Alexa ভুলে যারা কোটিপতি!

ঢাকা, শনিবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৬ ১৪২৬,   ২১ মুহররম ১৪৪১

Akash

ভুলে যারা কোটিপতি!

খালিদ মাহমুদ খান

 প্রকাশিত: ১২:২৭ ২ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১২:২৭ ২ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে অনেকেই রয়েছেন যাদের ভাগ্য আসলেই চাকার মতো ঘূর্ণমান। বর্তমান অবস্থা যেমনই হোক না কেন অর্থাৎ ভালো অথবা খারাপ সেটা পরিবর্তন হতে সময়ের প্রয়োজন পড়বে না যদি ভাগ্য সহায় থাকে। এই কথাগুলো মনগড়া নয় বরং কিছু মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন দেখে বলতে হয় যারা কোনো পরিশ্রম ছাড়াই ভাগ্যের কল্যাণে নেহায়েত ভুলবশত ধনী হয়েছেন। যেখানে মানুষ দিনরাত পরিশ্রম করে উন্নতি করতে পারে না কিংবা ভাগ্যের সঙ্গে পরিশ্রমের মেলবন্ধন হয় না সেখানে কোনো পরিশ্রম ছাড়াই শুধুমাত্র ভাগ্যের ছোঁয়ায় কীভাবে বদলে যেতে জীবনচক্র? এমন পাঁচ সৌভাগ্যবান ব্যক্তি সম্পর্কে জেনে নিন-

৫. কেভিন লেইস  

যুক্তরাষ্ট্রের সিমসিমারি শহরে ২০১৩ সালে আগষ্ট মাসে একটি ক্যাসিনোতে ব্র্যান্ড প্রোমোশনের জন্য বিশাল গিভওয়ে অফার রাখা হয় সেটা হচ্ছে রাউন্ডলি এক কাস্টমারকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে এবং সেই বিজয়ীকে দেয়া হবে ১ মিলিয়ন ডলার এবং পরবর্তীতে বিজয়ী কাস্টমার হিসেবে যার নাম ঘোষণা করা হয় তিনি ছিলেন কেভিন লেইস। কিন্তু পরবর্তীতে কাস্টমার ভেরিফিকেশনের জন্য যখন যাচাই বাছাই করে দেখা হয় তখন ফলাফল আসে আসল যে কেভিন লেইজকে পুরস্কার দেয়ার কথা ছিল ভুলে একই নাম হওয়ার কারণে অন্য আরেকজনকে সেটা দেয়া হয়ে গেছে কিন্তু রেপুটেশন এর কথা চিন্তা করে ভুল ব্যক্তির কাছ থেকে সেই এক মিলিয়ন ডলার আর ফেরত ফেরত না নিয়ে বরং আসল কেভিন লেইসকেও এক মিলিয়ন ডলার পুরস্কৃত করা হয়। আর এভাবেই সে রাতে নামের মিল থাকার কারণে ভুল করে হলেও একজন এর বদৌলতে দু’জনের ভাগ্য প্রসারিত হয়ে যায়।

৪. গ্লেন্ডা ব্লাকওয়েল

মার্কিন নাগরিক ব্লাকওয়েল ছিলেন খুবই গরীব ছিলেন তার স্বামী প্রায়ই বিভিন্ন লটারি টিকিট কিনে ভাগ্য পরিবর্তন করার চেষ্টা করতেন কিন্তু কখনো জিততে পারতেন না। এতটা গরীব হওয়া সত্ত্বেও লটারি টিকিট কিনে টাকা নষ্ট করার কারণে ব্লাকওয়েল ছিলেন তার স্বামীর প্রতি অনেক ক্ষিপ্ত। পরবর্তীতে সে নিজেই সিদ্ধান্ত নেয় স্বামীর টাকা দিয়ে লটারি কিনে সে বুঝিয়ে দিবে অযথা টাকা পয়সা নষ্ট করার কষ্ট কেমন হয়। আর এজন্য পরবর্তীতে তার স্বামীর টাকা দিয়ে একটি গ্যাস স্টেশন থেকে একটি লটারি টিকিট কিনেন কিন্তু সৌভাগ্যবশত তার প্রতিশোধ নেয়া বিফলে যায়। সৌভাগ্যবশত গ্লেন্ডা যে টিকিট কিনেছিলো সেটা ১ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার জেতে।যদিও লটারি কেনার কোনো ইচ্ছা তার ছিল না। আর এভাবেই ভুলক্রমে তাদের জীবনটা পরিবর্তন হয়ে যায়।

৩. অ্যাডাম‌ স্ট্রম

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় বসবাস করতেন অ্যাডাম স্ট্রম। হঠাৎ একদিন তিনি ৪ ডলার দিয়ে একটি পেইন্টিং কিনেন এবং পেইন্টিংটি থেকে ফ্রেম আলাদা করতে গিয়ে সে দেশের স্বাধীন হওয়ার ঘোষণাপত্রের একটি প্রিন্ট করা কাগজ পান। পরবর্তীতে সেটা এক্সপার্টদের দেখালে জানা যায় যুক্তরাষ্ট্র যেদিন স্বাধীন হয়েছিল ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই এই কপিটি সেদিন প্রিন্ট করা হয়।  আর এই রকম মাত্র ২৪ টি কপি প্রিন্ট করা হয়েছে পরবর্তীতে আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে তিনি এই কপিটি ২৪ লাখ ২০ হাজার ডলারে বিক্রি করেন আর চোখের পলকে তিনি কোটিপতি হয়ে যান।

২. গ্রে দায়াল

পাথরের তৈরি মুর্তি বিক্রি করে ধনী হওয়া যায়। কিন্তু শুধুমাত্র সাধারণ পাথর বিক্রি করে কোনো ব্যক্তি কীভাবে ধনী হতে পারে? গ্রে দায়াল নামক এক ব্যক্তি অকেজো পাথর বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য তিনি পাখির বাসার মধ্যে পাথর বসিয়ে সেগুলো বিক্রি আরম্ভ করেন যেটা 'পেট রক' নামে পরিচিত হয়। আর লোকজনের কাছে কিছুদিনের মধ্যেই সেটা এতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যে, গ্রে দেয়াল অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কোটিপতি বনে যান। তার ব্যতিক্রমী এবং অদ্ভুত এই বিজনেস আইডিয়ার মাধ্যমে ৬ মাসের মধ্যেই তিনি প্রায় দেড় কোটি ডলারের মালিক হয়ে যান।

১. জোয়েল কম্ব

আইফার্ট অ্যাপ এই নামটি অনেকেই শুনে থাকবেন। জোয়েল কম্ব নামের এই ব্যক্তিটি আইফার্ট নামের একটি অ্যাপ চালু করেন যে অ্যাপটির সাহায্যে বিভিন্ন রকম ফার্টের সাউন্ড রেকর্ড করে বন্ধুদের পাঠানো এমনকি বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাটের সাউন্ডও রেকর্ড করা যায়। এর চেয়ে আশ্চর্য বিষয় ছিল জোয়েল কম্ব আইফার্ট অ্যাপটির প্রাইজ  প্রায় ১ লাখ টাকা দাবি করেন মানে হচ্ছে অ্যাপটি ব্যবহার করতে হলে আপনাকে এক লাখ টাকা খরচ করতেই হবে। অনেকে ভাবতে পারেন যেখানে ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ ফ্রিতে ব্যবহার করা হচ্ছে সেখানে এই অ্যাপ ব্যবহার করতে টাকা খরচ করতে হবে। কিন্তু এত কিছুর পরেও মানুষ টাকা খরচ করে অ্যাপটি ব্যবহার শুরু করে এবং এর মাধ্যমেই জোয়েল কম্ব খুব দ্রুত মিডিয়ায় আলোচিত হয়ে যান। আর এভাবেই ধীরে ধীরে সে তার অ্যাপস এর সাহায্যে তিন কোটিরও বেশি ডলার আয় করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস