.ঢাকা, বুধবার   ২৪ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১১ ১৪২৬,   ১৮ শা'বান ১৪৪০

ভরসা কমিউনিটি ক্লিনিক

 প্রকাশিত: ১৮:০২ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৮:০২ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এক কালের রুগ্ন প্রায় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলিতে রোগীদের ভিড় বেড়েই চলেছে।  চিকিৎসা সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে মেহেরপুরের কমিউনিটি ক্লিনিক গুলি রোগীবান্ধব হয়ে উঠেছে।

‘শেখ হাসিনার অবদান, কমিউনিটি ক্লিনিক বাঁচাই প্রাণ’ এ শ্লোগান বাস্তবায়নই তাদের মূল লক্ষ্য।  প্রত্যন্ত অঞ্চলের কয়েক লাখ রোগী ক্লিনিকগুলো থেকে সেবা পাচ্ছে।  রোগীদের চিকিৎসা ও ওষুধের পাশাপাশি নানা প্রকার স্বাস্থ্য পরামর্শও দিচ্ছেন স্বাস্থ্য সহকারীরা।  চিকিৎসার ভরসাস্থল হিসাবে পরিচালিত হচ্ছে কমিউিনিটি ক্লিনিক।

স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ায় কমিউনিটি ক্লিনিকের উপর রোগীদের আস্থা ফিরতে করেছে।

মেহেরপুর সির্ভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুর সদর, মুজিবনগর ও গাংনী উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে মোট ৭২টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে।  এগুলো কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডারদের মাধ্যমে পরিচালিত।  পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করাসহ রোগীদের চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।  জ্বর, ঠান্ডা-কাশি, মাথা ব্যথা, আমাশয়, ডায়রিয়া ও অ্যাজমা-হাপানিসহ বেশ কিছু সাধারণ রোগের চিকিৎসা পাচ্ছে রোগীরা।  দেয়া হচ্ছে শিশু ও মাতৃসেবা।  ফলে রুগ্নাবস্থার সেই ক্লিনিকগুলোই এখন এলাকাবাসীর কাছে ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে।  রোগীদের ভিড়ে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রাঙ্গণ।

গরীব-দুঃখী রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সারাদেশের ন্যায় মেহেরপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্মাণ করা হয় কমিউনিটি ক্লিনিক।  কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার একমাত্র নির্ভরতার জায়গা ছিল।  পর্যাপ্ত জনবল ও ওষুধ স্বল্পতার কারণে অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছিল। বর্তমানে সমস্যা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে ক্লিনিকগুলো।

একটি এনজিও’র সহযোগিতায় মেহেরপুর সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ২৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ১০টি ক্লিনিকে এরইমধ্যে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া।  গাংনী উপজেলার ৩৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকের চিত্র আরো ভালো বলে জানিয়েছেন সেবা গ্রহীতারা।  তারা স্বাস্থ্যসেবায় মেহেরপুর ও মুজিবনগর থেকে এগিয়ে।  কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে প্যারাসিটমল, মক্সছিলিন, অ্যামক্সাছিলিন ড্রাই সিরাপ, অয়েনমেন্ট মলমসহ ২৯টি আইটেমের ওষুধ পাওয়া যায়।

গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামের আয়মন খাতুন জানান, আমাদের গ্রাম থেকে গাংনী অথবা মেহেরপুর হাসপাতালে যেতে বেশ ঝামেলা হয়। তাই গ্রামের এ ক্লিনিকে সেবা নিই। এরা বেশ যত্ন সহকারে চিকিৎসাও দেয়।

গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের খাসমহল কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি সোহেল রানা বলেন, সপ্তাহের ৬ দিন সকাল ৯ থেকে ৩ পর্যন্ত ক্লিনিক থেকে এ সেবা প্রদান করে থাকি।  বিশেষ দিনগুলোতেও গ্রামের গরীব-অসহায় মানুষদের সেবা দিয়ে থাকি।  কিন্তু বর্তমানে চাকরি জাতীয়করণ হবে কিনা এই নিয়ে বেশ চিন্তায় রয়েছি।  অনেকে চাকরি ছেড়ে অন্যত্র যাচ্ছে।  সরকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কাজের মূল্যায়নের দাবি ক্লিনিকে সেবাদানকারী সিএইসসিপিদের।

রুরাল ওয়াশ আর্সেনিক মিটিগেশন প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার কাজী মো. শোয়েব এমরান।  তিনি বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে ১০টি কমিউনিটি ক্লিনিককে বাছাই করি।  বাকীগুলোতেও আমরা একই পক্রিয়া এগিয়ে যাব। যাতে গ্রামীণ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো একদিন শহরের ক্লিনিকগুলোর সঙ্গে পাল্লা দেয়।  পাশাপাশি অপারেশনের নামে মানুষের পেট কাটার ব্যবসা বন্ধ হয়। ’

মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরাও সার্বিক তদারকি করে থাকি।  তাছাড়াও আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক এবং স্বাস্থ্য পরিদর্শক রয়েছেন যারা তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন।  তবে মুজিবনগরে দুটি কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপির বাইরে সরকারি চাকরি হওয়ায় শূন্যপদ আছে।  আমরা আগামী দুই মাসের মধ্যে ওই দুটিতে নিয়োগ প্রদান করব।’

মেহেরপুর সির্ভিল সার্জন জিকেএম সামসুজামান বলেন, বর্তমানে কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবার মান আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।  বর্তমানে গ্রামীণ গরিব অসহায় মানুষের সেবা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।

ডিসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মেহেরপুরের বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিক আমি পরিদর্শন করেছি।  আমি প্রতিদিনই একটি ক্লিনিক পরিদর্শনে যায়।  সার্বিক পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত ভালো।’

ডেইলি বাংলাদেশ/এসকে/আরআর