Alexa ভবিষ্যতের পৃথিবী কি এমনই হবে! (ভিডিও)

ঢাকা, বুধবার   ২৩ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৭ ১৪২৬,   ২৩ সফর ১৪৪১

Akash

ভবিষ্যতের পৃথিবী কি এমনই হবে! (ভিডিও)

সালমান আহসান  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:০৮ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৩:২১ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সায়েন্স ফিকশন বা সাই-ফাই সিনেমার বয়স প্রায় চলচ্চিত্র মাধ্যমটির বয়সের সমান। সেই ১৯০২ সালে জর্জ মিলিয়ে বানিয়েছিলেন প্রথম ছবিটি। তার বানানো ‘অ্যা ট্রিপ টু দ্য মুন’ দেখে এখনো তাক লেগে যায়! মানুষ চাঁদে গেল তারও কত পরে! বলতে গেলে এই সেদিন, ১৯৬৯ সালে। ইতিহাস অনেক পুরনো হলেও কল্পবিজ্ঞানের ছবি জনপ্রিয় হয় আরো অনেক পরে। 

‘স্টার ওয়ারস’ দিয়ে সিনেমার এ ঘরানার জয়যাত্রা শুরু। পরে জনপ্রিয়তা এতই বাড়লো যে অনেক নির্মাতা মারদাঙ্গা অ্যাকশন ছবিকেও সাই-ফাই বলে চালিয়ে দিতে থাকলেন। সুপারহিরো ছবিকেও সাই-ফাই বলা হলো। কিন্তু বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী মানে তো এমন ছবি, যা ভবিষ্যৎ পৃথিবীর চেহারাটা কেমন হতে পারে তা নিয়ে চিন্তার খোরাক জোগাবে। এমন অসাধারণ সাতটি ছবি সম্পর্কে জানা যাক।

ডন অব দ্য প্লানেট অব দ্য এপস

ভবিষ্যতের পৃথিবীতে একদিন দেখা দিল সিমিয়ান ফ্লু নামের এক মহামারি রোগ। এএলজি-১১৩ ভাইরাসবাহী এই রোগে মারা গেল প্রায় সব মানুষ। অল্পস্বল্প কিছু টিকে রইল, যারা জিনগতভাবে এই ভাইরাসটির প্রতিরোধক নিয়ে জন্মেছিল। একই ভাইরাসে উল্লুকদের (এপ) ভারি লাভ হলো। তারা আরো বুদ্ধিমান হয়ে ওঠলো। নিজেরাই গড়ে তুলল নিজেদের সাম্রাজ্য। এরকম এক প্রেক্ষাপটেই শুরু হয় ছবিটি। ম্যাট রিভস পরিচালিত এ ছবিতে অভিনয় করেছেন অ্যান্ডি সের্কিস, জেসন ক্লার্ক, গ্যারি ওল্ডম্যানরা।

বিয়ন্ড দ্য ব্ল্যাক রেইনবো

ড.আরবোরিয়া বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার মধ্যে যোগসূত্র বের করতে একসময় খুলেছিলেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান আরবোরিয়া ইনস্টিটিউট। এখানকার গবেষণার লক্ষ্য হলো, মানুষের জন্য স্থায়ী সুখের উপায় খুঁজে বের করা। পরে এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নেয় আরবোরিয়ার অনুসারী ড. ব্যারি নাইল। বাইরে থেকে সুদর্শন ব্যারিকে হাসিখুশি ভালো মানুষ মনে হলেও পেটে তার শয়তানির প্যাঁচ। ছবির পরিচালক পানস কসমাটস। অভিনয়ে ছিলেন মাইকেল রজার্স, ইভা অ্যালান।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স

এই ছবির নির্মাতা স্টিভেন স্পিলবার্গ। দ্বাবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা অনেক বেড়ে গেছে। আমস্টারডাম, ভেনিস, নিউইয়র্কের মতো শহরগুলো ভেসে গেছে পানিতে। পৃথিবীর জনসংখ্যা অনেক কমে গেছে। মানুষের বদলে নতুন এক ধরনের রোবট তৈরি করা হলো। মেচা নামের রোবটগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন। মানুষের মতোই তাদের চিন্তা ও আবেগ আছে। হেনরি ও মনিকা দম্পতির ছেলে মার্টিন দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত বলে তারা ঘরে নিয়ে আসেন ডেভিড নামের এক মেচাকে। তারপর তাকে ঘিরেই এগিয়ে যায় কাহিনী।

স্নোপিয়েরসার

বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে বলে একসময় মানুষ ঠিক করল, জলবায়ু প্রকৌশল করে এটাকে মোকাবিলা করা হবে। কিন্তু এটা সাংঘাতিকভাবে উল্টো ফল বয়ে আনলো। এতকাল গরমে মানুষের প্রাণ ছিল ওষ্ঠাগত। এখন সেখানে ফিরে এলো বরফের যুগ। প্রায় সব প্রাণীর জীবন পড়লে ঝুঁকিতে। এরমধ্যে টিকে গেল স্নোপিয়েরসার নামে এক ট্রেনের যাত্রীরা। কীভাবে তারা জটিল এই পরিস্থিতিকে সামাল দিলো, তার জন্য দেখতে হবে ছবিটি। পরিচালনা করেছেন কোরীয় নির্মাতা বং জুন-হু।

মুন

২০৩৫ সাল নাগাদ পৃথিবীতে জ্বালানি তেলের ঘাটতি দেখা দিল। এরপর মানুষ চাঁদের মাটি খোঁড়া শুরু করলো। সেখানে পাওয়া গেলো ‘হিলিয়াম-৩’ নামে এক জ্বালানি। চাঁদের মাটিতে গড়ে তোলা হলো সারাং স্টেশন নামের একটি ভবন। নিয়মিত খনন চালাতে স্যাম বেল নামের একজন সেখান থেকে যায়, বাকি কাজ যন্ত্রই করে। এরই মধ্যে কোনো এক কারণে পৃথিবীর সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। স্যাম স্ত্রীকে অনেকদিন দেখেনি, পৃথিবী থেকে আসার সময তার স্ত্রী ছিল সন্তানসম্ভবা। ছবির নির্মাতা ডানকান জোনস। অভিনয় করেছেন স্যাম রকওয়েল, ডমিনিক ম্যাক এলিগট।

চিলড্রেন অব মেন

২০২৭ সাল। আঠারো বছর হয়ে গেল নতুন কোনো শিশু জন্মাচ্ছে না পৃথিবীতে। কারণ, পৃথিবীর সব নারী সন্তান ধারণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। এদিকে প্রবীণেরা মারা যাচ্ছে। মানব সভ্যতা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। বন্ধ্যাত্ব সমস্যার নিরসনে বিজ্ঞানীরা একটি প্রোজেক্ট হাতে নিলেন, নাম‘হিউম্যান প্রজেক্ট’। আলফানসো কুয়েরনের এই ছবিতে অভিনয় করেছেন ক্লাইভ ওয়েন, জুলিয়ান ম্যুর, মাইকেল ক্লেইন।

সানশাইন

২০৫৭ সাল নাগাদ নাকি সূর্যের জীবন শেষ হয়ে যাবে! সূর্যকে বাঁচাতে এক মহাপরিকল্পনা ফেঁদেছে পৃথিবীর মানুষ। ‘ইকারুস টু’ স্পেসশিপে চড়ে আটজনের একটি দল যাবে সূর্যে, সঙ্গে নিয়ে যাবে একটি নিউক্লিয়ার বোমা! সেটা ফাটিয়ে সূর্যকে আবার চালু করার চেষ্টা করবে তারা। কাজ সারা হলে ফিরে আসবে পৃথিবীতে। স্লামডগ মিলিয়নিয়ার খ্যাত ড্যানি বয়েল ছবিটির পরিচালক। অভিনয় করেছেন রোজ বার্ন, ক্লিফ কার্টিস, ক্রিস ইভানস। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস