ভিজিডি’র চাল চেয়ারম্যানের পেটে

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৪ ১৪২৬,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

ভিজিডি’র চাল চেয়ারম্যানের পেটে

ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:০৯ ২৩ মে ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

যশোরের ঝিকরগাছার হাজিরবাগ ইউপিতে ভিজিডি’র চাল বিতরণে ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিন্টু নয়ছয় করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

ওই ইউপিতে ভিজিডি’র চাল কর্মসূচির আওতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরের তালিকায় ১৬৩ জনের নাম চূড়ান্ত করা হয়। প্রতি মাসে প্রত্যেককে ৩০ কেজি চাল দেয়ার কথা থাকলেও এ তালিকার ৫০ জনকে চাল দেয়া হচ্ছে না। 

এ বিষয়ে উপজেলা ভিজিডি কমিটির সভাপতি ও ইউএনও জাহিদুল ইসলামের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই ইউপির মাটিকোমরা গ্রামের জাহাঙ্গীর কবীরের স্ত্রী মোছা. শেফালী খাতুন। অভিযোগে এলাকার সুবিধাবঞ্চিত নারীদের গণস্বাক্ষরও জমা দিয়েছেন।

অভিযোগে শেফালী উল্লেখ করেছেন, ভিজিডি চক্র ২০১৯-২০ এর ভিজিডি কর্মসূচির জন্য উপকারভোগী মহিলা নির্বাচনের তালিকার চূড়ান্ত ছকের ৬৬ নম্বর সদস্য হওয়ার পরও কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি না। এ প্রকল্পের অনেকেই আমার মতো বঞ্চিত। তাই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।

হাজিরবাগ ইউপি সচিব আবু সাঈদ বলেন, তালিকার বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। ভিজিডির ইউপি কমিটির সভাপতি, ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে তালিকা তৈরি হয়ে আমার কাছে আসে। তালিকাতে ১৫ জনের বিষয় নিয়ে সমস্যা রয়েছে। সেটার বিষয়ে রেজ্যুলেশন তৈরি করে জমা দেয়া হয়েছে।    

বাছাই কমিটির সভাপতি ও হাজিরবাগ ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিন্টু বলেন, তালিকা তৈরির সময় ১২ জনের মতো সরকারি অনুদান ভোগীদের নাম ওই তালিকায় চলে এসেছে। যেটা মেম্বারদের কোটা অনুযায়ী। যার জন্য আমি রেজ্যুলেশন তৈরি করে জমা দিয়েছি ও তাদের স্থানে নতুন মানুষের চাল দিয়েছি।

উপজেলা ভিজিডি কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন আখতার সুলতানা বলেন, ২০১৭-১৮ ভিজিডি চক্রে হাজিরবাগ ইউপি চেয়ারম্যান কয়েক জনের চাল বিতরণ করা বন্ধ করে রেখেছিল। পরবর্তীতে অফিসের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সেটা মীমাংসা করা হয়। ২০১৯-২০ ভিজিডি চক্রে হাজিরবাগ ইউপি চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে চাল বিতরণ বন্ধ করেছেন। 

তিনি বলেন, ওই চেয়ারম্যান ১৩ জনের নাম পরিবর্তনের জন্য ইউপি কমিটি থেকে যে রেজ্যুলেশন পাঠিয়েছেন তাতে কেনো যৌক্তিক কারণ না থাকায় উপজেলা কমিটির সভা করা হয়নি। উপজেলা কমিটির অনুমোদন ছাড়া মূল তালিকার পরিবর্তন আনা যাবে না। ইউপি চেয়ারম্যানকে আগের তালিকা অনুযায়ী কার্যক্রম চালাতে বলা হয়েছে। 

উপজেলা ভিজিডি কমিটির সভাপতি ও ইউএনও জাহিদুল ইসলাম বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর