Alexa ‘ভিটামিন- ডি স্বল্পতা’ বিষয়ে সেমিনার 

ঢাকা, বুধবার   ১৭ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ২ ১৪২৬,   ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪০

‘ভিটামিন- ডি স্বল্পতা’ বিষয়ে সেমিনার 

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:২১ ১১ জুলাই ২০১৯  

ছবি: আইএসপিআর

ছবি: আইএসপিআর

আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ (এএফএমসি) ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে ‘ভিটামিন-ডি স্বল্পতা’ বিষয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগে এ সেমিনার হয়। এছাড়া সেমিনারে এএফএমসি থেকে সদ্য পাশ করা ইন্টার্ন ডাক্তারদের অভ্যর্থনা জানানো হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সামরিক চিকিৎসা মহাপরিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. ফসিউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কনসালটেন্ট ফিজিসিয়ান জেনারেল মেজর জেনারেল মো. আজিজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী মো. রশিদুন্নবী।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অধ্যাপক মো. আব্দুর রাজ্জাক, ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল্লাহেল কাফি। 

সেমিনারে বক্তারা ভিটামিন-ডি এর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিষদভাবে আলোকপাত করেন। বর্তমান বিশ্বে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ লোক ভিটামিন-ডি স্বল্পতায় ভুগছেন। কিন্তু বিষয়টি অবহেলিত ও অগোচরিভুক্ত থেকে যায়। ভিটামিন-ডি এর প্রধান উৎস হলো সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি। এছাড়া চর্বিযুক্ত ও সামুদ্রিক মাছ, কডলিভার, গরুর যকৃৎ, ডিমের কুসুম, দুধ, বাটার, পনির, মাশরুম থেকে ভিটামিন-ডি পাওয়া যায়।

ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ বাজার জাত খাবারের মধ্যে রয়েছে-গরুর দুধ, দই, লাচ্ছি, পাউরুটি, খাদ্যশস্য, ওটমিল ইত্যাদি। ভিটামিন-ডি অন্ত্রে খাবার থেকে ক্যালসিয়াম শোষণ করে ও হাড় গঠনে ভূমিকা রাখে। এছাড়াও বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ও ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে।

বয়স্ক ও ঘরে আবদ্ধ থাকা লোকজন, যারা সূর্যের আলো থেকে বিরত, পর্দানশীল নারী যারা বোরকা, হিজাব বা নিকাব দিয়ে সারা গা ঢেকে রাখেন এবং যারা পর্যাপ্ত ভিটামিন-ডি যুক্ত খাবার গ্রহণ করেন না তাদের ভিটামিন-ডি স্বল্পতার ঝুঁকি বেশি। 

ভিটামিন-ডি এর অভাবে বাচ্চাদের রিকেট ও বড়দের অষ্টিওমালাসিয়া রোগ দেখা দেয়। এছাড়া, স্বাস্থ্যের উপর অন্যান্য অনেক বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় যেমন পিঠে ব্যথা, পেশীতে ব্যথা, দুর্বলতা, অস্থি ভংগুরতা, বিভিন্ন ক্যানসার, ইমুনোলজিকাল রোগ, দাঁতের ক্ষয় রোগ, ইনফেকশন,স্নায়ুবিক ও মানসিক রোগ ইত্যাদি। এছাড়া মাতৃত্বকালীন ও নবজাতকের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ে ভিটামিন-ডি এর অভাবে। 

ভিটামিন-ডি স্বল্পতা ওষুধের মাধ্যমে সহজেই চিকিৎসা করা যায়। তাছাড়া নিয়মিত ১৫-২০ মিনিট খোলা গায়ে সূর্যালোকে অবস্থান করলে এবং পর্যাপ্ত পরিমান ভিটামিন-ডি যুক্ত খাবার গ্রহণ করে ভিটামিন-ডি স্বল্পতা জনিত রোগ সমূহ থেকে মুক্ত থাকা যায়। তাছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ লোকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ভিটামিন-ডি সেবনের মাধ্যমে জটিলতা সমূহ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তাররা, এএফএমসি ও ঢাকার সিএমএইচ এর জ্যেষ্ঠ অফিসাররা। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসবি/এমআরকে