Alexa ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের মর্যাদা পাচ্ছে মৎস্যজীবী লীগ

ঢাকা, বুধবার   ২৯ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ১৬ ১৪২৬,   ০৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের মর্যাদা পাচ্ছে মৎস্যজীবী লীগ

মীর সাখাওয়াত সোহেল ও জাফর আহমেদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৫৯ ২৬ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৭:৩৯ ২৭ নভেম্বর ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

আর মাত্র দুদিন বাকি। শুক্রবারে (২৯নভেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মৎস্যজীবী লীগের প্রথম জাতীয় সম্মেলন। এরই মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের মর্যাদা পাবে মৎস্যজীবী লীগ। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। 

এর আগে সংগঠনটির চারবার সম্মেলন হয়েছে তবে তা জাতীয় সম্মেলন হিসেবে ধরা হয়নি। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে না থাকলেও রাজপথের আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছিল মৎস্যজীবী লীগ।

সম্মেলন ঘিরে সংগঠনটির রাজনীতি চাঙা হয়ে উঠেছে। সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীদের ব্যানার ফেস্টুন আর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা জমে উঠেছে। তবে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের দাবি যোগ্য ও ত্যাগী ব্যক্তিরাই নেতৃত্বে আসুক। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাদের যেন নেতৃত্বে না রাখা হয়।

এরইমধ্যে জাতীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব ও সাবেক কার্যকরী সভাপতি আজগর নস্কর । 

অন্যদিকে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীরা মূল সংগঠন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন- সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ চন্দ্র, সদস্য সচিব ও সাবেক কার্যকরি সভাপতি লায়ন শেখ আজগর নস্কর, অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদ। 

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন- মৎস্যজীবী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সিদ্দিকী মামুন, গিয়াস খান, আব্দুল আলিম, ফিরোজ খান ও মো. ইউনুস।

লায়ন শেখ আজগর নস্কর ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে কখনও নীতি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি। ছাত্রলীগ করেছি, বরাবরই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অটল থেকেছি, চার দলীয় জোট সরকারের সময় জেল জুলুম সহ্য করেছি। ২০০৪ সালের ২২ মে মৎসজীবী লীগের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই সংগঠনের জন্য শ্রম দিয়ে যাচ্ছি। এক এগারোর দুঃসময়ে নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনে মৎস্যজীবী লীগের ব্যানারে রাজপথে ছিলাম। ১৯৯৬ সালে নির্বাচনী বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে নির্যাতনের ও মামলার শিকার হয়েছি। 

ঢাকা দক্ষিণের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু বলেন, এবারের সন্মেলনে আমরা ক্লিন ইমেজ নেতাদের দেখতে চাই।

সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এস এম সিদ্দিকী মামুন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন,  ২০০৪ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ প্রতিষ্ঠা লগ্ন হতে দলে যোগ দিয়ে ২০০৫ সাল থেকে সব আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছি। ১/১১ তে ঢাকা মহানগর মৎস্যজীবী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছি। আওয়ামী লীগ তার অতীত আন্দোলন সংগ্রামকে মূল্যায়ন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মামুন।

‘মাছে-ভাতে ভরবো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখেই এবারের সম্মেলনের আয়োজন করছে সংগঠনটি। সারাদেশে মৎস্যজীবী লীগের ৭৭ টি সাংগঠনিক শাখা রয়েছে। এ সম্মেলনে ১৯২৫ জন কাউন্সিলর এবং ৮৫০০জন ডেলিগেট উপস্থিত থাকবেন। সম্মেলনকে সফল করতে যে ১০ উপ- কমিটি গঠন করা হয়েছে তা হলো: শৃঙ্খলা, আপ্যায়ন, প্রচার ও প্রকাশনা, দফতর, অভ্যর্থনা, স্বাস্থ্য, গঠনতন্ত্র সংশোধন, অর্থ, মঞ্চ ও সাংস্কৃতিক উপ-কমিটি।

এর মধ্যে আওয়ামী লীগের কয়েকটি সহযোগী সংগঠনের কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে বিতর্কিত দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এমন নেতাদের বাদ দেয়া হয়েছে। তাই মাঠ পর্যায়ের নেতারা মনে করেন শেখ হাসিনা দলের ভেতর দুর্নীতিবাজদের বের করে দেয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাতে ত্যাগী নেতারাই শেষ পর্যন্ত পুরস্কৃত হবে। মৎসজীবী লীগের নেতৃত্ব বাছাইয়েও আওয়ামী লীগ ক্লিন ইমেজের অধিকারীদের গুরুত্ব দেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংগঠনটির কয়েকজন নেতা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে