ভিআইপিদের জন্য পাপিয়ার টোপ ছিল ১২ রুশ তরুণী

ঢাকা, শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২০ ১৪২৬,   ০৯ শা'বান ১৪৪১

Akash

ভিআইপিদের জন্য পাপিয়ার টোপ ছিল ১২ রুশ তরুণী

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:২২ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৫:২১ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: পাপিয়া

ছবি: পাপিয়া

ভিআইপিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতে ১২ রাশিয়ান তরুণীকে ব্যবহার করতেন পাপিয়া। রিমান্ডের প্রথম দিনই এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন তিনি।

পাপিয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, বিশেষ ক্যামেরায় ধারণ হতো ভিআইপিদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড। পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে আদায় করা হতো মোটা অঙ্কের অর্থ। এসব কাজে পাপিয়াকে সহায়তা করতেন তার স্বামী সুমন চৌধুরী।

তদন্ত কর্মকর্তারা আরো জানান, পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন চৌধুরী ঢাকা ও নরসিংদীতে অবৈধ কাজের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। তাদের ওইসব অপকর্মের পরিধি থাইল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত। আর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিদের মনোরঞ্জনে বিদেশিদের পাশাপাশি দেশি তরুণীদেরও ব্যবহার করতেন পাপিয়া। গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ক্লিপসের ভয় দেখিয়ে পরে তাদের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হতো। সম্মান হারানোর ভয়ে ওইসব ব্যক্তি পাপিয়া ও সুমনের কথার বাইরে যেতে পারতেন না।

পুলিশ ও র‌্যাবের দুই কর্মকর্তা বলেন, পাপিয়া ও সুমনের মোবাইল ফোনে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির মোবাইল নাম্বার সেভ করা। ওই ব্যক্তিদের সঙ্গেও তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। গ্রেফতারের দিন পাপিয়া র‌্যাব কর্মকর্তাদের হুমকি-ধমকিও দিয়েছেন। এমনকি তাকে ধরলে পরিণাম ভালো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন। ওই সময় মোবাইল ফোনে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন পাপিয়া। পরে পাপিয়াসহ চারজনের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়া হয়।

মঙ্গলবার বিমানবন্দর থানায় পাপিয়া-সুমন দম্পতিকে কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় তারা ঘনিষ্ঠ অনেক ভিআইপির নামও প্রকাশ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাপিয়া আসলেই হাইপ্রোফাইল। নামীদামী এমন কোনো লোক নেই যার সঙ্গে তার পরিচয় নেই। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেয়া তথ্য পেয়ে আমরা বিব্রত। পুলিশের উত্তরা ডিভিশনের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। প্রশ্ন করলে কিছুক্ষণ চুপ থাকেন পাপিয়া। অবশ্য কিছুক্ষণ পরই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেন। 

প্রতারণার কাজে মূলত তরুণীদের ব্যবহার করতেন পাপিয়া। মাসখানেক আগে রাশিয়ার ১২ তরুণীকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। তাদের আনতে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সহায়তা করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। পাপিয়ার অপরাধ জগতের সঙ্গে আর কারা সম্পৃক্ত তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস/এস