ভারতে ডাক্তাররা একজোট, প্রশাসনের সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধ
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=112072 LIMIT 1

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৩ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ৩০ ১৪২৭,   ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

ভারতে ডাক্তাররা একজোট, প্রশাসনের সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধ

 প্রকাশিত: ১৬:৪৬ ১৫ জুন ২০১৯  

অমিত গোস্বামী
পরিচিতি ও কাব্যচর্চা দুই বাংলায়। মূলতঃ কবি হলেও উপন্যাস, প্রবন্ধ ও বিশ্লেষণধর্মী লেখায়ও পাঠকমহলে জনপ্রিয়। জন্ম, বাস, বেড়ে ওঠা সবই কলকাতায়। কর্পোরেটের চাকরি ছেড়ে সাহিত্যজগতে আত্মপ্রকাশ বেশ দেরিতেই। কিন্তু অগ্রগমন দ্রুত। এরইমধ্যে ১০ টি গদ্য ও উপন্যাস এবং ৪ টি কবিতা সংকলন প্রকাশিত তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আলতাফ, হুমায়ূন ও বঙ্গবন্ধুর কলকাতার জীবন অবলম্বনে লেখা উপন্যাস ‘মহানির্মাণ’।

ভারতে চিকিৎসক মহল সম্ভবত এই প্রথম দলমত জাতিধর্ম নির্বিশেষে এক ছাতার নীচে দাঁড়িয়েছে। যা ইতিহাসে কখনো ঘটেনি। এতদিন দস্তুর ছিল চিকিৎসকরা সেবা দেবেন আর পাবলিক সুযোগ পেলেই তাদের হাতের সুখ করে নেবে তাদের উত্তম-মধ্যম দিয়ে। তথ্য এই যে গত ১৮ মাসে পশ্চিমবঙ্গে ডাক্তার নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ২৩০ টি (সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা)। 

এতদিন ডাক্তার নিগ্রহ নিয়ে প্রতিবাদ উঠত। কিন্তু নৈতিকতার দোহাই দিয়ে তাদের ওপরে যে সামাজিক চাপ আসত তাতে তারা বড় কোনো প্রতিবাদে সামিল হতে পারেনি। তাই ক্ষোভ থেকেই গেছে। কিন্তু গত ১০ জুন কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের ঘটনা তাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিল। ৮৫ বছরের এক বৃদ্ধের মৃত্যুতে তার পরিবার যার বড় ছেলে আবার স্থানীয় মসজিদের বড় ইমাম চিকিৎসারত জুনিয়র ডাক্তারদের বিস্তর গালাগালি ধাক্কাধাক্কি করে লিখিয়ে নিল কী কী ওষুধ ইনজেকশন রোগীকে দেওয়া হয়েছিল। কারন- তাদের মতে ইনজেকশন দেওয়ার পরেই রোগীর মৃত্যু ঘটে। অথচ সেই জুনিয়র ডাক্তার রোগীর আত্মীয়দের ইনজেকশন দেয়ার আগেই জানিয়েছিল যে এটা তার শেষ প্রচেষ্টা। রোগীর মৃত্যুর পরে রোগীর উপস্থিত আত্মীয়স্বজনের দুর্ব্যবহারে ক্ষুব্ধ জুনিয়র ডাক্তাররা সাফ জানিয়ে দিল যে যতক্ষন নির্দিষ্ট দুর্ব্যবহারকারী তিনজন ক্ষমা না চাইবে তারা ডেথ সার্টিফিকেট লিখবেন না। মৃতদেহ আটকে গেল। পুলিশ নীরব দর্শক। স্বাভাবিক। যে পুলিশের সর্বোচ্চ পদাধিকারীরা দুর্নীতির দায়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দলের জিজ্ঞাসাবাদ ঠেকাতে মুখ্যমন্ত্রীর শরণাপন্ন এবং মুখ্যমন্ত্রী সে কারনে ধর্ণায় বসে পড়েন, সেই পুলিশের অধস্তনেরা ঝামেলায় যাবে কেন! এরপরের ঘটনা ভয়াবহ। ইমাম সাহেবের প্রতি সহানুভুতিসম্পন্ন দুটি ট্রাক বোঝাই প্রায় দেড়শ সশস্ত্র লোকজন এসে বিস্তর মারপিট করে জোর করে ডেথ সার্টিফিকেট লিখিয়ে মৃতদেহ নিয়ে চলে গেল। 

পেছনে ফেলে গেল অসংখ্য আহত জুনিয়র ডাক্তারদের, তাদের মধ্যে ডাক্তার যশ টেকওয়ানির অবস্থা গুরুতর এবং ডাক্তার পরিবহ মুখোপাধ্যায় মৃত্যুমুখে। পরিবহ’র খুলি ভেঙে ভিতরের দিকে ঢুকে গেছে। হাওড়ার ডোমজুড়ের ষষ্ঠীতলার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষকের সন্তান পরিবহ’র বড় হয়ে চিকিৎসক হওয়াই ছিল লক্ষ্য। মেধাবী ছাত্র পরিবহ ডাক্তার হয়েওছেন। কিন্তু রোগীর পরিজনের হাতে মার খেয়ে, ফ্র্যাকচার হওয়া খুলি নিয়ে মঙ্গলবার দিনভর মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে হবে ভাবেন নি। স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায় জুনিয়র ডাক্তাররা অবস্থান ধর্মঘটে বসেছেন এমার্জেন্সি ও ইন্ডোর চিকিৎসা চালু রেখে। আউটোডোর বন্ধ। তাদের দাবি মুখ্যমন্ত্রীকে এসে তাদের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী কী করলেন? তার বশংবদ পুলিশ কমিশনার ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীকে পাঠালেন যাদের পাবলিক ইমেজ বেশ বিরূপ। মুখ্যমন্ত্রী বললেন তিনি ফোনে কথা বলবেন। তিনি আসবেন না। ব্যস, আগুনে ঘৃতাহুতি পড়ল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বুঝলেন না যে সাধারণ ঘর থেকে আসা কিছু অল্পবয়সি ছেলেমেয়ে যাদের লরিবোঝাই গুন্ডার সাথে লড়ে যাওয়ার সামর্থ্য নেই তারা ভয় পেয়েছে, অসহায় বোধ করছে। হাসপাতালে কর্মবিরতির ডাক দেওয়া অনৈতিক স্বীকার করেও বলতে হয় আগে নীতি না আগে নিরাপত্তা ? মুখ্যমন্ত্রী বুঝলেন না যে তার সাঙ্গপাঙ্গদের ওপরে কতটা অবিশ্বাস জন্মালে জুনিয়র ডাক্তাররা এমন দাবি করতে পারেন। তিনি তা না করে গেলেন পাঁচতারা হোটেলের উদ্বোধনে ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। ফল কী হলো?

আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ল পুরো চিকিৎসক সমাজে। এখন অবধি ৯০০’র বেশি সরকারি চাকুরে চিকিৎসক পশ্চিমবঙ্গে ইস্তফাপত্র দাখিল করেছেন মুখ্যমন্ত্রীর আচরণের প্রতিবাদে ও সুস্থ কাজের পরিবেশের দাবীতে। আন্দোলন আজ আর পশ্চিমবঙ্গে নেই। গত বৃহস্পতিবার দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এর চিকিৎসকরা হেলমেট পরে এবং মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদ করেছিলেন। আর শুক্রবার এইমস-এর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেয়। কার্যত অবরুদ্ধ গোটা হাসপাতাল। আউটডোর, জরুরি পরিষেবা থেকে সমস্ত বিভাগে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। হাসপাতালের গেটের বাইরে প্রচুর মানুষ ভিড় জমালেও কেউ পরিষেবা পাননি। এ দিন হাসপাতালের রেসিডেন্ট ডক্টর‌্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে যন্তরমন্তরে একটি মিছিলও বের করা হয়।

এ দিনের মিছিলেও চিকিৎসকদের মাথায় ছিল প্রতীকী ব্যান্ডেজ। শুক্রবারের কর্মবিরতিতে কার্যত সামিল হয়েছে গোটা দেশ। উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, মহারাষ্ট্র, কেরল, পঞ্জাব, বিহার, অসম-সহ সব রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকরা নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। কোথাও কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন হয়েছে। কোথাও বা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ মিছিল করেছেন চিকিৎসকরা। ফলে এই সব হাসপাতালে আউটডোর এবং জরুরি পরিষেবা কার্যত বন্ধ। সব মিলিয়ে এনআরএস আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশেই। দিল্লির পাশাপাশি আন্দোলন ছড়িয়েছে মহারাষ্ট্রেও। মহারাষ্ট্র অ্যাসোসিয়েশন অব রেসিডেন্ট ডক্টরস এক দিনের কর্মবিরতি পালন করছে। উত্তরপ্রদেশের বড় মেডিক্যাল কলেজ তথা হাসপাতালগুলির মধ্যে অন্যতম বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটির অধীন ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল সায়েন্সেস (আইএমএস)। এনআরএস-এর আন্দোলনে সমর্থন জানাতে এই মেডিক্যাল কলেজেও পরিষেবা বন্ধ করে কর্মবিরতিতে সামিল হয়েছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে প্রায় সব পরিষেবা। কলকাতার আন্দোলনের রেশ ছড়িয়েছে দক্ষিণের দুই রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলঙ্গানাতেও। অন্ধ্র মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়া এবং চিকিৎসকরাও এনআরএসের আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এর মধ্যেই ১৭ জুন সোমবার সারা দেশের হাসপাতালগুলিতে ধর্মঘটের ডাক দিল ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ)। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, জরুরি ও রুটিন পরিষেবা চালু থাকবে। তবে আউটডোর এবং অন্যান্য পরিষেবা বন্ধ থাকবে। ফলে সোমবার সারা দেশেই চিকিৎসা পরিষেবায় ব্যাপক প্রভাব পড়তে চলেছে।

মুখ্যমন্ত্রী আজকাল নিজের ছায়াতেও বিজেপি’র ভূত দেখেন। কিছু হলেই বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাস্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের চক্রান্ত। সে ই ভি এম মেশিন নিয়ে কথা বলার সময়ই হোক বা বিদ্যাসাগরের মুর্তি ভাঙা প্রসঙ্গেই হোক বা ডাক্তারদের আন্দোলন প্রসঙ্গেই হোক। ফস করে বলে দিয়েছেন ‘বহিরাগত’রা এই আন্দোলনে মদত দিচ্ছে। আগে এই ‘বহিরাগত’র তকমা লাগানোর সময় ভূত ছাড়াতে পাশে রাম-লক্ষণরা থাকতেন। আজ? মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায় (ভাই গণেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে) কেপিসি মেডিক্যাল কলেজের চিকিত্সক বৃহস্পতিবার আন্দোলনরত চিকিত্সকদের পাশে দাঁড়াতে অন্যান্য চিকিত্সকদের নিয়ে কেপিসি মেডিক্যাল কলেজ থেকে এনআরএস মেডিক্যাল কলেজে যান তিনি। জুনিয়র চিকিত্সকদের বিক্ষোভেও সামিল হতে দেখা যায় তাঁকে।  জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে সরব হয়েছেন ডাক্তার শাব্বা হাকিম (মন্ত্রীসভায় দু’নম্বর ফিরহাদ হাকিমের কন্যা)। যার একটি পোস্ট ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ওই পোস্টে সাব্বা হাকিম প্রশ্ন তুলেছেন– “দয়া করে জিজ্ঞেস করুন, যখন ২টি ট্রাকে করে গুন্ডারা এল, কেন সঙ্গে সঙ্গে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হল না? কেন হাসপাতাল চত্বরে এখনও গুন্ডারা ঘুরে বেড়াচ্ছে? শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে আমাদের। নিরাপদে কাজ করার অধিকার রয়েছে আমাদের। একজন তৃণমূল সমর্থক হিসেবে আমাদের নেতৃত্বের নীরবতা দেখে আমি খুবই লজ্জিত’। বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্টই বলেছেন, তিনি এনআরএসের সঙ্গে আছেন, রাজনীতি গোল্লায় যাক! আচ্ছা মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলুন তো এরা ‘বহিরাগত’ না বিজেপি ? অথচ বিজেপি প্রশাসনিক ব্যর্থতার জন্যে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চাওয়া ছাড়া গত কয়েকদিনে এই ব্যাপারে আদৌ কোন উস্কানি কোথাও দেয় নি। জনগন সবই দেখছে। তাহলে কেন এই আত্মঘাতী দোষারোপ?

রোগী দেখা বন্ধ করা একটা আবেগের বশে নেওয়া সাময়িক সিদ্ধান্ত। এটা দীর্ঘ কাল চলতে পারে না। শিক্ষা, আদর্শ, নীতি, চেতনা দীর্ঘ দিন ধরে এ কাজটা ডাক্তারদের করতে দেবে না।  আর জনগণ? এ আন্দোলন তাদের উপর কী ভয়ানক প্রভাব ফেলবে। ভেলোর, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়, কিন্তু রোগীরা সুশৃঙ্খল, হাসপাতাল চত্বরে  পুলিশ নেই, এমনকি হাসপাতালের সিকিয়োরিটি গার্ডদের হাতে সামান্য লাঠি পর্যন্ত নেই। রোগীরা ডাক্তারদের সম্মান করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, বাংলার সংস্কৃতি— ডাক্তারদের এখানে বহু বছর ধরে নানা অছিলায় পেটানো হয় এবং যারা পেটায় তারা রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকায় শাস্তি হয় না। তাই আজকাল এই রাজ্যের বহু মেধাবী ছাত্র আর ডাক্তারি পড়তে চান না, হয় অন্য স্ট্রিম বেছে নেন, বা অন্য রাজ্যে ডাক্তারি পড়তে যান। কিন্তু এই অচলাবস্থা কাটানোর উপায় কী ? কারন সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের শাসন ব্যবস্থার যা দুর্ণাম হওয়ার তো হয়েছেই। বিদেশের বিভিন্ন ডাক্তারদের সংস্থা ক্রমাগত বিভিন্ন সংবাদ সংস্থাদের কাছে এই আন্দোলনের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে চিঠি পাঠাচ্ছেন। লজ্জায় বাংলা সংবাদপত্রগুলি তা প্রকাশ করছে না ঠিকই। কিন্তু লজ্জায় তারা অধোবদন হচ্ছে।

গতকাল মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন যে তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন পাড়ার ‘বখাটে’ ছেলেদের। যারা মন দিয়ে তৃণমূল করবে এবং তিনিও সরকারের নানা কাজে সুযোগ মতো সেই ছেলেদের জায়গা করে দেবেন। ঠিকই বলেছেন। এই বখাটে ছেলেদের তোল্লা দিতে যে তার জুড়ি নেই তা কে না জানেন। তাই বাংলা জুড়ে চপ শিল্পের সাথে সিন্ডিকেট রাজ ও তোলা শিল্প এমন পর্যায়ে গেছে যে জনৈক তৃণমূল জেলা সভাপতি নিজদলকে তোলামূল বলতেও ছাড়ে নি। কিন্তু এই ডাক্তার পেটানো এই বাংলায় যতবার হয়েছে তার তদন্ত করলে দেখা যাবে যে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর চেলাচামুন্ডারা এই ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ। তখন বিরোধী বর্তমানের মুখ্যমন্ত্রী উস্কানি দিয়ে বিধানসভায় ভাঙচু্র করিয়েছিলেন তার ভিডিও তো নেটে সহজলভ্য। কিন্তু আমি ২০০৩ সালে সল্টলেকের এক হাসপাতালে বর্তমান জনৈক দাপুটে মন্ত্রীকে দেখেছিলাম তার ভাইঝি’র স্বাভাবিক মৃত্যুতে চুড়ান্ত ভাঙচুর চালাতে। সেই হাসপাতালের মালিক ছিলেন বাম ঘনিষ্ঠ। আমার স্পষ্ট মনে আছে এই মুখ্যমন্ত্রী পরদিন সংবাদপত্রে বিবৃতি দিয়েছিলেন যে হাসপাতালের গাফিলতি ছিল কিনা তা তদন্ত সাপেক্ষ কিন্তু আত্মীয়দের সেটা তাৎক্ষণিক আবেগের বহিঃপ্রকাশ। নাহ। বাম সরকার কিছু করেন নি। ক্ষোভে দুঃখে সেই মালিক তার সাধের হাসপাতাল বিক্রি করে দিয়েছেন এক নামী করপোরেটকে।

কাজেই কী হবে এই আন্দোলনের সেটা খুব বড় ইস্যু নয়। ডাক্তাররা কোন সম্মানজনক সূত্র পেলেই কাজে ফিরে যাবেন। কিন্তু ডাক্তার পেটানোর প্রবনতা কমবে কি? কমতে পারে যদি আইনের প্রয়োগ কড়া হয়। চিকিৎসক নিগ্রহের ব্যাপারে সবচেয়ে কড়া আইন ২০০৯ সালের যে মেডিকেয়ার অ্যাক্ট, তাতেও দোষী ব্যক্তির পাঁচ বছরের বেশি কারাদণ্ডের সংস্থান নেই। তার প্রয়োগ অনেক দূরতর ব্যাপার। আমরা তো ভারতে কখনও দেখি না আধা সামরিক এলাকায় ঢুকে কোন মানুষ হাঙ্গামা করার সাহস পায়। কাজেই মুখ্যমন্ত্রী যখন শৃংখলারক্ষা বা আইনের প্রয়োগ করতে পারছেন না বা ভুল প্রয়োগ করছেন তখন জনস্বার্থে তার কি উচিৎ নয় এই দায়িত্ব অন্য কারোর হাতে ছাড়া। যোগ্য মানুষ তো তার হাতের মুঠোয়। তার মন্ত্রীসভায় দেশের প্রাচীনতম সফল প্রাক্তন পুলিশ মন্ত্রী আছেন যে প্রশাসনে সব চেয়ে সফল। দায়িত্ব তাকে দিয়ে তিনি কিছুদিন ছবি আঁকুন, কবিতা লিখুন, গপ্পো ফাঁদুন। তাতে দল রক্ষা পায়, দেশ রক্ষা পায় আর রক্ষা পায় আম-পাবলিক।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর