ঢাকা, শনিবার   ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৩ ১৪২৫,   ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪০

ভিকারুননিসার তিন শিক্ষককে খুঁজছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ০০:০৬ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ০০:২১ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার মামলার আসামি ওই প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষককে গ্রেফতারের জন্য খুঁজছে পুলিশ। 

তারা হলেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, শাখাপ্রধান জিনাত আখতার এবং অরিত্রীর শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) আব্দুল বাতেন জানান, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। খুব শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করা হবে।

তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এরই মধ্যে র‌্যাব-পুলিশকে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে পল্টন থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী। ওই মামলাটি তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশকে দায়িত্ব দেয়া হয়। বুধবার সন্ধার পর মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় ঢাকা মহানগর পুলিশ(গোয়েন্দা)।

এদিকে মামলা হওয়ার পর বুধবার সারাদিন স্কুলে দেখা যায়নি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীনসহ অন্য তিন শিক্ষককে। তবে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চললেও আগের দিন স্কুলে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী গেল সোমবার আত্মহত্যা করার পর থেকে উত্তেজনা চলছে রাজধানীর খ্যাতনামা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নানা অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করছেন। তারা এই ঘটনার যথাযথ বিচারের দাবি করেন। বুধবার সকাল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেইলি রোডের শাখার প্রধান ফটকে বিক্ষোভ করে কয়েকশ শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে যোগ দেন অনেক অভিভাবক।

অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারীর অভিযোগ, রোববার পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষক অরিত্রীর কাছে মোবাইল ফোন পান। মোবাইলে নকল করেছে, এমন অভিযোগে অরিত্রীকে সোমবার তার মা-বাবাকে নিয়ে স্কুলে যেতে বলা হয়। তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে সোমবার স্কুলে গেলে ভাইস প্রিন্সিপাল তাদের অপমান করে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। মেয়ের টিসি (স্কুল থেকে দেয়া ছাড়পত্র) নিয়ে যেতে বলেন। পরে প্রিন্সিপালের কক্ষে গেলে তিনিও একই রকম আচরণ করেন।

এ সময় অরিত্রী দ্রুত প্রিন্সিপালের কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। পরে বাসায় গিয়ে তার মা-বাবা দেখেন, অরিত্রী তার কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় ঝুলছে।

পরে অরিত্রীদের শান্তিনগরের বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে চিকিৎসকেরা অরিত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর