Alexa ভাঙা রেলসেতুর স্লিপার আটকাতে কাঠের জোড়া

ঢাকা, বুধবার   ২২ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ৮ ১৪২৬,   ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

ভাঙা রেলসেতুর স্লিপার আটকাতে কাঠের জোড়া

আবদুল লতিফ লায়ন, বাঘা (রাজশাহী) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:২৩ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২১:০৩ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯

কাঠের গোজ দিয়ে আটকানো ভাঙা স্লিপার

কাঠের গোজ দিয়ে আটকানো ভাঙা স্লিপার

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানীতে বড়াল নদীর উপর নির্মিত রেলসেতুতে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এ সেতুর ভাঙা অংশে দেয়া হয়েছে কাঠের জোড়াতালি।

মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সেতুর ওপর রেললাইনের পশ্চিম দিকের জয়েন্ট থেকে ছয় ইঞ্চি দূরে ভাঙ্গা। সেখানে কাঠ দিয়ে স্লিপার আটকানো রয়েছে। এর উপর দিয়ে প্রতিদিন ১৩টি ট্রেন চলাচল করছে। এছাড়া স্লিপারের সঙ্গে লাইন আটকানোর জন্য প্রতিটি স্লিপারের দুই পাশে আটটি করে পিন দেয়ার কথা থাকলেও কোনোটিতে দুটি, কোনোটিতে তিনটি পিন রয়েছে। আবার কোথাও কোথাও পিন, নাট-বল্টু, ক্লিপ-হুক কিছুই নেই।

সেতুর দুই লাইনের গোড়ায় ফিসপ্লেট-স্লিপারগুলোও বহু যুগের পুরাতন। বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া স্লিপারের সঙ্গে লাইন আটকানো কিছু পিন হাত দিয়েই খুলে আনা যায়। লোহার পিনের জায়গায় ব্যবহার করা হয়েছে কাঠের গোজ, স্লিপারের মোটা পাতের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে পাতলা প্লেন সিটের পাত, স্লিপার আটকানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে কাঠের বাতা।

আড়ানী রেলসেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিদর্শন করছেন ইউএনও শাহিন রেজা

এ বিষয়ে বাঘার ইউএনও শাহিন রেজা বলেন, আড়ানী রেলসেতুতে ব্যবহৃত ২৬২টি স্লিপারের ৬০টিই ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ২০৯৮টি ক্লিপ থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ৯২৮টি। সেতুর পূর্ব দিকের তিন নম্বর পিলারের গোড়ায় কয়েক বছর আগে ফেলা পাথর-মাটি সরে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ অংশ দিয়ে ট্রেন ধীরগতিতে পার করা হচ্ছে। ভাঙা অংশ সংস্কারের বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

রাজশাহীর পিডব্লিউআই ভবেশ চন্দ্র রাজবংশী বলেন, পিন বরাদ্দ না থাকায় ঝুঁকি এড়াতে কাঠের গোজ ব্যবহার করা হয়েছে।। আর ট্রেন চলাচলের সময়ে স্লিপার যেন না নড়ে, সেজন্য কাঠের বাতা ব্যবহার করা হয়েছে। নষ্ট হওয়া কিছু স্লিপার পরিবর্তন করা হয়েছে। বাকিগুলোর জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আলফাত মো. মাসুদুর রহমান বলেন, আড়ানী রেলসেতুর বিষয়ে জানার পর তাৎক্ষণিক মেরামতের জন্য লোক পাঠানো হয়েছে। সেতুটি পুরনো হলেও এখনো অনেক মজবুত আছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর/এস