Alexa ভেষজ উদ্ভিদের ব্যবহার

ঢাকা, শনিবার   ২০ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৬ ১৪২৬,   ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪০

ভেষজ উদ্ভিদের ব্যবহার

সালমান আহসান নাঈম

 প্রকাশিত: ১৯:০৪ ১২ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৯:০৪ ১২ জানুয়ারি ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

পৃথিবীতে স্থলের আদি বাসিন্দা উদ্ভিদকুল। আর এই উদ্ভিদকুল আমাদের প্রকৃতি, পরিবেশ ও সৌন্দর্য সচেতনতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। 

সমগ্র পৃথিবীর মানুষ সুপ্রাচীনকাল থেকেই ভেষজ গাছপালার সঙ্গে পরিচিত। ভেষজ গাছের লতা, পাতা, বাকল, ফলমূল আদিকাল হতে বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আজকাল বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রূপচর্চায় ভেষজ উদ্ভিদের ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। 

বাংলাদেশের শতকরা ৮০ ভাগ লোক গ্রামে বাস করে। আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ সুবিধা গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেই বললেই চলে। তাই অজো-পাড়াগাঁয়ে এই ভেষজ উদ্ভিদের চাহিদা ব্যাপক। গ্রামের মানুষ জানে কোন গাছের কোন অংশ কোন অসুখে কাজ করে। সে অনুযায়ী তারা চিকিৎসা করে। 

নিম্নে কিছু ভেষজ উদ্ভিদের পরিচিতি ও ব্যবহার দেওয়া হলো-

(১) পলাশ: পলাশ মাঝারি ধরনের গাছ। পলাশ গাছের ছাল, পাতা, ফুল, আঠা ওষুধ তৈরীতে ব্যবহৃত হয়। লাবণ্য রক্ষায়, কৃমি, পেট ব্যথায়, বারবার প্রস্রাবে নানারকম ক্রিম ব্যবহার হয়ে থাকে।

(২) শাল: শাল গাছ সরল ও দীর্ঘ হয়। শালের আঠা পচন নিবারক ও যেকোনো ঘা বা ক্ষতের পরিশোধন করে। শালের আঠা প্লাস্টারের জন্য ব্যবহৃত হয়। শালের রস মেদ কমায়। শালের পাতা কৃমি, রক্ত আমাশয়, অম্ল রোগে উপকারে আসে।

(৩) নিম: নিম মাঝারি আকারের একটি বহুবর্ষজীবী বৃক্ষ। নিম গাছের পাতা, ফল, ছাল বা বাকল, নিমের তেল,বীজ- এক কথায় নিমের সমস্ত অংশ ব্যবহার করা যায়। বিশ্বব্যাপী নিম গাছ, গাছের পাতা, শিকড়, নিম ফল ও বাকল ওষুধের কাঁচামাল হিসেবে পরিচিত। বর্তমান বিশ্বে নিমের কদর বেশি, এর অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহারের জন্য। নিম ছত্রাকনাশক হিসেবে, ব্যাকটেরিয়া রোধক হিসেবে, ভাইরাস রোধক হিসেবে, কীট-পতঙ্গ বিনাশে, রোগ নিয়ন্ত্রণে, ম্যালেরিয়া নিরাময়ে, দন্ত চিকিৎসায়, ব্যাথামুক্তি ও জ্বর কমাতে এবং জন্ম নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়। নিম গাছের পাতা ঘরে ঝুলিয়ে রাখলে রোগবালাই কম হয় বলে প্রবাদ আছে।

(৪) অশোক: অশোক একটি মাঝারি আকারের চিরহরিৎ বৃক্ষ। বাগানের শোভা বর্ধক হিসেবে এ গাছ লাগানো হয়। এ গাছের বাকল শুকনো গুঁড়ো ও ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শুকনো ফল রক্ত আমাশয়ে, প্রস্রাবের ব্যাধিতে ব্যবহৃত হয়।

(৫) বাসক: বাসক গাছ প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ফুট হয়।  বাসক পাতা কৃমি, শ্বাসরোগে ব্যবহৃত হয়। আবার খোস পাঁচড়ায়, বসন্তের সংক্রমণে বাসক ফুল উপকারী। তাজা অথবা শুকনা পাতা ওষুধের কাজে লাগে। বাসকের পাতায় ‘ভাসিসিন’ নামক ক্ষারীয় পদার্থ এবং তেল থাকে। শ্বাসনালীর লালাগ্রন্থিকে সক্রিয় করে বলে বাসক শ্লেষ্মানাশক হিসেবে প্রসিদ্ধ। বাসক পাতার নির্যাস, রস বা সিরাপ শ্লেষ্মা তরল করে নির্গমে সুবিধা করে দেয় বলে সর্দি, কাশি এবং শ্বাসনালীর প্রদাহমূলক ব্যাধিতে বিশেষ উপকারী। তবে অধিক মাত্রায় খেলে বমি হয়, অন্তত: বমির ভাব বা নসিয়া হয়, অস্বস্তি হয়। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় বাসকের ভেষজ গুণাবলি প্রমাণিত হয়েছে।

(৬) মেহেদী: মেহেদী বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। রূপচর্চায় মেহেদী প্রাচীনকাল থেকে আজ পর্যন্ত ভূমিকা রেখে চলেছে। মেহেদি পাতার ছাল ও ফুল অনেকগুলো রোগের ওষুধ। জন্ডিস, নখের রোগে, কাঁধের ব্যথায়, চুল ওঠা ও পাকায়, হাত-পা জ্বালায়, বসন্ত রোগে, চুলের খুশকিতে মেহেদি পাতা ব্যবহৃত হয়।

(৭) বহেড়া: বহেড়া বৃহদাকারের ডালপালা যুক্ত পাতাঝরা বৃক্ষ। বহেড়ার তেলে অতুলনীয় গুণ ও শক্তি রয়েছে। একসঙ্গে ভিজিয়ে ত্রিফলার পানি পান করলে গুনের শেষ নেই। এতে পাচন শক্তি বাড়ে। হাঁপানি, কোষ্ঠকাঠিন্য, লিভার ও পাইলস নিরাময়ে বহেড়া ফল অতুলনীয়।

(৮) আমলকী: আমলকী ছোট বা মাঝারি আকারের গাছ। আমলকি ত্রিফলার অন্যতম ফল। এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে।  পাতা ও ফলে ট্যানিন আছে। এর পাতা দিয়ে সিল্কের কাপড় বাদামি রং করা যায়। প্রসাধনে এর ব্যবহার ব্যাপক, যেমন শ্যাম্পু চুলের কলাপ তৈরিতে।

(৯) হরিতকী: হরিতকী মধ্যম থেকে বৃহদাকার চিরসবুজ বৃক্ষ। ত্রিফলার অন্যতম ফল হচ্ছে হরিতকী। হরিতকী গাছকে ভেষজ চিকিৎসকরা মায়ের সঙ্গে তুলনা করে থাকেন। তারা বলেন, মানুষের কাছে এ বৃক্ষ মায়ের মত আপন। মানুষের শরীরে সংক্রমিত প্রায় সব রোগ-ব্যাধির ওষুধ হিসেবে হরিতকী ব্যবহার রয়েছে। অর্শ্বরোগে, রক্তার্শে, চোখের রোগ, গলার স্বর বসে যাওয়া, হৃদরোগ, বদহজম, আমাশয়, জন্ডিস ইত্যাদি নানা রকম রোগে হরিতকী ফলের গুড়া ব্যবহৃত হয়।

গাছ আমাদের পরম বন্ধু। এদের নিধন না করে বেশি করে গাছ লাগানো উচিত। কারণে ভেষজ উদ্ভিদের ওষুধে  কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে না। তাই আমাদের উচিত বেশি করে বনজ, ফলজ ও ভেষজ উদ্ভিদ লাগানো।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে