Alexa ভুল না শুধরালে ব্যবস্থা নেয়া হবে: গণপূর্ত মন্ত্রী

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৩ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৮ ১৪২৬,   ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪০

ভুল না শুধরালে ব্যবস্থা নেয়া হবে: গণপূর্ত মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিকেদক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:১৫ ২৭ জুন ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল বলেছেন, রাজউকের ভেতরে অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী আন্তরিকভাবে কাজ করছে। কিন্তু একটি ক্ষুদ্র অংশের জন্য রাজউককে বদনামের বোঝা কাঁধে নিতে হয়। দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিল থেকে শুরু করে সব নির্মাণ তখনই ঢাকা পড়ে যখনই বালিশ কেলেঙ্কারির মতো দুর্নীতি হয়। সুতরাং যাদের ভুল আছে তাদের শোধরানোর জন্য বাবরবার বলছি। না শুধরালে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

বৃহস্পতিবার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) অডিটোরিয়ামে রাজউক সেবা সপ্তাহ ২০১৯ এর সমাপনী অনুষ্ঠান প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাজউকের চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি প্রফেসর ড. আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি স্থপতি জালাল আহমেদ এবং ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের সভাপতি প্রকৌশলী মো. আব্দুস সবুর। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রাজউকের সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আমজাদ হোসেন খান।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, রাজউককে একটা ইমেজপূর্ণ জায়গায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। রাজউকের ভেতরে অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী আন্তরিকভাবে কাজ করছে, কিন্তু একটি ক্ষুদ্র অংশের জন্য বদনাম হচ্ছে। দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিল থেকে শুরু করে সব নির্মাণ তখনই ঢাকা পড়ে যখনই বালিশ কেলেঙ্কারির মতো ঘটনা ঘটে। যাদের ভুল আছে তাদের শোধরানোর জন্য বাবরবার বলছি। যে শুধরাবেন না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। 

তিনি বলেন, তবে মন্ত্রণালয়, রাজউক, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, গণপূর্ত অধিদফতরের একটা কর্মচারীও যেন অন্যায়ভাবে হয়রানির স্বীকার না হয় সেদিখে খেয়াল রাখতে হবে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, ভুল না করলে রাজউককে জনবান্ধব, স্বচ্ছ, দীর্ঘসূত্রিতামুক্ত একটি আধুনিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। রাজউককে আমরা বিকেন্দ্রীকরণ করার কথা ভাবছি। এত বড় ঢাকায় একটি রাজউকে বসে সবকিছু পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। রাজউকের সব জোনকে শক্তিশালী করতে চাই। স্তরভিত্তিক পরিসর বাড়ার কারণে রাজউককে বিকেন্দ্রীকরণের বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী বিবেন্দ্রীকরণের পক্ষে। এটা তিনি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছেন। অদূর ভবিষ্যতে রাজউকের কেন্দ্রীকতা বিকেন্দ্রীকতায় পরিণত হবে, যাতে মানুষ সেবা পেতে পারে।

সভাপতির বক্তব্যে রাজউকের চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদ বলেন, রাজউকের জনবল কম থাকা সত্ত্বেও সেবা প্রদান কার্যক্রম আগের চেয়ে অনেক বেগবান হয়েছে। স্বল্প সময়ে কোন রকমের হয়রানি ছাড়াই সেবাগ্রহিতারা সেবা পেতে পারেন সেজন্য কাজ করা হচ্ছে। সেবাপ্রত্যাশীদের নিকট থেকে অনেক মতামত ও পরামর্শ এসেছে। ভবিষ্যতে তাদের মতামত ও পরামর্শ মোতাবেক সহজে ও দ্রুত সেবা দেয়ার চেষ্টা করা হবে। 

রাজউকে একটা ব্যাপক পরিবর্তনের জোয়ার এসেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এই পরিবর্তনকে ধরে রাখতে হবে। সেবা প্রার্থীদের জিজ্ঞেস করে জানতে পেরেছি তারা হয়রানি হননি, সেবা পেতে কাউকে টাকা দিতে হয়নি। এই পরিবর্তনকে আরো বেগবান করতে চাই। স্বচ্ছতা, সততা, ন্যায়নিষ্ঠতার কোনো বিকল্প নেই। এটিকে ধারণ করতে হবে। ক্ষুদ্র অংশ যাদের কারণে অভিযোগ আসে তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। ভালো অর্জনের ভেতরে যারা দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে তাদেরকে বিদায় করে দেবো, তাদের রাজউকে দরকার নেই।

মন্ত্রী বলে, রাজউকের নব্বই শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের সম্পূর্ণ আন্তরিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। বাকী ক্ষুদ্র অংশকে অনুরোধ করছি সবাই মিলে ভালো হয়ে যান। ভালো না হলে আপনাদের রাজউকে প্রয়োজন আছে কি না ভেবে দেখতে হবে। এতো পরিশ্রম দু-একজনের জন্য নষ্ট হয়ে যাবে, বদনাম কাঁধে নেবে, এটা হতে পারে না।

সাধারণ মানুষদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, রাজউককে সাহায্য করুন। গতানুগতিকভাবে রাজউকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন না। রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনেক সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্যে যেভাবে কাজ করছেন, এটা প্রশংসার দাবি রাখে। রাজউকের সেবাটাও দেখুন। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা কাউকে ছাড় দিতে চাই না। দুর্নীতি কোনভাবে চলতে দেয়া হবে না।

গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘একটি রিপোর্ট করার পূর্বে একটু খতিয়ে দেখুন, রাজউক তার নৈমিত্তিক কাজের বাইরে গিয়েও, গতানুগতিকতার বাইরে গিয়েও পূর্বের চেয়ে গতিশীলতা নিয়ে কাজ করছে কি না। কোন বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকলে রাজউকের চেয়ারম্যান, সদস্য এমনকি প্রয়োজনে আমাকে জিজ্ঞেস করুন। কৈফিয়ত দেবো। 

তিনি বলেন, আমাদেরকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে প্রতিবেদন করলে ভালো হয়। আমি চাই না আমার বিরুদ্ধে, মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে, রাজউকের বিরুদ্ধে কেউ রিপোর্ট করবেন না। তবে এটা চাই রিপোর্টের সারবস্তু, তথ্য ও ভিত্তি থাকে। অনিয়ম হলে অবশ্যই রিপোর্ট করবেন, ব্যবস্থা নেবো।

সেবা সপ্তাহের অংশগ্রহণকারী সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সেবা সপ্তাহের পরিপূর্ণতা তখনই হবে, যখন সবাই মিলে পারস্পরিক সহানুভূতি, শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি এবং স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করতে পারবো। রাষ্ট্র আমাদের সবার। আমরা সবাই মিলে কাজ করতে চাই।

ডেইলি বাংলাদেশ/ডিএম/এমআরকে