্রেনটি যাত্রাপথে প্রায় দ্বিগুন সংখ্যক স্থানে দাঁড়িয়ে পড়ে। কখনো ক্রসিংয়ের জন্য, আবার কখনো অজানা কারণেও মাঝ স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়ে।

সম্প্রতি সরেজমিনে এই ট্রেনে ভ্রমণ করে দেখা গেছে, দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত ট্রেনটি মোট ১৮বার থেমেছে। এতে অনেক সময় নষ্টসহ অনেক যাত্রী তাদের নির্দিষ্ট কাজ করতে পারেন না।

বর্তমানে জামালপুর-ঢাকা রুটে চারটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। এই রুটের প্রতিটি ট্রেনে প্রতিদিনই যাত্রীচাপ থাকে অনেক বেশি। ট্রেনগুলোর মধ্যে তিস্তা এক্সপ্রেস কেবল ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা লাল-সবুজ রেক পেয়েছে। এটিই একমাত্র ট্রেন যা কমবেশি ৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা-জামালপুর যেতে পারে এবং সময় মেনে চলে। বাকী তিনটি ট্রেন ব্রহ্মপুত্র, অগ্নিবীণা এবং যমুনা চলছে বহু আগের পুরনো লক্করঝক্কর কোচ দিয়ে।

ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের টিকিট অনলাইনে কাটতে গেলেও পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। ১০ দিন আগে টিকেট কাটার সুযোগ থাকার পরেও ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসে শুধুমাত্র শোভন শ্রেণি ছাড়া আর কোনো শ্রেণির টিকেট পাওয়া যায়না। বিষয়টি নিয়ে কোন তদারকি নেই কর্তৃপক্ষের। যাত্রীদের চাওয়া ট্রেনটিতে নতুন কোচ সংযোজন ও শিডিউল ঠিক রেখে যেন যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস