Alexa ভারতের নাগরিকত্ব বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি

ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ১০ ১৪২৬,   ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

ভারতের নাগরিকত্ব বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৪:০৩ ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৪:০৪ ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যে বিতর্কিত নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল (সিএবি), ২০১৯-এ সম্মতি দিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। পার্লামেন্টের দুই কক্ষের অনুমোদনের পর বৃহস্পতিবার রাতে ওই বিলে সম্মতি দেন তিনি। এর মাধ্যমে আইনে পরিণত হয়েছে বিলটি। 

ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে আইনটি কার্যকর হয়েছে।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে নিপীড়নের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দিতে বিলটি পার্লামেন্টে উত্থাপন করে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। গত সোমবার মধ্যরাতে ৩১১-৮০ ভোটে লোকসভার অনুমোদন পায় বিতর্কিত এই বিলটি। পরে বুধবার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভারও অনুমোদন পায়। বিরোধীদলগুলো বিলটিকে ‘মুসলিমবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ করলেও দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভিন্ন দাবিতে উত্তাল। আসাম-ত্রিপুরা, মেঘালয়ে শরণার্থীদের অবৈধ অভিবাসীর স্বীকৃতি বাতিল ও এই অঞ্চলকে সিএবি আওতামুক্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ করছে তারা।

রাষ্ট্রপতির সম্মতি দেয়া আইন অনুযায়ী ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিষ্টান ধর্মালম্বীদের অবৈধ শরণার্থী হিসেবে গণ্য করা হবে না। তাদের ভারতের নাগরিকত্ব দেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার বলছে, এই আইনের মাধ্যমে প্রতিবেশি দেশগুলোতে নিপীড়নের শিকার হওয়া মানুষদের রক্ষা করা হবে। তবে বিরোধী দলগুলোর দাবি, মুসলমানদের রক্ষার প্রস্তাব না দেয়ার মধ্য দিয়ে এই আইনটি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানকে হেয় করেছে।

এদিকে পার্লামেন্টে বিলটি উত্থাপনের পর থেকে বিক্ষোভে অশান্ত হয়ে রয়েছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কয়েকটি রাজ্য। বৃহস্পতিবার আসামে বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি ভবনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। কারফিউ উপেক্ষা করে কয়েকটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। পুলিশের গুলিতে রাজ্যটিতে নিহত হয়েছে তিন বিক্ষোভকারী। এছাড়া পাশের রাজ্য মেঘালয়েও দুই দিন ধরে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট ও এসএমএস সেবা। 

বিজেপি সরকার বলছে, নতুন নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের মাধ্যমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি তেরি করা হবে। ফলে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা, প্রতিবেশি তিন দেশ থেকে যাওয়া শরণার্থী নন। তবে আইনে বর্ণিত অন্য ধর্মাবলম্বী শরণার্থীরা নাগরিকত্ব পাবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএ