Alexa ভবিষ্যৎ দেখতে পাওয়া এক বিস্ময় বালক

ঢাকা, সোমবার   ১৯ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৪ ১৪২৬,   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

ভবিষ্যৎ দেখতে পাওয়া এক বিস্ময় বালক

 প্রকাশিত: ১৬:৪৫ ৬ জুন ২০১৮   আপডেট: ১৬:৫৫ ৬ জুন ২০১৮

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

অবিশ্বাস্য কিন্তু বাস্তব ভৌতিক গল্পগুচ্ছ। যা আপনাকে পুরোপুরিভাবে হতবিহবল করে দিবে। ভয়ে কুঁকড়ে যাবেন। ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের কাছে আহ্বান করা সত্যিকার ভূতুড়ে গল্প।

১ ভবিষ্যৎ দেখতে পাওয়া এক বিষ্ময় বালক

তখন ক্লাস নাইন টেনে পড়ি। গণিত ছিল সবথেকে অপছন্দের সাবজেক্ট। আর মা ফাইভ পর্যন্ত পড়িয়েছেন। এরপর থেকে স্কুল কলেজে কখনো কারো কাছে প্রাইভেট পড়তে যাইনি। আসলে কেমনি যেন সবার বাচ্চারা পড়তে যায় তাই মা বাবাও আমাকে প্রাইভেটে যাবার জন্য চাপ দিতেন। আমি তো এক নাম্বার বোকা বলতাম প্রাইভেটে কি পড়াবে এর থেকে আমি ভালো পারি। মায়ের কানটানা, পেটে চিমড়ি খেয়েছি যথেষ্ট। আসল কাহিনী হলো আমি তো পড়তে যাবোনা, বাজার থেকে গণিতের একটি গাইড কিনে নিয়েছিলাম। স্যারের বাসা ছিল সন্ধ্যা নদীর কাছাকাছি। একটা ভুতুড়ে জায়গাই বটে। স্যারের ওই বাসার পথ ধরেই অবশ্য আমি নানাবাড়ি যেতাম। স্যারের বাড়ির দিকে ঢোকার পথে একটা কবরস্থান ছিল। প্রচলিত আছে ওখানে নাকি অনেকেই অনেক কিছু দেখেছে। ন্যাংটা ভূত আরো নানা রকম জিনিস। ওখানে নাকি বোতলে ভরে জীন রাখা আছে। এসব কাহিনী লোক্মুখে এখনো আছে। কিন্তু আসলে আমার তো গণিত পড়া সম্ভব না। ক্রিকেটের সময়টা দিল তো! কি করবো। হঠাৎ করে বাহানা বানিয়ে দিলাম। আসতে আসতে যেহেতু সন্ধ্যা হয়ে যেতো, বললাম মা, ওখানে ওই বাঁশঝাড়ের উপর আগুন দেখেছি, আগুনের মধ্য থেকে পানি পড়তেছিল। কিন্তু পড়তে যাওয়া আর বন্ধ করলোনা। কি আর করার !একদিন রাতে কিছু না দেখেই কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছিলাম। যাই হোক, গোপনীয়তার স্বার্থে জায়গাটার নাম না বলি। পশ্চিম বাংলার একটা ভূতের সিনেমা দেখার পর প্যারানরমাল জগতের সাথে যোগাযোগ করার অনেক আগ্রহ তৈরী হয়েছিল। নিজে নিজেই মৃত মানুষ কল্পনা করতাম। ধ্যানে বসতাম ঘরের মধ্যেই। আসলে এগুলো ছিল সব বেকার। আমি ছোট একটা বাচ্চা, এর আগে যে বাসায় ভাড়া থাকতাম, নাম হানিফ ভিলা,উনি হোমিওপ্যাথির ডাক্তার, ওই বাসার পেছনে ব্যার (ড্রেন নালা) ছিল। পেছনে মাঠ, নাম ঘোষের বাড়ির মাঠ। পুরো এলাকায় কোনো লোক নেই। জনশূন্য, বাবার কিনে দেয়া রাবারের জুতোর এক পাটি হাতে, অন্য পাটি খুজছিলাম, বৃষ্টি , পুরো কাদার মধ্যে দাঁড়ানো, হঠাৎ এক ভয়ংকর রাক্ষসী চেহারা! ঘুম ভেঙ্গে গেলো। এরপর থেকে প্রায়ই এরকম স্বপ্ন দেখি আর চিৎকার করে উঠি। তবে একটু রাত জেগে ঘুমাতাম। মা এসে দেখে যেতো, অথবা তার রুম থেকেই ডাকতো, সাকিব , ঘুমাইছো.........? তো হঠাৎ একদিন এরকম ডাক ! গেলাম মায়ের রুমে, মা ডেকেছো!!! কই না তো! তোরে তো ডাকিনাই! বিভ্রম হতে পারে তাই চলে এলাম, কিন্তু কয়েকদিন পরপর প্রায়ই এমন হতো। আবার ঘুমালে আমি ভবিষ্যৎ দেখতে পেতাম, কিছুদিন পর দেখতাম যা দেখেছি যব হুবহু পাই টু পাই মিলে যাচ্ছে। বলতাম কেউ বিশ্বাস করতোনা, দু একটা ভবিষ্যদ্বাণী করতাম ও। হয়ে গেলে সবাই বলতো, হুম, হইছে, আন্দাজে ঢিল অনেক হইছে। কিন্তু ওই যে ডাকাডাকি সেটা অ্যাঁর বন্ধ হয়নি। তো একদিন ভয়তে অবস্থা খারাপ, বাবা এসে আমার পাশে বসে ছিল, আমি ঘুমিয়ে গেছিলাম, পরে বাবাই আস্তে করে ডাকলো সবাইকে, হ্যাঁ , সত্যিই তো, ওকে কেউ একজন ডাকতেছে। পুরোটাই মায়ের কন্ঠ , সেইম টু সেইম। এইবার একটু বোধোদয় হইলো যে না, প্যারানরমালের সাথে যোগাযোগের একটা হিল্লে তবে হয়েই গেলো। ভয় ও ছিল। এটা জানতাম যে, আল্লাহ ছাড়া ভবিষ্যৎ কেউ জানেনা। শয়তান কিছু কিছু আভাস পায়, জীন পরীরা এগুলা হালকা শুনতে পারে অস্পষ্ট। মনে ধরলো যে, এ তো ভালো কোন লক্ষণ না। ভবিষ্যদ্বাণী করাও মহাপাপ। দেখানো হল হুজুর। একটা নীল রঙ এর তাবিজ দিল নাভীতে, জিজ্ঞাসা করা হলো, পোড়ায়! জ্বলে! আমি বললাম না! এবার বলা হলো আপনার ছেলে তো মোনামতারি। ইচ্ছামতো , সব বানানো কাহিনী! পরে আসলেই হালকা একটু পোড়াচ্ছিল। বললাম। দেয়া হলো তাবিজ, বলা হলো সাথে পনেরো দিন রাখবেন। আমি এসব তাবিজ টাবিজ বিশ্বাস করিনা, কুফরি মনে করতাম। কিন্তু কয়েক দিন পর দেখলাম তাবিজ টা একা একাই চলে গেছে। এবার বাসা পরিবর্তন করে আসলাম বরিশাল বিভাগীয় শহরে। প্রতিদিন একটা শালিক পাখি ফযরের নামাযের সময় এসে ডেকে যেতো। মা দেখিয়েছিল। আমি খেয়াল করিনা এসব বিষয়। কিন্তু আমার ভবিষ্যৎ দেখা থামলনা। অস্বাভাবিক আচরণ ও করি মাঝে মাঝে। এই যেমন অল্পতেই রেগে যেতাম, অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ ছিলাম আর কি! মানুষের থেকে কষ্ট পেতাম। কলেজে উঠেছি, প্রেমের প্রস্তাব পাঠাতাম, সব ঠিক হয়েও শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠতনা আর কি। অবশ্য এ কাহিনী টিন এইজ বয়সে নাইন টেনে পড়ার সময় ও হয়েছে। কি জানি কি কারনে এক পাখি হুজুর নামে কোনো একজনের আবিরভাব হলো এলাকায় সে আমার মাথায় হাত দিল আর দোয়া পড়লো! বলে মাথা কি একটু ভারী মনে হয়!!! আরে ভাই মাথায় হাত দিয়ে চেপে ধরলে তো এমনিতেই মাথা ভারী হয়ে যায়। কিন্তু আমার কান থেকে যে কিছু একটা সেদিন বেরিয়ে গিয়েছিল এগারো বারের মতো তা স্পষ্টই টের পেয়েছিলাম, পরে শুনেছি আমার সাথে নাকি এগারোটা জীন পরী ছিল। একটু হাস্যকরই বটে। বললো উপরিলক্ষণ ও নাকি ছিল। মানে হঠাৎ করে ঘুমানো অবস্থায় নিচের দিকে পড়ে যাচ্ছি , লাফ দিয়ে উঠেছি কিন্তু ঘুম ভাঙ্গলে দেখি যে ঠিক জায়গাতেই আছি। আবার কেউ একটু হালকা ইশারা দিয়ে যায়, পায়ে একটু টালা দিয়ে যায় কিন্তু উঠে দেখবেন যে আশে পাশে কেউ নাই , এমন কিছু আর কি। যদিও এখন আমার প্রেমিকা আছে। সাড়ে তিন বছর হয়ে গেলো আমাদের সম্পর্ক চলে। টেক্সটাইলে পড়ে, আর আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। অতটা ঘন ঘন না হলেও এখনো আমি ভবিষ্যৎ দেখতে পাই। ছয় মাসে একবার নাহলে বছরে একবার। কাউকে জানানোর তো কোনো প্রয়োজন নাই। কি দরকার! তবে দেখি! জানিনা! এর প্রভাব কি হবে! কতদূর যাবে!

২ যে কুকুর আত্মা দেখে
আমার কুকুরটির মধ্যরাতে দরজায় আঁচড় কাটার একটি কদর্য অভ্যাস আছে। কি বাজে একটা সবভাব!তাই না! কিন্তু যেকোনো একটা কারনে কোনো এক সন্ধ্যায় কুকুরটি(মহিলা) দরজায় আঁচড় কাটা শুরু করে দিয়েছে। অবিরত। করে যাচ্ছে তো করেই যাচ্ছে।পাঁচ ছবার ডাকার পরে আমি দরজার দিকে আমার বালিশটি ছুড়ে মারলাম ওটার এই উল্টোপাল্টা কাজ বন্ধ করার জন্য। আর ঠিক তখনি সে ঘেউ ঘেউ করে উঠলো। তবে ঠিক দরজার ওপাশ থেকে নয় ,ঠিক আমার বিছানার ডান পাশ থেকে।এবং পুরো রাত ধরেই ওটা আমার পাশে ছিল।ভাগ্যিস কোনো ক্ষতি হয়নি সেদিন।

৩ ছায়ামূর্তির মতো কিছু একটা সিলিং এর উপর থেকে নিচের দিকে নেমে আসছিল।
যখন আমি ছোট ছিলাম এবং প্রতিরাতে লাইট বন্ধ করে ঘুমাতে যেতাম।প্রতিরাতেই দুটো ছায়ামূরতির মতো কিছু একটা আমার রুমের সিলিং থেকে নেমে এসে দরজা সোজাসুজি দাড়িয়ে যেতো। তারা আস্তে করে আমার বিছানার দুপাশে, একটি ছায়া মাথার কাছে আর অন্যটি পায়ের কাছে গিয়ে দাড়িয়ে থাকতো। একটি ছায়া আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিত। কিন্তু আমি কাথা মিড়ি দিয়ে রাখতাম। একদিন সাহস করে মাকে বলেই দিয়েছিলাম। ওইদিন মা আমাকে একটি ল্যাম্প দিয়েছিল। বলেছিল যে ঘুমানোর আগে প্রার্থনা করবে এবং ওদেরকে চলে যেতে বলবে। এত বড় হয়েছি কিন্তু এখনো আমি ওই ল্যাম্প ছাড়া ঘুমাইনা।

৪ ভুতূড়ে ছাত্র
একদিন ক্লাসের ব্রেকের ফাঁকে আমার এক বন্ধু মাথা নিচু করে হালকা একটু ঘুমিয়ে নিচ্ছিল। অন্য ক্লাসে যেই বন্ধুরা আছে ওদেরকে দেখানোর জন্যই মূলত আমি এই ছবিটি তুলেছিলাম।তবে ছবিটি যখন তুলেছি তখন ক্লাসের কেউই দাঁড়ানো অবস্থায় ছিলনা। আমার পেছনেও কেউ ছিলনা যে আমি তার ছায়া দেখতে পাবো। এবং ক্লাসে কেউ হাঁটছিল ও না। মোদ্দা কথা সবাই বসা ছিল। তাহলে কি দেখলাম !! এক যুবতী মহিলার ভ্রাম্যমান ছায়া!! ক্লাসে হেঁটে চলছিল অবিরাম। কেউ খেয়াল করেনি। আমার কথা কেউ বিশ্বাস করবেনা! জানতাম! এজন্যই ছবিটি তুলে রেখেছি।

৫ এক অতৃপ্ত আত্মার আদর
আমার বাবা ১৯৯৬ সালে মারা যান ,তখন আমার বয়স ছিল ১০ আর আমার ভাইয়ের বয়স ছিল ১২। আমরা একটি বাংকের বিছানায় ঘুমাতাম, ও উপরের বাংকে আর আমি নিচেরটাতে। কোনো এক রাতে আমি মাঝ রাতে জেগে উঠেছিলাম , আমার মনে হচ্ছিল যে , কেউ একজন তার কোমল পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে আমাকে। চুমু খাচ্ছে আমার কপালে। আমি ভাবছিলাম এটা হয়তো ভাইয়া ছিল, তাই স্বাভাবিকভাবেই ইগনোর করলাম। যখন আবার ঘুমিয়ে যাচ্চিলাম, ওই একই অনুভূতি আবার আমাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। আমি বিরক্ত হয়েই বিছানা থেকে উঠে গেলাম এবং চিন্তা করলাম আর না এবার ওকে কিছু একটা বলা দরকার। কিন্তু হলো কি!! ও তো দিব্যি নাক ডেকে ঘুমাচ্ছিল।তারপর আমি আবার যখন ঘুমাতে গেলাম,ঠিক একই রকম শুরু হলো আবার আমার সাথে। এরপর সারারাত ধরে শুধু প্রার্থনাই করে গেছি। জীবনে এরকম প্রার্থনা করিনি কোনোদিন আর।

আজ এ পর্যন্তই। পরের বার এই সিরিজের পরবর্তী গল্প রক্তহাড়ের হাত এবং দাদীর আত্মা নিয়ে আবারো হাজির হবো। নিজে ভালো থাকুন এবং অপরকে ভালো থাকতে দিন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই

Best Electronics
Best Electronics

শিরোনাম

শিরোনামকুমিল্লার বাগমারায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নারীসহ নিহত ৭ শিরোনামবন্যায় কৃষিখাতে ২শ’ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হবে না: কৃষিমন্ত্রী শিরোনামচামড়ার অস্বাভাবিক দরপতনের তদন্ত চেয়ে করা রিট শুনানিতে হাইকোর্টের দুই বেঞ্চের অপারগতা প্রকাশ শিরোনামচামড়া নিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সমাধানে বিকেলে সচিবালয়ে বৈঠক শিরোনামডেঙ্গু: গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১৭০৬ জন: স্বাস্থ্য অধিদফতর শিরোনামডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন দুপুরে আদালতে উপস্থাপন শিরোনামডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমছে: সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক শিরোনামইন্দোনেশিয়ায় ফেরিতে আগুন, দুই শিশুসহ নিহত ৭ শিরোনামআফগানিস্তানে বিয়ের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, নিহত বেড়ে ৬৩