Alexa ভারতে হিন্দুত্ববাদের উদয়ে লাভ হবে বাংলাদেশের

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৬ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ১ ১৪২৬,   ১২ জ্বিলকদ ১৪৪০

ভারতে হিন্দুত্ববাদের উদয়ে লাভ হবে বাংলাদেশের

 প্রকাশিত: ১৬:২২ ১৮ জুন ২০১৯  

কবি হিসেবেই পরিচিতি অমিত গোস্বামীর। তবে উপন্যাস, প্রবন্ধ ও বিশ্লেষণধর্মী লেখায়ও বেশ সুনাম রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের এই লেখকের। পেশায় সাংবাদিক। জন্ম, বাস, বেড়ে ওঠা সবই ভারতে। তবে বাংলাদেশের প্রতি রয়েছে বিশেষ টান। বাংলাদেশের শহীদ বুদ্ধিজীবী আলতাফ মাহমুদকে নিয়ে উপন্যাস লিখে এরইমধ্যে সাড়া ফেলেছেন।

সারা পৃথিবীতে ভারতের পরিচয় ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে। কিন্তু বর্তমানে ভারতে ক্ষমতায় আসীন যে দলটি তারা হিন্দুত্ববাদে বিশ্বাসী। হিন্দুত্ববাদে বিশ্বাস অন্যায় নয় বা মুখমণ্ডল কুঞ্চিত করার মতো কোনো বিষয় নয়। বরং এটা ভারতের ভবিতব্য ছিল। কিন্তু প্রশ্ন একটাই- দেশে ও প্রতিবেশী দেশে তার সম্ভাব্য প্রভাব কী হতে পারে।

প্রথমেই চোখ রাখা যাক পাকিস্তানের দিকে। ১৯৪০ সালের ২৩ শে মার্চ মুহম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে দ্বি-জাতিতত্ত্ব প্রস্তাব গৃহীত হয়। তারপরেই বৃটিশদের ভারত ত্যাগ। পাকিস্তান সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে গেল দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ। পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু মুসলমানরা সংখ্যালঘু হিন্দু ও শিখদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। শুধু সাধারণ মুসলমান আর দাঙ্গাবাজরাই নয়, পাকিস্তানি মিলিটারি পর্যন্ত ২৫ আগস্ট রাতে পাক পাঞ্জাবের শেখুপুরায় সর্দার আত্মা সিংয়ের কারখানায় লুকিয়ে থাকা ৩০০০ নিরপরাধ মানুষকে মেশিনগান চালিয়ে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর পাকিস্তানি সেনারা মৃতদেহগুলি টুকরো টুকরো করে কেটে পার্শ্ববর্তী সেচনালায় ভাসিয়ে দেয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সামনে স্বীকার করেন– প্রায় ২২,০০০ মানুষ শেখুপুরা শহরে নিহত হন। যুবতী তো বটেই, বৃদ্ধারাও অপহরণ ও ধর্ষণের শিকার হন। ২৪ আগস্ট পুনরায় পাকিস্তানি মিলিটারি গোবিন্দগড়ের সংখ্যালঘুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১১ অক্টোবর পাকিস্তানি পুলিশ পুনরায় গোবিন্দগড় আক্রমণ করে। এইভাবে উপর্যুপরি হামলা, অত্যাচার, দাঙ্গা-হাঙ্গামার মাধ্যমে শেখুপুরা জেলাটিকে হিন্দু-শিখ শূন্য করে দেয়া হয়। এই হামলায় সরকারিভাবে প্রায় ৩৫,৯০৪ জন নিহত হন এবং স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যান কমবেশি ১০,০০০ জন। এই সময়ে জিন্নাহ’র বিখ্যাত উক্তি – “ I am telling every one that I don’t care how the Sikhs get across the border; the great thing is to get rid of them as soon as possible.” অর্থাৎ পাকিস্তানের হিন্দু তথা ভারত বৈরিতা একেবারে প্রথম থেকে যা আজ অবধি চলে আসছে। মুসলমানদের জন্যে পাকিস্তান যেখানে অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি সামান্য সহনশীলতা দেখানোর সৌজন্য সৃষ্টির পর থেকে তারা কখনোই করেনি। শুরুতেই পাক ভূখণ্ড হিন্দুশূন্য করার ব্যাপারে দ্বিধা করেনি।

পাকিস্তানের বর্তমান জনসংখ্যা ১৯.৭০ কোটি। তার মধ্যে হিন্দুর সংখ্যা ১.৬% অর্থাৎ ৩১.৫০ লাখ। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যা ছিল ৩.৩৭ কোটি। হিন্দু ছিলেন ১৪.৭% অর্থাৎ ৫০ লাখ। দেশভাগের আগে ১৯৪১ সালের সেনসাস অনুযায়ী পাকিস্তানের অংশে হিন্দুদের সংখ্যা ছিল ৫৫.৭০ লাখ। ১৬৫১ সালে সেটা হল ৬.৫০ লাখ। অর্থাৎ ৪৯.২০ লাখ হিন্দু (১৯৪১ এর গণনাকৃত হিন্দু জনগোষ্ঠীর ৮৬%) ভারতে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

এবারে আসা যাক পূর্বতন পূর্ব-পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশ প্রসঙ্গে। দাঙ্গা অবশ্যই হয়েছিল স্বাধীনতার সময়ে। দলে দলে হিন্দুরা এসেছে ভারত ভূখণ্ডে। কিন্তু তার সংখ্যা ছিল প্রথম চার বছরে ২৪ লাখ। একই সঙ্গে মুসলমানরাও দুই পাকিস্তানে গিয়েছিল। কিন্তু মূলত পাঞ্জাব ও বাংলা থেকে। দেশভাগের পর পুব কিংবা পশ্চিম পাকিস্তানে পাকাপাকিভাবে চলে যাওয়ার উৎসাহ অন্য প্রদেশের সচ্ছল মুসলিমদের ছিল না। ছিল ভাষার ব্যবধান এবং ভৌগোলিক দূরত্ব। তা ছাড়া, উচ্চবিত্ত মুসলমানরা পুরুষানুক্রমে ব্যবসাবাণিজ্য করে অবস্থার উন্নতি ঘটিয়েছিলেন, যথেষ্ট সুবিধেজনক অবস্থায় ছিলেন। তারা নতুন জায়গায় নতুন করে জীবন শুরু করার ঝুঁকি নিতে যাবেন কেন? পশ্চিমবঙ্গের গরিব মুসলমানদের কাছে ওপার বাংলায় চলে যাওয়াটা কিন্তু ততটা আকর্ষণীয় ছিল না। একে তাদের টাকার জোর নেই, তার ওপর শিক্ষাদীক্ষাও তেমন নেই যে নতুন দেশে, নতুন পরিবেশে নতুন করে জীবন শুরু করার ঝুঁকি নিতে পারবেন। সব থেকে বড় কথা, তাদের জীবিকার মূলে যে কৃষিক্ষেত্র, পুব বাংলায় সেটা তখনই যথেষ্ট ভিড়াক্রান্ত, নতুন করে আসা পরিযায়ীদের চাপ নিতে সে অক্ষম। কাজেই, এ দেশের গরিব মুসলমানেরা মোটের ওপর এ দেশেই রয়ে গেলেন। কাজেই জনসংখ্যার নিরিখে চাপ পড়েছিল পশ্চিমবঙ্গের ওপরে। কিন্তু তারপরে?

তারপরের গল্পটাই ভয়ংকর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারকাতের ‘বাংলাদেশে কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারের রাজনৈতিক অর্থনীতি’ শীর্ষক এক গবেষণায় সেই ভীতিপ্রদ গল্পটাই বলেছেন। তিনি বলেছেন যে ১৯৬৪ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৫ দশকে মোট ১ কোটি ১৩ লাখ হিন্দু ধর্মাবলম্বি মানুষ বাংলাদেশ ত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৬১২ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বি মানুষ নিরুদ্দিষ্ট বা দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। আর প্রতিদিন দেশ ছেড়েছেন গড়ে ৬৩২ জন হিন্দু। তিনি আরো বলেছেন যে এই প্রক্রিয়ার প্রবণতা বজায় থাকলে আগামী দু’তিন দশক পরে এদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বি কোনো মানুষ আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।
বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬.৪৭ কোটি। তার মধ্যে হিন্দুর সংখ্যা ৮%। অর্থাৎ দেড় কোটির নিচে। ১৯৪৭ সালে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান অর্থাৎ এখনকার বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ৪.২০ কোটি। হিন্দুর সংখ্যা ছিল ২৮% অর্থাৎ ১.২০ কোটি। দেশভাগের আগে ১৯৪১ সালের সেনসাস অনুযায়ী বাংলাদেশের অংশে হিন্দুদের সংখ্যা ছিল ১.২৪ কোটি (২৯.৬১%)। ১৯৫১ সালে সেটা হল ১ কোটি (২২.৯০%)। অর্থাৎ স্বাধীনতার অভিঘাতে বাংলাদেশে হিন্দুর সংখ্যা কমেছিল মাত্র ২৪ লাখ। (১৯৪১ এর গণনাকৃত হিন্দু জনগোষ্ঠীর ১২.৭০%)।

এবারে আসা যাক ভারতের প্রেক্ষাপটে। ২০১৪ সালের ভোটে বিজেপির ইস্তাহারে বলা হয়েছিল ‘‘অত্যাচারিত হিন্দুদের জন্য ভারত স্বাভাবিক আশ্রয়স্থল থাকবে। আশ্রয়ের জন্য তারা এ দেশে আসতে চাইলে স্বাগত।’’ বিজেপির জাতীয়তাবাদ ধর্মভিত্তিক। বিজেপির রাষ্ট্রে ঠাঁই পেতে হলে ‘ঠিক সংস্কৃতি’র হতে হবে। অর্থাৎ, হিন্দু হতে হবে। ২০১৪-র নির্বাচনের সময়ে এক সাংবাদিক মোদীকে প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশে প্রায় দেড় কোটি হিন্দু বাসিন্দাকে কি আপনারা ভারতে চলে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন? মোদী প্রশ্নের সোজা জবাব দেননি। তিনি বলেছিলেন যে হিন্দু কোনো ধর্মই নয়, হিন্দু এক জীবনশৈলী। গত পাঁচ বছরে দু’একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও কোন বড় মাপের ধর্মীয় দাঙ্গা হয়নি।  অথচ অর্থনীতিবিদ অনির্বাণ মিত্র এবং দেবরাজ রায়ের একটি সাম্প্রতিক প্রবন্ধ (‘ইমপ্লিকেশনস অব অ্যান ইকনমিক থিয়োরি অব কনফ্লিক্টঃ হিন্দু-মুসলিম ভায়োলেন্স ইন ইন্ডিয়া, প্রকাশিতব্য, জার্নাল অব পলিটিকাল ইকনমি) থেকে জানতে পারছি, ১৯৮৪-৯৮— এই চৌদ্দো বছরে সারা ভারতে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার বলি হন ১৫২২৪ জন।

বর্তমান ভারতের জনসংখ্যা ১৩৩.৯২ কোটি। তার মধ্যে মুসলমানদের সংখ্যা ১৪.২% অর্থাৎ ১৭.২০ কোটি। ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের পরে তৃতীয় মুসলিম নাগরিকদের দেশ। ১৯৪৭ সালে বর্তমান ভারতের জনসংখ্যা ছিল ৩৩ কোটি মত। তার মধ্যে ১৩.৩৮% অর্থাৎ ৪.৪৫ কোটি মুসলমান ছিলেন। দেশভাগের আগে ১৯৪১ সালের সেনসাস অনুযায়ী বর্তমান ভারতের অংশে মুসলমানদের সংখ্যা ছিল ৪.২৪ কোটি। ১৯৫১ সালে সেটা হল ৩.৫৪ কোটি। অর্থাৎ ভারতে মুসলমানের সংখ্যা কমেছিল ৭০ লাখ। কিন্তু তারপর থেকে তাদের বৃদ্ধির হার প্রায় ৩০% প্রতি বছরে। তুলনায় হিন্দুদের বৃদ্ধির হার ২০% এর নিচে।

এই তথ্যগুলি থেকে কতগুলি পরিস্কার চিত্র ফুটে ওঠে চোখের সামনে। সেগুলি হলো – ১) দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দেশ বিভক্ত হলেও তার শতভাগ প্রয়োগ অতি দ্রুত সফল ভাবে করেছিল পাকিস্তান। তারা ৮৬% হিন্দুকে দেশত্যাগে বাধ্য করল।

২) দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দেশ বিভক্ত হলেও ক্রমে এর অসারতা বুঝলেও সাবেক পূর্ব-পাকিস্তান তথা বাংলাদেশ হিন্দুদের ওপর দমনমূলক ব্যবহারের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাংলাদেশকে ক্রমাগত হিন্দু শুন্যতার দিকে নিয়ে চলেছে। ( সূত্রঃ ‘৩০ বছর পর বাংলাদেশ ‘হিন্দু’ শূন্য হবে’ - অধ্যাপক আবুল বারাকাত)

৩) দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দেশ বিভক্ত হলেও ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম অংশ থেকে হিন্দুদের তুলনায় অনেক কম সংখ্যক মুসলমান (শতাংশের হিসেবে) তাৎক্ষনিক অভিঘাতে দুই পাকিস্তানে গেলেও পরবর্তী সময়ে ভারত থেকে পাকিস্তান বা বাংলাদেশে মুসলমানদের পরিযান ঘটেনি। তারা ভারতে সুরক্ষিত ও ভারতীয় জাতিসত্তার অন্যতম অঙ্গ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।

এতক্ষণে নিশ্চয়ই দ্বিজাতিতত্ত্বের অসারতা ও হিন্দুত্ববাদের স্বরূপ বোঝা গেছে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ভারত তাদের সর্বংসহা অবস্থান থেকে অনেক সরে এসেছে। দিনের পর দিন ভারতের বুকে বসে ভারতের দাড়ি ওপড়ানো মোদি যে মেনে নেবেন না তা সাম্প্রতিক পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সার্জিকাল স্ট্রাইক তার প্রমাণ। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীরা জনগণের যে বিরাগভাজন হয়েছে তা আজ ভোটের ফলেই প্রমাণিত। সেই কারণে পাকিস্তান এখন বেশ দমে আছে। তারা বেশ বুঝেছে যে ইট মারলে বোমা মারতে দ্বিধা করবেন না নরেন্দ্র মোদি। ইমরান খান সম্প্রতি বলেছেন ‘নরেন্দ্র মোদী নির্বাচনের আগে জনপ্রিয়তা পাবার জন্যই পাকিস্তানে বিমান হামলা চালিয়েছিলেন।‘

একইসঙ্গে তিনি আরো বলেছেন ‘দুটি দেশেরই সরকারের প্রধান কাজ দারিদ্র্য কমিয়ে আনা, যার পথ হলো সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি। আর বিরোধ একটাই- তা হলো কাশ্মীর। কাশ্মীর ইস্যু নিষ্পত্তি করতেই হবে এবং তা যেভাবে 'টগবগ করে ফুটছে' - তা চলতে দেয়া যায় না।‘ উত্তরে মোদি বলেছেন ‘কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেখান থেকে পাকিস্তান হাত গুটিয়ে নিলেই সমস্যা থাকবে না। পাকিস্তান বরং সন্ত্রাসীদের মদত দেয়া বন্ধ করুক। তাহলেই বিরোধের অবসান ঘটবে’। কাজেই পাকিস্তান গত সত্তর বছরের মধ্যে সবচেয়ে কড়া ভারতীয় নেতৃত্বের মুখোমুখি। সেদেশের সংখ্যা গরিষ্ঠ সাধারণ মুসলমান নাগরিকদের বুঝতে ও বলতে হবে যে ইসলাম সন্ত্রাসকে সমর্থন করে না। কাজেই এই অভ্যাস বন্ধ হোক। নাহলে তাদেরই সমূহ বিপদ।

বাংলাদেশের সচেতন যে কোনো মানুষ একটা কথা অবশ্যই স্বীকার করবেন যে ভারত গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে যথেষ্ঠ সম্মান ও গুরুত্ব দিয়ে প্রায় সকল সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসেছে। বাকি শুধু তিস্তা চুক্তি। তিস্তা চুক্তি সম্পাদন খুব দ্রুত হয়ে যাবে প্রত্যাশিত। কারন মূল আপত্তিকারী পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির সম্পর্ক তলানিতে এবং মমতার দল নির্বাচনে পর্যুদস্ত। জনাদেশ মোদির পক্ষে। কাজেই মমতা আর গুরুত্ব পাবেন বলে মনে হয় না। কাজেই শেখ হাসিনা ও তার দল যতদিন ক্ষমতায় আছেন ততদিন ভারতের ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’ হিসেবে থেকে যাবে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপরে নিপীড়ন অতি অবশ্যই ভারত সরকারের ওপরে আভ্যন্তরীন চাপ বাড়াবে। সেক্ষেত্রে ভারত সরকারের পক্ষে খুব বেশিদিন অন্য দেশের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার বলে চোখ বুঁজে থাকা চলবে না। একটা কথা মনে রাখা প্রয়োজন যে বর্তমান সরকারের দলের বড় ভোটব্যাঙ্ক হল বাংলাদেশ থেকে উৎখাত হওয়া হিন্দু সম্প্রদায়।

সব শেষে আসি ভারতের মুসলমানদের প্রসঙ্গে। তাদের গত পাঁচ বছরে একটি কথা ক্ষমতাসীন দল বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে হিন্দুত্ববাদ মানে মুসলিম বিদ্বেষ নয়। তার হিন্দুত্বের সঙ্গে জাতীয়তাবাদ সুক্ষ সহজ প্রচারে মিলিয়ে দিতে পেরেছেন। তারা বারেবারে বলেছেন যে মুসলিম তোষণ যেমন তারা করবেন না, একইভাবে তারা মুসলমানদের শিক্ষা ও অন্যন্য পিছিয়ে পড়া ক্ষেত্রে এগিয়ে আসার জন্যে সাহায্য করবেন। ভালো প্রতিশ্রুতি তো সবাই দেয়। কিন্তু যে ব্যাপারটা লক্ষ্যণীয় তা হলো- ভারতের মুসলমানরা এবারে বিজেপিকে বিশ্বাস করেছে। নাহলে এই তুঙ্গস্পর্শী সাফল্য বিজেপির পক্ষে আসত না। কাজেই এককথায় বলা যায় সময়কে যদি এই মুহূর্তে সঠিকভাবে বাংলাদেশ ব্যবহার করতে পারে তাহলে তারা দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়াতে শ্রেষ্ঠত্বের আসন সহজে নিতে পারবে। কারন তাদের স্বাধীনতার পরে ভারতের এতটা কাছাকাছি এতটা সম্মান আদায় করে তারা আসেনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর