Alexa ভুয়া ডাক্তারে চোখের অপারেশন

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৩ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৮ ১৪২৬,   ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪০

ভোলা আই হসপিটাল 

ভুয়া ডাক্তারে চোখের অপারেশন

আদিল হোসেন তপু, ভোলা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৩০ ২৯ মে ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ভুয়া ডাক্তার দিয়ে চক্ষু শিবির পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে ভোলা শহরের আই হসপিটাল নামে একটি ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্ট সার্টিফিকেটধারী জুয়েল হাওলাদার নামে এক যুবককে ডাক্তার সাজিয়ে ভোলার বিভিন্ন গ্রামে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের নামে অপচিকিৎসা চালাচ্ছে আই হসপিটাল কর্তৃপক্ষ। 

ডাক্তার না হয়ে চোখের অপারেশনের মতো কঠিন কাজটি জুয়েল হাওলাদারকে দিয়ে করানো হয় বলে একাধিক রোগী অভিযোগ করেন। গত ১৪ মে ধনিয়া ইউনিয়নে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করার সময় গ্রাম পুলিশ তাদেরকে ইউএনও’র কাছে নিয়ে আসে। 

জানা গেছে, ভোলা সদর হাসপাতাল সংলগ্ন একটি ভবনে মো. তামিম আই হসপিটাল নামে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু করেন। মো. তামিমের মালিকানায় ও ম্যানেজিং ডাইরেক্টর এনায়েত হোসেনের পরিচালনায় বিভিন্ন সময় ভুয়া ডাক্তার এনে রোগীদেরকে ধোকা দিয়ে চিকিৎসা দিতো। তারা মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্ট সার্টিফিকেটধারী এক যুবককে ডাক্তার সাজিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোলার বিভিন্ন এলাকায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করে আসছিলো। 

বোরহানউদ্দিন উপজেলার হেলিপোস্ট এলাকার ননী গোপাল বলেন, গতমাসে চোখের সমস্যা নিয়ে যাই শহরের আই হসপিটালে। সেখানে ৩০টাকা দিয়ে সিরিয়াল কেটে ডাক্তার দেখাই। পরে ডাক্তার জুয়েল চোখের অপারেশন করার পরামর্শ দেন। এ বাবদ ৪৫০০ তাকে দেয়া হলে তিনিই অপারেশন করান।

ডাক্তার দেখার নামে রোগীদের কাছ থেকে ৩০ টাকা নেয়া হলেও তাদের কাছে ৫ হাজার টাকার ওষুধ বিক্রি করতো আই হসপিটাল কর্তৃপক্ষ। গত ১৪ মে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের নাসির মাঝি বাজার এলাকায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প চালু করে আই হসপিটাল কর্তৃপক্ষ। এসময় ডাক্তারের সার্টিফিকেট নেই এমন গুঞ্জন উঠলে গ্রাম পুলিশ গিয়ে ডাক্তার জুয়েল হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করে ভোলা সদর উপজেলা ইউএনওর কাছে নিয়ে যায়। পরে অজ্ঞাত কারনে ভুয়া চিকিৎসক জুয়েল হাওলাদারকে ছেড়ে দিলে সে পুনরায় মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে নাসির মাঝি এলাকায় যায়। এসময় এলাকাবাসী তাকে ক্যাম্প করতে বাধা দেয়। 

একাধিক রোগীর বলেন, আমরা এই ফ্রি মেডিকেলে আসলে ডাক্তার জুয়েল হাওলাদার আমাদের চোখ পরীক্ষা করে অনেকগুলো ওষুধ দেয়। আবার অনেক রোগীকে চোখে অপারেশন লাগবে বলে তাদের জুয়েল নিজেই অপারেশন করেন। জুয়েল হাওলাদারের কাছে কাগজপত্র দেখতে চাইলে সে মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্ট পেশাদার রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেটের (ফাস্ট এইড) একটি ফটোকপি দেখায়। পরে ফ্রি মেডিকেল বন্ধ করে দেয়া হয়। 

এ ব্যাপারে আই হসপিটালের এমডি এনায়েত হোসেন বলেন, জুয়েল হাওলাদারকে দিয়ে আমরা মেডিকেল ক্যাম্প করে রোগীদের কাছ থেকে ৩০ টাকা নিয়ে তাদের চোখে সানি আছে কিনা সেটা পরীক্ষা করি। তবে চোখের অপারেশন ঢাকা থেকে ডাক্তার এনে করানো হয়। তবে আই হসপিটালের মালিক মো. তামিমের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর/এস