Alexa বড় দুই দলেই মনোনয়নপ্রত্যাশীর ছড়াছড়ি

ঢাকা, শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৯ ১৪২৬,   ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

বড় দুই দলেই মনোনয়নপ্রত্যাশীর ছড়াছড়ি

 প্রকাশিত: ২০:২১ ৬ জুন ২০১৮   আপডেট: ২০:৩৩ ৬ জুন ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে করে জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই। পাবনা-২ (সুজানগর-বেড়া) আসনে লড়াইটা চোখে পড়ার মতো। বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে মনোনয়নপ্রত্যাশীর ছড়াছড়ি। 

এ আসনে দুই দলই সাংগঠনিকভাবে বেশ শক্তিশালী । স্বাধীনতার পর এ আসনে আওয়ামী লীগ এক উপনির্বাচনসহ পাঁচবার জিতেছে, বিএনপি জিতেছে চারবার। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তাই উভয় দলের কাছেই হয়ে উঠেছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

আওয়ামী লীগ চাইছে ভোটযুদ্ধে জিতে আসনটিতে অবস্থান আরও পাকাপোক্ত করতে। অন্যদিকে বিএনপি চাচ্ছে আসনটি পুনরুদ্ধার করে সমানে সমান হতে। বৈঠক থেকে শুরু করে সভা-সমাবেশের মাধ্যমেশুভেচ্ছা বিনিময় শুরু করেছে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে দেয়াল। মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন ছোট-বড় দলের কমপক্ষে ২৪ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ১৪ জন, বিএনপির আটজন এবং জাতীয় পার্টি ও খেলাফত মজলিশ উভয় দলের একজন করে।

Pabna

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মনে করে, সর্বশেষ ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খন্দকার আজিজুল হক আরজুর পাল্লা এবারও বেশ ভারী। এর আগে বেড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল কাদের রোকন, সুজানগর পৌর মেয়র আবদুল ওহাব এবং বেড়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন শাখার সভাপতি, সম্পাদক ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সরাসরি তার পক্ষে কাজ করছেন। 

এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আরও রয়েছেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সুজানগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আহমেদ ফিরোজ কবির, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কৃষিবিদ ড. মির্জা আবদুল জলিল, ট্যারিফ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব ড. মজিবুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামের ছোট ভাই প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক একে মির্জ্জা শহিদুল ইসলাম, রাকসুর সাবেক জিএস ও আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য খন্দকার জাহাঙ্গীর কবির রানা, বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির যুগ্ম সম্পাদক এ. কে. এম. কামরুজ্জামান খান, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল আজিজ খান, ঢাকা মহানগর (উত্তর) আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, সাবেক সিভিল সার্জন ও বিএমএর কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ডা. কেএম শফিউল আলম বাদশা, আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মো. রফিকুল আলম গাফফারী রাসেল, মো. আশিকুর রহমান খান সবুজ এবং ইমরান সিরাজ সম্রাট।
খন্দকার আজিজুল হক আরজু বলেন, গত পাঁচ বছরে আমার নির্বাচনী এলাকায় অনেক কাজ করেছি। দলকেও সংগঠিত করেছি। কেন্দ্র থেকে আমাকেই মনোনয়ন দিবে বলে আমি আশাবাদী।

আবদুল আজিজ খান বলেন, বেড়া উপজেলার যে ৫টি ইউনিয়ন এ আসনে যুক্ত রয়েছে, সেগুলোতে বিএনপির ভোট বেশি। তবে সব দলের নেতাকর্মীদের কাছেই তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তা ছাড়া নিজের দলের তৃণমূল পর্যায়েও তার নিবিড় সংযোগ রয়েছে। তাই আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে নির্বাচিত হব বলাই যায়।

ড. আবদুল জলিল বলেন, সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর থেকে শেখ হাসিনার আহ্বানে দলের একজন নিষ্ঠাবান কর্মী হয়ে করছি। এলাকার সঙ্গেও রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। দল ব্যাপারটি নিশ্চয়ই দেখবে বলে আশাকরি।

ড. মুজিবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের জন্য কাজ করছি। নেতারা বিষয়টি নিশ্চয়ই মূল্যায়ন করবেন।
বিএনপিতে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন- দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ অ্যাডভোকেট একেএম সেলিম রেজা হাবিব, কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য হাসান জাফির তুহিন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সাইফুর রহমান, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও বিজিএমইএর সদস্য শিল্পপতি আবদুল হালিম সাজ্জাদ, জেলা বিএনপির সভাপতি মেজর (অব.) খন্দকার সুলতান মাহমুদ, জেলা আইনজীবী ফোরামের সভাপতি, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সুজানগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আরশেদ আলম।

একেএম সেলিম রেজা হাবিব বলেন, আমার সময়ে এ আসনে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। এখনও এলাকায় দল ও জনগণের জন্য নিয়মিত আসা-যাওয়া করি। দলের কাজ করি। আবারও নির্বাচিত হয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে প্রাণের সম্পর্কের প্রকাশ ঘটাতে চাই।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মুকবুল হোসেন সন্টু।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর

Best Electronics
Best Electronics