.ঢাকা, রোববার   ২৪ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৯ ১৪২৫,   ১৭ রজব ১৪৪০

ভুলে ভরা কুবি ওয়েবসাইট

নাজমুল সবুজ, কুবি

 প্রকাশিত: ২১:০২ ১৩ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ২১:০২ ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বাংলাদেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট রয়েছে। শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইটে গিয়ে ভর্তি কার্যক্রম, একাডেমিক কারিকুলাম, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তথ্যসহ প্রয়োজনীয় বিষয় জেনে নেন খুব সহজেই।   

তবে দেশের মধ্য পূর্বাঞ্চলের সর্ব্বোচ শিক্ষালয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ওয়েবসাইটে ঢুকে অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্তিমূলক তথ্যে হতাশ।

নানান ভুল এবং পুরনো তথ্য, সাইটটি নিয়মিত হালনাগাদ না করার কারণে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য সেবা থেকে বঞ্ছিত হচ্ছে সবাই। একদিকে প্রয়োজনীয়

তথ্যের অভাব অন্যদিকে যা আছে তাতেও রয়েছে নানা বিভ্রান্তি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যথাযথ নজরদারির অভাব ও উদাসীনতার কারণেই ওয়েব সাইটটির এমন বেহাল দশা বলে মনে করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন তথ্য যে অংশে রয়েছে সেখানে দেখানো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২১ টি বিভাগ। কিন্তু বাস্তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ আছে ১৯ টি।

এখানে বিজ্ঞান অনুষদের অর্ন্তভূক্ত বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অর্ন্তভূক্ত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের নাম থাকলেও বাস্তবে এই বিভাগগুলোর কার্যক্রম এবং অবকাঠামো কিছুই নেই। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস অংশে বলা আছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৭ টি বিভাগের কার্যক্রম রয়েছে এবং এই অংশে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলী আশরাফের যোগদানের তথ্য থাকলেও বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরীর যোগদান এবং এই সংক্রান্ত কোন তথ্য নেই।

ওয়েবসাইটতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যদের নামের যে তালিকা রয়েছে সেখানেও রয়েছে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য। এই তালিকায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: জাকির ছায়াদউল্লাহ খানের নাম থাকলেও অনুষদটির বর্তমান ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল। এই তালিকায় বাংলা বিভাগের সভাপতি হিসেবে ড. জি. এম. মনিরুজ্জামানের নাম থাকলেও ওয়েব সাইটের বিভাগের অংশে বাংলা বিভাগের সভাপতি হিসেবে মুহাম্মদ শামসুজ্জামান মিলকীর নাম রয়েছে। একই রকম ভুল রয়েছে ইংরেজী, নৃবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতির নামেও। এই তালিকায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি হিসেবে শামীমা নাসরিনের নাম থাকলেও বর্তমানে বিভাগটির সভাপতি মো: আবদুর রহমান, এর আগে সভাপতি ছিলেন এন. এম. রবিউল আউয়াল চৌ.ধুরী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ গুলোর একাডেমিক কারিকুলাম, শ্রেনী কার্যক্রম এবং পরীক্ষাসহ বিভিন্ন তথ্য থাকার কথা থাকলেও দুই একটি বিভাগ বাদে অন্য বিভাগগুলোর তেমন কোন তথ্যই নেই। অধিকাংশ বিভাগের অংশে শুধু শিক্ষকের নাম থাকলেও ছবি কিংবা অন্য কোন তথ্যাদি নেই।

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বিভাগে নতুন শিক্ষক যোগদান করলেও ওয়েবাসইটিতে নেই তাদের কোন তথ্য।

বিভ্রান্তিমূলক এবং পুরাতন তথ্য ওয়েবসাইটে থাকার বিষয়ে ওয়েবসাইটটির তদারককারী দপ্তর বিশ্ববিদ্যালয়ের নেটওর্য়াক অ্যান্ড আইটি সেলের পোগ্রামার মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, ‘ওয়েবসাইটের কোন তথ্য সংযোজন, হালনাগাদ, পরিবর্তন করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর হতে সেই তথ্য আমাদের দিতে হয়, অধিকাংশ সময়ই সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা বিভাগ হতে যথাসময়ে তথ্য পাওয়া যায় না। তাই আমরা সেই তথ্য ওয়েবসাইটে হালনাগাদও করতে পারিনা। যার ফলে পুরাতন তথ্য ওয়েবসাইটে থেকে যায় ।’

এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের তথ্য ওয়েবসাইটে না থাকার বিষয়ে এই কর্মকর্তা জানান, সবগুলো বিভাগকেই ওয়েবসাইটে এক্সেসের সুযোগ দেয়া আছে। বিভাগগুলো নিজেদের প্রয়োজনীয় তথ্য নিজেরাই ওয়েবসাইটে সংযোজন করতে পারে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, ‘ওয়েবসাইটের বিভ্রান্তিমূলক তথ্যগুলো অপসারণ করে সঠিক তথ্য প্রকাশ করার জন্য এবং ওয়েবসাইটটিকে গতিশীল করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।’

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ