Exim Bank
ঢাকা, সোমবার ২১ মে, ২০১৮
iftar
বিজ্ঞাপন দিন      

ভূতুড়ে ক্রিকেট কাণ্ড

 নুসরাত মোহনা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৪০, ১৫ মে ২০১৮

আপডেট: ২১:০১, ১৫ মে ২০১৮

৫৩৩ বার পঠিত

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

কখনো কি আপনার সাথে ভৌতিক কিছু ঘটেছে? আপনি কি ভূতুড়ে বা অতিপ্রাকৃত বিষয়ে বিশ্বাস করেন? বা কোনো অশরীরির অস্তিত্ব অনুভব করেছেন যা অন্যেরা বিশ্বাস করেনি?

আপনি বিশ্বাস করেন বা না করেন অনেক ক্রিকেটারই বিশ্বাস করেন বা করতে বাধ্য হয়েছেন।

অনেক ভুতূড়ে কান্ডে ক্রিকেটাররা সিরিজের মাঝ পথে হোটেল বদলেছেন আবার কখনো কখনো এমন ঘটনাও তাদের মুখে শোনা গেছে যা ব্যাখ্যাতীত। এমনই কিছু ঘটনা তুলে ধরা হলো এখানে।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের লাতিমার হোটেল:
পৃথিবীর সবচাইতে মনোমুগ্ধকর দেশগুলোর মধ্যে একটি নিউজিল্যান্ড। কিন্তু ২০১৫ সালে এই নিউজিল্যান্ডে এসেই এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন পাকিস্তানের হারিস সোহেল।

লাতিমার হোটেলে অবস্থানকালীন এক রাতে তিনি কোচিং স্টাফের একজনকে হঠাৎ কল দিয়ে বলেন কোনো অতিপ্রাকৃত কিছুর কারণে তার বিছানা সহ পুরো ঘর কাঁপছে।

কোচ সহ বাকিরা তার রুমে গিয়ে সোহেলকে প্রচন্ড অসুস্থ এবং জ্বরে আক্রান্ত অবস্থায় পান। পরবর্তীতে তার রুম পরিবর্তন করা হয় এবং হোটেলের লোকজন বিষয়টিকে জ্বরের ঘোর বলে উড়িয়ে দেন।

তবে সোহেল আজো মানতে রাজি নন যে সেটি কেবল তার জ্বরের কারণে অনুভব করেছিলেন।

ফেল্পহাম এর ক্রিকেটার বালক:
প্রায় আড়াইশ বছর পুরোনো ফেল্পহামের এক জমিদার বাড়িতে দেখা যায় ১২বছরের এক ক্রিকেটার শিশুকে টেস্টের সাদা জার্সি পড়ে ঘুরে বেড়াতে, এমনটাই শোনা যায় সেখানে।

বিংশ শতাব্দীর সময় কেনরিক ক্লেটন নামক এক বিস্ময়কর ক্রিকেটীয় প্রতিভার অধিকারী বালক এই বাড়িতে থাকতো যার মা ছিলেন এই বাড়ির মালিক।

১২বছর বয়সে নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত হলে তার মা তাকে তার রুমে আটকে রাখেন যেন অন্যেরা তার দ্বারা রোগে আক্রান্ত না হোন। সেই রুমেই মারা যায় বালকটি।

এরপর থেকেই বিভিন্ন সময়ে এই বাড়িতে থাকতে এসে লোকজন তাকে দেখতে পাওয়ার কথা জানান।

অমর ক্রিকেটপ্রেম:
১৮০০ শতকের বার্মিং হাম ক্রিকেট ক্লাবের অনন্য সমর্থক ছিলেন রেভারেন্ড এডওয়ার্ড রবার্টস। কোনো ম্যাচই মিস করতেন না তিনি।সাবেক স্থানীয় এক গ্রাউন্ডসম্যানের মতে ১৮৯১ সালে তার মৃত্যুর পরও সেই ক্লাবের ম্যাচের সময় রবার্টসকে মাঠে দেখা যেত।

এমনকি তার কাছে এর ছবিও আছে বলে দাবি করেন তিনি। আরো অনেকেই রবার্টস এর মৃত্যুর পরও তাকে মাঠে দেখতে পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

ডারহাম এর লুমলি ক্যাসেল হোটেল:
এই হোটেলটি ইংল্যান্ডের অতিথি ক্রিকেটার দের থাকার জন্য একটি জনপ্রিয় হোটেল কিন্তু এই হোটেলকে নিয়েই প্রচলিত আছে ক্রিকেটারদের সবচাইতে বেশি ভুতূড়ে অভিজ্ঞতার গল্প।

১৪ শতকের লুমলি রাজপ্রাসাদকে পরবর্তীতে হোটেলে রুপান্তর করা হয়। প্রচলিত মিথ অনুযায়ী প্রাসাদের রাণী ছিলেন লিলি লুমলি, স্যার রালফ এর স্ত্রী। লুমলিকে তার নিজের রুমেই হত্যা করা হয়।

এবং তার লাশ একটি কুয়োতে ফেলে দেয়া হয়। বর্তমানে কুয়োটিকে কাঁচ দিয়ে বন্দী করে দেয়া হলেও বলা হয়ে থাকে লুমলির আত্মা এখনো হোটেলটিতে ঘুরে বেড়ান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ত্রয়ীর ভৌতিক অভিজ্ঞতা:
২০০০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্যাপ্টেন জিমি অ্যাডামস সহ তিনজন ক্রিকেটার এই হোটেলেই অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার স্বীকার হয়ে সিরিজ শেষের আগে হোটেল ছেড়ে দেন এবং সাংবাদিকদের পুরো ঘটনা জানাতে অস্বীকৃতি জানান।

এই ঘটনা তাদের ২টি ওয়ানডে ম্যাচে হারায় প্রভাব ফেলেছি কিনা তাও জানা যায়নি।

গাঙ্গুলীর নিদ্রাহীন রাত:
২০০২ সালে ভারতে ইংল্যান্ড সফর মাঠের পারফর্ম্যান্সের দিক থেকে সৌরভ গাঙ্গুলীর জন্য অত্যন্ত সুখকর ছিলো বটে। সম্মানজনক ভাবে ১-১ এ টেস্ট সিরিজ ড্র, নাটওয়েস্ট সিরিজ জয়, এবং সেই শার্ট খোলা উদযাপন।

তবে মাঠের বাইরে ঠিক ততোটা সুখকর ছিলো না তার জন্য। এই লুমলি ক্যাসেই তারা ছিলেন সবাই।

গাঙ্গুলির মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেলে তিনি কলে পানি পড়ার শব্দ শুনতে পান। উঠে কল বন্ধ করে দিয়ে তিনি শুয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর আবারো কল থেকে পানি পড়তে থাকে। তিনি আবারো কল বন্ধ করেন।

তৃতীয়বার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে তিনি ভয় পেয়ে যান এবং রবিন সিং এর রুমে চলে যান। ভারতের অধিনায়ক হিসেবে সাংবাদিকদের সামনে ভৌতিক বিষয় স্বীকার না করলেও আসল ঘটনাটি সবার জানাই ছিলো।

ভৌতিক অ্যাশেজ:
২০০৫ সালের অ্যাশেজ এর কথা হয়তো অধিকাংশেরই মনে থাকার কথা। ১-১ ড্র এর সিরিজটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য ছিলো হৃদয়বিদারক হার অপরদিকে ইংল্যান্ডের জন্য ছিলো স্মরণীয় জয়।

ব্রেট লির হতাশ অবস্থায় ব্যাটে ভর দিয়ে বসে পড়া এবং অ্যান্ড্রিউ ফ্লিন্টঅফের তার কাধে হাত রাখার সেই ছবি আজ অবধি ক্রিকেট দুনিয়ার এক জনপ্রিয় ছবি যা অ্যাশেজ এর সময় এর স্পিরিট জাগিয়ে তুলতে বহুল ব্যবহৃত।

কিন্তু ২০০৫ এর অ্যাশেজে এর বাইরেও ঘটেছে কিছু ঘটনা। শেন ওয়াটসন সম্মুখীন হয়েছেন কিছু অতিপ্রাকৃত ঘটনার এবং নিজের রুম ছেড়ে গিয়েচিলেন ব্রেট লির রুমে।

এমনকি অস্ট্রেলিয়া দলের মিডিয়া অফিসার বেলিন্ডা ড্যানেট এই ঘটনা সাংবাদিক দের সামনে স্বীকার করেন এবং তিনি দাবি করেন তিনি নিজেও ভূত দেখেছেন এই হোটেলে।

এই নিয়ে ইংল্যান্ডের পত্র-পত্রিকাতে অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে মজাও করা হয় এবং ড্যারেন গহ ওয়াটসনকে নিয়ে হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করেন।

তবে ওয়াটসন হোটেল ছেড়ে যাবার পর জানা যায় যেই রুমে তাকে থাকতে দেয়া হয়েছিলো সেই রুমেই মারা যান রাণী লুমলি।

ল্যাঙ্গহাম হোটেল:
অস্ট্রেলিয়া ও ওয়াটসনকে নিয়ে মজা করা ইংল্যান্ড দল নিজেরাই ২০১৪ সালে ইংল্যান্ডেরই অন্য এক স্থাপত্য হোটেল ল্যাঙ্গহামে।

কথিত আছে এই হোটেলে এক জার্মান রাজপুত্র যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে এই হোটেলে মারা যায়, এক লোক যে নিজের হানিমুনে এসে নিজের স্ত্রীকে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করে এবং রুম ৩৩৩ এ একজন পাহীন ব্যক্তির আত্মা ঘুরে বেড়ায়।

স্টুয়ার্ট ব্রড বলেন তিনি মাঝরাতে ঘুম ভাঙ্গার পর এক অশরীরির উপস্থিতি অনুভব করেন এবং গাঙ্গুলির মতোন কলের পানির ঘটনা তার সাথেও ঘটে।

এর জন্য তিনি ম্যাট প্রায়োর এর রুমে চলে যান। বেন স্টোকস ও একই সময় একই ধরণের অভিজ্ঞতার কথা স্বীকার করেছেন।

ভূত শিকারী হাবিবুল বাশার:
শেষ করি বাংলাদেশ দলের সাথেই হয়ে যাওয়া একটি ঘটনা নিয়ে। ২০০৫ সালে ডারহামের রেড হল হোটেলে থাকেন বাংলাদেশ দল।

এই হোটেলের নামে প্রচলিত আছে কিছু ভৌতিক মিথ। বলা হয়ে থাকে এই ১৬৯৩ সালের জ্যাকোবিয়ান জমিদার বাড়ির জমিদার লর্ড সার্টিস এর মানসিকভাবে অসুস্থ সন্তানের প্রেতাত্মা এই হোটেলে ঘোরা ফেরা করে।

কারন সার্টিস তাকে ফায়ারপ্লেসের সাথে চেইন দিয়ে বেধে রাখত এবং সেভাবেই সে মারা যায়।

এক রাতে বাশারের সামনে একটি সাদা অবয়ব আবির্ভূত হয় কিন্তু বাশার ভয় না পেয়ে বরং সামনে এগিয়ে যান দৌড়ে ভূতকেই পেটাতে। এবং তা করতে গিয়ে জাগিয়ে তোলেন হোটেলের অনেক অতিথিকেই পরে জানা যায় সেই অবয়ব আসলে ছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা।

যিনি একটি বিছানার চাদর দিয়ে নিজেকে ঢেকে আর টেপ রেকর্ডার দিয়ে গলা পরিবর্তন করে স্রেফ মজা করছিলেন। কিন্তু এই ঘটনা প্রমাণ করে বাশার ভয় পান না ভূতকেও।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

সর্বাধিক পঠিত