ভুত হয়েছিলেন মাশরাফী, কান্নায় পাগলপ্রায় জাভেদ-বাশার

ঢাকা, শুক্রবার   ১০ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২৬ ১৪২৭,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

ভুত হয়েছিলেন মাশরাফী, কান্নায় পাগলপ্রায় জাভেদ-বাশার

স্পোর্টস ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:১১ ২৮ মে ২০২০   আপডেট: ২০:১৪ ২৮ মে ২০২০

মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার ভুত দেখে কান্না শুরু করেছিলেন জাভেদ ওমর ও হাবিবুল বাশার

মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার ভুত দেখে কান্না শুরু করেছিলেন জাভেদ ওমর ও হাবিবুল বাশার

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেটারের কথা আসলে মাশরাফীর নাম থাকবেই। একইসঙ্গে সবচেয়ে দুষ্টুর কথা আসলেও তার নামে নেন অনেকে। একটা সময় এতটাই দুষ্টু ছিলেন যে সতীর্থদের ভুতের ভয় দেখিয়েছেন তিনি। এদিকে মাশরাফীর ভুত দেখে কেঁদেকেটে একাকার করে ফেলেছিলেন সাবেক দুই ক্রিকেটার জাভেদ ওমর বেলিম ও হাবিবুল বাশার। 

বুধবার রাতে ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান মোহাম্মদের ইউটিউব লাইভে এসে নিজের খেলোয়াড়ি জীবনে এই দুষ্টুমির কথা জানান মাশরাফী। তিনি বলেন, 'সেটা ছিল ২০০৫ সালের কথা। বাংলাদেশ দল ইংল্যান্ড সফরে গিয়েছিল। সেখানেই ডারহামের এক হোটেলে ভুত-প্রেত ছিল বলে গল্প শুনেছিলাম। এরপরই আমি ভুত সেজে অন্যদের ভয় দেখানোর চিন্তা মাথায় আসে।'

কিভাবে ভয় দেখিয়েছিলেন সেটা জানাতে গিয়ে মাশরাফী বলেন, 'মানজারুল ইসলাম রানার গলাটা ছিল ভাঙ্গা ভাঙ্গা, ঠিক পুরুষদের মত ছিল না। ওর একটি মোবাইল ছিল। সেটা দিয়ে রেকর্ডিং করা যেত। এখন তো সব মোবাইলেই রেকর্ডিং অপশন আছে কিন্তু তখন তা ছিল না। আমি রানার ফোনে তার কন্ঠের কান্নার রেকর্ড করে ফেলি। সেটা শুনে মনে হতো যেন কোন মেয়ে কাঁদছে।'

তিনি আরো বলেন, 'হোটেলে একটি ভয়ের গল্প প্রচলিত ছিল, তা হল ওই হোটেলটি ছিল এক ধনাঢ্য ব্যক্তির। ওই বিত্তবান তার এক পরিচারিকাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ওই পরিচারিকা ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করে। এরপর থেকে প্রায় রাতেই নাকি সেই হোটেলে তার কান্না শোনা যেত। কিন্তু আমাকে তো আর ওসব ভুতের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমি এসেছি নড়াইল থেকে। ভুত-প্রেতের গল্প শুনেই আমি বেড়ে উঠেছি। আমি করি কি আফতাব, নাফিস, রাজিন সালেহদের ঘরের জানালা কিছুটা খুলে পর্দা টেনে দিয়ে বলি একটু পরে আসছি।'

নড়াইল এক্সপ্রেস যোগ করেন, 'রাত বারোটার কিছু পরে একটি সাদা চাদর নিয়ে জানালা খুলে রানার ওই রেকর্ডিংটা ওপেন করে কান্নার আওয়াজ ছেড়ে দেই। এছাড়া সারা শরীরে চাদরটা চড়িয়ে দুই হাত ওপরে তুলে শুধু চোখ দুটি বের করে রেখেছি। সেটা দেখে ও কান্নার আওয়াজ শুনে সবাই ভয়ে শেষ। একেবারে ওমা গো, ওমা বলে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দেয় তারা। সবাই এক দৌড়ে সোজা রিসিপশনে গিয়ে হাজির। রুমের বাইরে ভুত বলে কান্নাকাটি করছিল সবাই।'

এরপরের ঘটনা বর্ণনা করে ম্যাশ বলেন, 'রিসিপশন থেকে লোকজন গিয়ে সব খুঁজেও কিছুই দেখলো না। ওদিকে আমি ততক্ষণে রুমের কাছে। আমাকে দেখে সবাই বলে, এটা কি তুই করেছিস? আমি বললাম, না আমি কেন করবো? ওরা বলে, জানিস কি হয়েছে? তারপর আমায় সব খুলে বলে।'

এখানেই থেমে থাকেননি মাশরাফী। তিনি বলেন, 'এরপর দোতলায় যাই। সেখানে জাভেদ ভাই আর সুমন (হাবিবুল বাশার) ভাইয়ের রুম পাশাপাশি। তাদের সঙ্গে ওই ট্যুরে ভাবিরাও ছিলেন। আমি তাদের রুমের ঠিক বাইরে থেকে দরজায় নক করে সেই নারী কন্ঠের কান্নার রেকর্ড বাজাতে শুরু করি। শুনে তো ভয়ে সুমন ভাইয়ের বউ পর্যন্ত কাঁন্না শুরু করেন। জাভেদ ভাইয়ের বউও একই কাজ করেন। সুমন ভাইতো ভীতু লোক। তিনি রিসিপশনে ফোন দিয়ে বলেছেন, প্লিজ দেখো তো আমার রুমের বাইরে কে যেন নক করছে আর নারী কন্ঠের কান্নার শব্দ পাচ্ছি। রিসিপশন থেকে কেউ আসার আগেই আমি আরেক ক্রিকেটারের রুমে ঢুকে যাই।'

শেষপর্যন্ত আর কাউকে ভয় দেখাননি মাশরাফী। তবে সতীর্থদের এভাবে কাঁদানো থেকেই বোঝা যায়, দলের সবার সঙ্গে কতটা দুষ্টুমি করতেন তিনি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল