Alexa ভবিষ্যতের মহাকাশ প্রযুক্তি: স্পেস এলিভেটর

ঢাকা, বুধবার   ১৬ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ২ ১৪২৬,   ১৭ সফর ১৪৪১

Akash

ভবিষ্যতের মহাকাশ প্রযুক্তি: স্পেস এলিভেটর

 প্রকাশিত: ১৪:০৮ ১৩ অক্টোবর ২০১৭  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মহাবিশ্ব জয় মানুষের অনেক দিনের স্বপ্ন। বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের প্রায় সকল জায়গায়ই অভিযান চালিয়েছে, কিন্তু প্রযুক্তিগত দিক থেকে যথেষ্ট উন্নত না হওয়ায় এখনও আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশ যাত্রার ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু করতে পড়েনি বিজ্ঞানীরা। আর মহাশূন্য অভিযান অতিরিক্ত ব্যায়বহুল হাওয়ায় কোন সাধারন ব্যাক্তির পক্ষে মহাকাশ ভ্রমনের অভিজ্ঞতা নেয়া প্রায় অসম্ভব।

যদিও নাসা জানিয়েছে তারা হয়ত খুব তাড়াতাড়ি সাধারন মানুষের জন্য মহাকাশ ভ্রমনের সুযোগ করে দিবে। হয়ত এত দিনে সেই সিদ্ধান্ত নেয়াও হয়ে গিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তা এত বেশি ব্যায়বহুল হবে যে তা খুবই কম সংখ্যক মানুষের পক্ষে সম্ভব হবে। যাই হোক স্পেস এলিভেটর হল এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে মুলত পৃথিবীকে কক্ষপথের সাথে ক্যাবল যোগে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এই প্রযুক্তির ফলে হয়ত সাধারন মানুষের জন্য মহাকাশ ভ্রমনের দ্বার উন্মুক্ত হবে। কারন এই প্রযুক্তি শুরু হলে এটি হবে খুবই কাজের ও অনেক বেশি সাশ্রয়ী।

স্পেস এলিভেটর এর ধারণাতে পৃথিবীকে কক্ষপথের সঙ্গে ক্যাবল যোগে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। ফলে তড়িৎচৌম্বকীয় শক্তির ব্যবহারে মহাশূন্যযান উৎক্ষেপণ সহজতর হবে। যখন কোন বস্তু কক্ষপথের বাইরে ক্যাবল দ্বারা সংযুক্ত হবে, ক্যাবল এর ভরকেন্দ্র থাকবে জিওষ্টেশনারী কক্ষপথে (যে কক্ষপথে বিষুবরেখার উপর স্থাপিত একটি স্যাটেলাইট পৃথিবীর ঘূর্ণনের সাথে সংগতি রেখে সদা ঘূর্ণায়মান রয়েছে, তাই এটিকে পৃথিবীর অনেকের কাছেই একই জায়গায় স্থির মনে হয়)।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী কাবলের দৈর্ঘ্য হবে ৫০০০০ থেকে ১০০০০০ কিলোমিটার। সাধারনত মহাকাশযানগুলো একটি রকেট এর সাহায্যে উতক্ষেপন করা হয়। আর এটি একটি রকেটবিহীন মহাকাশ যান উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা। আর আশা করা যায় এটি আগামি ১০-২০ বৎসর এর মধ্যে তৈরি করা সম্ভব হবে।

এই স্পেস এলিভেটর এর ধারণাটি পৃথিবীর সেরা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক আর্থার চার্লস ক্লার্ক তার ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত উপন্যাস `দ্যা ফাউন্তেন অফ প্যাঁরাডাইস` উপন্যাসে প্রথম প্রকাশ করেন।

হয়ত অদুর ভবিষ্যতে আমরা না পারলেও আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম মহাকাশে যাবার সুযোগ পেলে পেতেও পারে!

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ