Alexa ভাপা ও চিতই পিঠা বিক্রির হিড়িক

ঢাকা, বুধবার   ১৭ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৩ ১৪২৬,   ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪০

ভাপা ও চিতই পিঠা বিক্রির হিড়িক

মাগুরা প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১১:৫৪ ১০ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৪:১৪ ১০ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পৌষের শীতে শহরের বিভিন্ন ফুটপাত ও অলিতে-গলিতে জমে উঠেছে ভাপা ও চিতই পিঠা বিক্রির হিড়িক। বিকাল থেকেই ভাপাপিঠা বিক্রির দোকান গুলোতে পিঠার সাধ নিতে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সের নানা শ্রেণি ও পেশার মানুষ।

সরেজমিনে মাগুরা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে নোমানী ময়দান, হাসপাতালের সামনে বিভিন্ন অলিতে-গলিতে, ফুটপাতে ও মোড়ে মোড়ে চলছে ভাপাপিঠা বিক্রির হিড়িক। ভাপাপিঠার পাশাপাশি বিক্রি করছে চিতই পিঠাও। বিশেষ করে সন্ধ্যার পরেই জমে ওঠে এসব পিঠা বিক্রি। বেশিরভাগ দোকানে পিঠা বিক্রি করছেন নিম্নবৃত্ত পরিবারের পুরষ ও মহিলারা।

পিঠা বিক্রেতা বদরুল হোসেন বলেন, নতুন চালের গুড়া ও খেজুরের গুড় দিয়ে খুব যত্ন সহকারে তৈরি করা হয় ক্রেতাদের জন্য ভাপা পিঠা। ভাপা পিঠা ছাড়াও ক্রেতাদের জন্য চিতই পিঠা তৈরি করা হয়। প্রতি পিস ভাপা পিঠা ১০ টাকা ও প্রতি পিস চিতই পিঠা ৫ টাকা দরে বিক্রি করেন।

তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন ৩০-৩৫ কেজি চালের গুড়া পিঠা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। ২০ বছর যাবৎ তিনি এ পিঠার ব্যবসা করেন।

অপর ব্যবসায়ী বাহাদুর মিয়া বলেন, প্রতিদিন ১৫-২০ কেজি চালের গুড়ার পিঠা বিক্রি করেন। এতে তিনি প্রতিদিন দুই হাজার থেকে দুই হাজার পাঁচশত টাকার পিঠা বিক্রি করেন।

পারনান্দুয়ালীর পিঠা ব্যবসায়ী মর্জিনা খাতুন ও রুহল আমিন বলেন, তিনি প্রতিদিন ৮-১০ কেজি চালের গুড়ার পিঠা বিক্রি করেন। শীতের চিতই পিঠার সঙ্গে বাড়তি হিসেবে মরিচ, সরিষা ও ধুনে পাতা ভর্তা ফ্রি দেওয়া হয়।

পিঠার তৈরির বিষয় জানতে চাইলে মর্জিনা খাতুন বলেন, পিঠা তৈরিতে একটি পাতিল ও ঢাকনা ব্যবহার করা হয়। জ্বলন্ত চুলার ওপর পাতিলে পানি দিয়ে ঢাকনার মাঝখানটা ছিদ্র করে পাত্রের মুখে দিতে হয়। এসময় ঢাকনার চারপাশে আটা, চালের গুড়া ও কাপড় দিয়ে শক্ত করে মুড়ে দেওয়া হয়। যাতে করে গরম পানির ভাপ বের হতে না পারে। পরে ছোট ছোট গোল পাত্রের মধ্যে চালের গুড়া, নারিকেল ও গুড় মিশিয়ে কাপড়ের আবরণে ঢাকনার মুখে রাখা হয়। পানির গরম তাপে নিমিষেই সিদ্ধ হয়ে যায় চালের গুড়ার ভাপা পিঠা।

পারনান্দুয়ালী গ্রামের পিঠা ক্রেতা রুবেল ইসলাম বলেন, সব ধরনের ক্রেতাদের দেখা যায় এখানে এসে পিঠা খেতে। আবার কেউ কেউ বাড়ির ছেলে-মেয়েদের জন্যও পিঠা কিনে নিয়ে যায়। ব্যস্ততার কারণে বাড়িতে পিঠা খাওয়া হয়ে ওঠে না তাই এখানেই সেই সাধ নেওয়ার চেষ্টা করছি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে