Alexa ভালোবাসার দাম্পত্যে অনুকরণীয়-অনুসরণীয় তারা

ঢাকা, শুক্রবার   ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ১৫ ১৪২৬,   ০৪ রজব ১৪৪১

Akash

ভালোবাসার দাম্পত্যে অনুকরণীয়-অনুসরণীয় তারা

নাজমুল আহসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:০৪ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

শোবিজে হরহামেশায় তারকাদের দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদের খবর শোনা যায়। হুট করে বিয়ে আর কদিন বাদেই ডিভোর্স! এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও কম হয় না। কিন্তু আমাদের শোবিজে এমন কিছু তারকা দম্পতি আছেন যারা যুগযুগ ধরে একই ছাদের নিচে জীবন অতিবাহিত করছেন। শোবিজের কাছে তারা অনুকরণীয়-অনুসরণীয়। এ সময়ের বিচ্ছেদের ভীড়ে দাম্পত্য জীবনে যারা উদাহরণ। ভালোবাসা দিবসে তাদের সুখ সংসারের গল্প তুলে ধরা হলো-

লায়লা হাসান-হাসান ইমাম
অভিনেতা, নির্দেশক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম ও নৃত্যশিল্পী, অভিনেত্রী লায়লা হাসান দেশের এই দুই গুণী মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ভালোবেসে বিয়ে করেন ১৯৬৫ সালের ৩০ জুন। এই দম্পতি দেশীয় সাংস্কৃতিক জগতের পুরোধা ব্যক্তিত্ব বলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের সফল ও আদর্শ দম্পতিদের তালিকায় ঘুড়েফিরে প্রথম সারিতে আসে এই দম্প্রতির নাম। সদা হাসিখুশি এই তারকা দম্পতি শুধু সফল জুটিই নয় সফল বাবা-মাও। এক ছেলে ও দুই মেয়ের সফল পিতা-মাতা এই তারকা দম্পতি।

আলী যাকের-সারা যাকের
আলী যাকের ও সারা যাকের দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে বিনোদন ভুবনের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। নাটকের দল নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের মাধ্যমে দুজনের পরিচয়। একসঙ্গে থিয়েটার করার সূত্র ধরেই আলী যাকের আর সারা যাকেরের কাছে আসা। পরিচয়ের পর চুপিসারে একে অন্যকে নিজের প্রিয় বই উপহার দিতেন। ইংরেজিতে বেশ কৌশলী চিঠি লিখতেন আলী যাকের। ঝরঝরা সুন্দর হাতের লেখা আর সাবলীল অনুভূতিতে মুগ্ধ হতেন সারা। তিনিও জবাবটা দিতেন মজা করে। মনের অজান্তে দিনে দিনে বন্ধুত্ব থেকে একসঙ্গে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেন তারা। এরপর তারা ১৯৭৭ সালে সুখের নীড় রচনা করে এখনো স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করছেন। তাদের ঘরে জন্ম নিয়েছে ইরেশ যাকের ও শ্রেয়া সর্বজায়া।

ফেরদৌসী মজুমদার-রামেন্দু মজুমদার 
রামেন্দু মজুমদার ও ফেরদৌসী মজুমদার বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের দুটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। ১৯৬১ সালে একই সঙ্গে ভর্তি হন দুজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও দুজনের ডিপার্টমেন্ট ছিল ভিন্ন। ফেরদৌসী বাংলায় আর রামেন্দু ভর্তি হয়েছিলেন ইংরেজিতে। তাদের সাবসিডিয়ারি ছিল সমাজবিজ্ঞান। সেখানেই তাদের দেখা-সাক্ষাৎ, তারপর প্রেম। কিন্তু ১৯৬৫ সালে পড়াশোনা শেষ করার পর থেকেই তাদের মধ্যে বিয়ের ভাবনা জোরালো হতে থাকে। কিন্তু তৎকালীন সময়ে ধর্মের বেড়াজাল পেরিয়ে একে অন্যের গলায় মালা পরানো ছিল কঠিন ছিল। তারপরও শত বাঁধা ডিঙিয়ে ১৯৭০ সালে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

ইনামুল হক-লাকী ইনাম
ড. ইনামুল হক একটা সময় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। একই সঙ্গে নাট্যচর্চা। তার দীর্ঘজীবনের দাম্পত্যসঙ্গী বরেণ্য নাট্যশিল্পী লাকী ইনাম। লাকী ইনাম ১৯৭২ সালে ‘নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়’ দলে যোগ দেন। একই দলে কাজ করতেন ইনামুল হক। সেখান থেকেই তাদের পরিচয়, পরবর্তী সময়ে ঘনিষ্ঠতা। এ দম্পতি তাদের বিবাহিত জীবনের প্রায় তিন যুগের বেশি সময় পার করেছেন।

কনকচাঁপা-মইনুল ইসলাম খান
কনকচাঁপার কিশোর বয়স থেকেই মইনুল ইসলাম খানের সঙ্গে পরিচয়। বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’র শিল্পী ছিলেন কনকচাঁপা। সেখানেই দুজনের দেখা-সাক্ষাৎ হতো। কনকচাঁপার প্রথম গাওয়া গানের সুরকার ও সংগীত পরিচালক মইনুল ইসলাম খান। প্রথম গাওয়া গানের সুরের প্রেমে পড়েছিলেন কনকচাঁপা। এক সময় সুর থেকে সুরকারের প্রতি ভালো লাগা অনুভব করেন। পরবর্তী সময়ে পারিবারিকভাবে তাদের দুজনের বিয়ে হওয়ার পর প্রায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে একত্রে বসবাস করছেন এ তারকা দম্পতি।

ম. হামিদ-ফাল্গুনী হামিদ
নাট্যজন ম. হামিদ ও নাট্যনির্মাতা ফাল্গুনী হামিদের প্রথম দেখা হয় সিকান্দার আবু জাফরের ‘সমকাল’ পত্রিকা অফিসে। ফাল্গুনী হামিদ ১৯৭৮ সালে ম. হামিদ প্রতিষ্ঠিত নাটকের দল নাট্যচক্রর সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। এভাবেই একে অপরের কাছে আসা এবং মন বিনিময় করা। তারপর ১৯৭৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে তারা ভালোবেসে মালাবদল করেন। কিন্তু তাদের এ বিবাহ পারিবারিক ভাবে স্বীকৃতি পেতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। ১৯৭৯ সালের ১২ মার্চ সেই বিয়ে পারিবারিক স্বীকৃতি পায়। দুজন ভিন্ন ধর্মের হওয়ায় সম্পর্কের স্বীকৃতি পেতে তাদের বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয় বিয়ের পর মাঝের দুই বছর। ম. হামিদ ও ফাল্গুনী হামিদের দুই সন্তান ছেলে প্রান্তর হামিদ ও মেয়ে অভিনেত্রী তনিমা হামিদ।

রফিকুল আলম-আবিদা সুলতানা
বাংলাদেশ বেতারে প্রথম দেখা হয় রফিকুল আলম ও আবিদা সুলতানার। সে সময় ঢাকা স্টেডিয়ামে একটি সংগীত সম্মেলনে তাদের পরিচয় ঘটিয়ে দেন গুণী শিল্পী লাকী আখান্দ। এরপরই গানের জগতে বিচরণ করতে গিয়ে একে অন্যের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পান। ১৯৭৪ সালে তাদের প্রেমের সূচনা, ১৯৭৫ সালে তারা বিয়ে করেন। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে একই ছাদের নিচে বসবাস করছেন তারা।

বিপাশা-তৌকির
বর্তমান সময়ের তরুণ প্রজন্মের কাছে আদর্শ এক জুটির নাম তৌকির আহমেদ ও বিপাশা হায়াত। তৌকির বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও বিপাশা আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের প্রথম পরিচয় হয় বাংলাদেশ টেলিভিশনের ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে। দুজন একসঙ্গে প্রথম অভিনয় করেন ১৯৯২ সালে  সোনালী রোদ্দুর নামের একটি নাটকে। একসঙ্গে নাটক করতে গিয়ে তাদের ভালোবাসার শুরু। ১৯৯৯ সালে তারা পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দীর্ঘ ২২ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের সংসার আলো করে এসেছে আদরের দুই সন্তান।

মৌসুমী-সানী
মৌসুমী ও ওমর সানী বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় ও সফল দুটি নাম। সিনেমার বাইরেও তারকা জগতের জনপ্রিয় দম্পতি ওমর সানী ও মৌসুমী। ১৯৯৫ সালে অনেকটা চুপিসারেই বিয়ে করেন এ দম্পতি। ছেলে ফারদিন গর্ভে আসার পর বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ করেন তারা। তৎকালীন শেরাটন হোটেলে জাঁকজমকভাবে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। এ বছর তাদের বিয়ের ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। দুই দশকেরও বেশি সময়ের সংসারে এক ছেলে ছেলে ফারদিন ও এক মেয়ে মেয়ে ফাইজাকে নিয়ে বেশ সুখেই আছেন তারা। 

জাহিদ-মৌ
জাহিদ হাসান মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা অভিনেতা এবং নির্মাতা। অন্যদিকে মডেল, অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌ। বাংলাদেশে দুজনেরই জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। দুজনের প্রথম পরিচয় হয়েছিল জনপ্রিয় উপস্থাপক হানিফ সংকেতের ইত্যাদি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে গিয়ে। সেই পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব; অতঃপর প্রেম। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে দুজনে চুটিয়ে প্রেমও করেছেন। ওই সময় পত্রিকায় তাদের নিয়ে প্রচুর গসিপ হয়েছে। পত্রিকার লেখালেখিই তাদের সম্পর্কের ভিত তৈরি করেছে। মৌ’য়ের পরিবার শুরুতে রাজি ছিল না। অনেক চড়াইউতরাই পেরিয়ে ১৯৯৭ সালে তারা ভালোবাসার ঘর বেঁধেছেন। ক্যারিয়ার এবং প্রেমে চূড়ান্ত সাফল্যের পর এই জুটি দাম্পত্য জীবনেও দারুণ সুখী বাবা-মা। মেয়ে পুষ্পিতা ও ছেলে পূর্ণকে নিয়ে তাদের এখন সুখের সংসার।

শাবনাজ-নাঈম
চলচ্চিত্র নির্মাতা এহতেশাম পরিচালিত চাঁদনী ছবির মাধ্যমে বাংলা সিনেমায় নাঈম-শাবনাজ জুটির অভিষেক হয়। এরপর থেকে রুপালী পর্দায় তারা জুটি বেঁধে দারুণ সাড়া ফেলেন। নাঈম-শাবনাজ অতিনীত অধিকাংশ ছবিই ব্যবসা সফল। সফল স্ক্রিনে নাঈম-শাবনাজ বাস্তব জীবনেও সফল। অভিনয় করতে গিয়েই প্রেম। প্রেম থেকেই বিয়ে। ১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর তারা দুজন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের ঘরে রয়েছে দুই কন্যা সন্তান। ইতিমধ্যে দাম্পত্য জীবনের ২৫ বছর কাটিয়েছেন তারা।

আজিজুল হাকিম-জিনাত
নাট্যজগতের পরিচিত জুটি আজিজুল হাকিম ও জিনাত হাকিম। গত শতকের নব্বইয়ের দশকের শুরুতে আজিজুল হাকিম ছিলেন জনপ্রিয় নাট্যাভিনেতা। তখন একদিন নাটকের মহড়া করতে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে। মহড়ার ফাঁকে ফাঁকে তাকে প্রায়ই দেখা যেত রোকেয়া হলের গেটে। এক সময় জানা যায়, এই হলেই থাকতেন তার জীবনসঙ্গী জিনাত। ভালোবেসে তারাও কাটিয়ে দিলেন প্রায় দুই দশকের বেশি সময়। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে এখন তাদের সুখের সংসার। 

রোজী-সেলিম
১৯৯৩ সালের বিজয় দিবসে রোজী-সেলিম দম্পতির যুগল জীবনের শুরু। বিয়ের বছর থেকেই রোজী সিদ্দিকী ঢাকা থিয়েটার এ কাজ শুরু করেন। তারো এক দশক আগে থেকেই শহীদুজ্জামান সেলিম এই নাট্যদলের কর্মী ছিলেন। বিয়ের পর একই ছাদের নিচে গুণে গুণে কাটিয়ে দিয়েছেন ২৭টি বছর। সংসার জীবনে তাদের ঘর আলো করে এসেছে দুই মেয়ে।

ফারুকী-তিশা
নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিশাকে। কিন্তু বিয়েটা হবে হচ্ছে করেও বছরের পর বছর আটকে ছিল। অবশেষে ২০১০ সালের ১৬ জুলাই ফারুকী ও তিশা ঘটা করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জনপ্রিয় এই তারকা জুটি ইতিমধ্যে আদর্শ দম্পতি হিসেবে একসঙ্গে কাটিয়ে দিয়েছেন অর্ধযুগেরো বেশি সময়।

মোশাররফ করিম-জুঁই
গত দশকের শুরুর দিকে সেগুনবাগিচায় একটি কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করতেন মোশাররফ করিম। একই কোচিংয়ে পড়তেন জুঁই। তখন থেকেই জুঁইকে পছন্দ করতেন, কিন্তু বলতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে জুঁইও সেই কোচিংয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। মোশাররফ করিম তার মনের কথা জুঁইকে বলেন। প্রথম দিকে প্রত্যাখ্যান করলেও পরে রাজী হন। এরপর ২০০৪ সালে বিয়ে করেন তারা। ইতিমধ্যে ১ যুগেরো বেশি সময় পার করেছেন এ দম্পতি। বর্তমানে একমাত্র সন্তান রোবেন রায়ান করিমকে নিয়ে এখন তাদের সুখের সংসার।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ