.ঢাকা, শনিবার   ২০ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৭ ১৪২৬,   ১৪ শা'বান ১৪৪০

ভারতে দুধের চেয়ে গোমূত্রের চাহিদা বেশি

আয়েশা পারভীন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০২:১৬ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

হিন্দুরা গরুকে নিজেদের দেবতা মনে করে। যুগ যুগ ধরে তারা গরুকে তাদের ভগবান মনে করে পূজা করে আসছে। তাই গরুর রক্ষণাবেক্ষণ ও তাদের দেখভাল হিন্দুদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া তারা বিভিন্ন রোগের নিরাময়ের জন্য গরুর মূত্র পান করে। এতে তারা মনে করে, মূত্র পান করলে ভগবান খুশি হয়ে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে তারা।

যাইহোক, আসল কথায় আসি, ভারতের কলকাতায় এই মুত্র নিয়ে প্রতিনিয়ত চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেই চলেছে। বেশ কিছু দিন ধরে গরুর দুধের দামের থেকে গরুর মূত্রের দাম বেশি দামে সেখানে বিক্রি হচ্ছে! শুনতে অদ্ভুত করার মত লাগলেও বাস্তবে এমনটি ঘটে চলেছে ভারতে। জানা গেছে, গত তিন চার বছরে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে গো-মূত্রের চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে, যা ব্যাপকভাবে মানুষের চাহিদার তুলনায় সাড়া ফেলেছে।

দেশটির ব্যবসায়ী মহল জানায়, গুজরাট, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যের পথ অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গ তথা কলকাতায় গত তিন-চার বছরে তুঙ্গে উঠেছে গো-মূত্রের বিক্রি। কলকাতা শহরে গো-মূত্রের চাহিদা বাড়ায় অন্য রাজ্যের গোশালা থেকে গো-মূত্র এনে ব্যবসা করছেন একাধিক এজেন্ট।

এসব এজেন্টদের মধ্যে অন্যতম ললিত আগরওয়াল নামে একজন জানান, গত কয়েক বছরে এখানে গোমূত্রের চাহিদা পাঁচ গুণ বেড়েছে। মাসে প্রায় ১০ হাজার লিটার গোমূত্র বিক্রি হয় পশ্চিমবঙ্গে। এ রাজ্যে তেমন উৎপাদন নেই। তাই আমরা নাগপুর থেকে এসব ভোগ্যপণ্য আনিয়ে দিই।

তিনি আরো জানান, এক লিটার গোমূত্রের দাম ৪১০ টাকা। আর ওখান থেকে আনা দুধ আমরা বিক্রি করি ১৭৬ টাকা লিটারে। বর্তমানে কলকাতায় গরুর দুধ লিটার প্রতি ৪১-৫১ টাকার মধ্যে মেলে। তার প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গোমূত্র।

ভারতের নাগপুরের অন্যতম একটি ‘গো বিজ্ঞান অনুসন্ধান কেন্দ্র’ যেখান থেকে বিভিন্ন এজেন্ট কলকাতায় গোমূত্র ও দুধ আনান, সেটি আরএসএস পোষিত সংস্থা নামে পরিচিত। পুরো ভারতে তাদের ৫০০-র বেশি গোশালা রয়েছে।

সংস্থাটির চিফ কোঅর্ডিনেটর সুনীল মানসিংহের দাবি, পশ্চিমবঙ্গেও আমরা ১৬টি জায়গায় গোশালা শুরু করেছেন তারা। সেখান থেকেও কিছুদিনের মধ্যে ডিস্টিল্ড গোমূত্র মিলবে। এছাড়া ক্যালকাটা পিঁজরাপোল সোসাইটি নামে একটি সংস্থার পাঁচটি গোশালা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। সেখানকার কো-অর্ডিনেটর সর্বেশ্বর শর্মা বলেন, প্রতি বছর ২০-২৫ শতাংশ হারে গোমূত্রের বিক্রি বাড়ছে। কলকাতায় মাসে প্রায় ৩ হাজার লিটার গোমূত্র বিক্রি হয়।

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইনদওরে গোমূত্র থেরাপি ক্লিনিক চালাচ্ছেন এমন একজন ব্যবসায়ী বীরেন্দ্র জৈন। তিনি সংবাদমাধ্যমে জানান, কলকাতাতেও আমাদের অনেক রোগী আছে। অনেক নেতারা ওষুধ নিয়ে যান। মেডিকেটেড গোমূত্র ২১৩ টাকা করে লিটার বিক্রি করি। মাসে আড়াই থেকে তিন হাজার লিটার বিক্রি হয়।

দেশটির ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে ফার্মাকোলজির শিক্ষক স্বপন জানান, পুরো ব্যাপারটি ভণ্ডামি। গাছগাছালি থেকে রাসায়নিক বের করে ওষুধ হতে পারে। তার ফার্মাকো কাইনেটিক্স ও ডায়নামিক্স রয়েছে। গোমূত্রের এমন কিছুই নেই। 

সূত্র: আনন্দবাজার

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ