বড় চাকরি ছেড়ে মাকে নিয়ে ৫২ হাজার কি.মি. ভ্রমণ

ঢাকা, সোমবার   ৩০ মার্চ ২০২০,   চৈত্র ১৭ ১৪২৬,   ০৬ শা'বান ১৪৪১

Akash

বড় চাকরি ছেড়ে মাকে নিয়ে ৫২ হাজার কি.মি. ভ্রমণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক     ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:১৫ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

মোটা অঙ্কের বেতনের চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন মায়ের ইচ্ছে পূরণের জন্য

মোটা অঙ্কের বেতনের চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন মায়ের ইচ্ছে পূরণের জন্য

মোটা অঙ্কের বেতনের চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন মায়ের ইচ্ছে পূরণের জন্য। মাকে নিয়ে তীর্থ করতে চান যুবক । 

২ বছর আগে ভারতের কর্ণাটকের মাইসুরু থেকে যাত্রা শুরু করে  দক্ষিণামূর্তি কৃষ্ণকুমার এসে পৌঁছলেন কলকাতায়। ডুয়ার্সের মন্দিরগুলি ঘুরে দেখে উচ্ছ্বসিত মা-ছেলে।  

জানা গেছে, আজ থেকে বছর কুড়ি আগে বাবা দিয়েছিলেন একটি বাইক। তাতে সওয়ার হয়েই ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি মা চূড়ারত্না দেবীকে নিয়ে কৃষ্ণকুমার যাত্রা শুরু করেন মাইসোরের বাড়ি থেকে। 

বিভিন্ন রাজ্য পেরিয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি তারা পৌঁছান মালবাজার মহকুমার ওদলাবাড়িতে, বুয়া প্রসাদের বাড়ি। 

গত ২৫ মাস ধরে স্কুটারের পিছনে মাকে বসিয়ে মোট ৫২০৩২ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে এসেছেন। জানান, ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে তার বাবা দক্ষিণামূর্তির মৃত্যু হয়েছে। তারপর থেকে সঙ্গী বলতে শুধু মা। 

কৃষ্ণকুমার একটি বড়সড় কর্পোরেট সংস্থায় টিম লিডারের চাকরি করতেন। বর্তমানে তার বয়স ৪১ বছর।  

কৃষ্ণকুমার বলছেন, “মা তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় রান্নাঘরেই কাটিয়েছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাড়ির কাজ করতেন তিনি। সংসারের বাইরে কিছু দেখার সময় একদমই ছিল না তার। তাই দর্শনীয় স্থানগুলি তো দূরের কথা, বাড়ির আশেপাশে মন্দিরগুলিও দেখে ওঠা হয়নি মায়ের।” 

এসবের পর একটা সময়ে মায়ের ইচ্ছাপূরণর জন্য ছেলে চাকরি ছেড়ে দেন। মাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন সারা ভারত দর্শনে। মা’কে জিজ্ঞাসা করে নেয়, দেশের কোন তীর্থ স্থানগুলিতে তিনি যেতে চান। 

মা তাকে জানান, আশেপাশের মন্দিরগুলি দেখলেই যথেষ্ট। নাম করা তীর্থ স্থানগুলি এই বয়সে আর দেখার শক্তি নেই। মায়ের এই আক্ষেপের কথা শুনে ছেলে কৃষ্ণকুমারের বিবেক দংশন হয়। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, মা’কে স্কুটারে চাপিয়ে দেশের তীর্থস্থান ভ্রমণে নিয়ে যাবে।

কৃষ্ণকুমার বলছেন যে তিনি বাবা-মা’র একমাত্র সন্তান। আর এটা তার বাবার দেয়া গিফট। এটা সঙ্গে থাকলে তাদের মনে হয়, পুরো পরিবার একসঙ্গে আছে।

তিনি আরো বলেন, “আমার মনে হয় প্রতিটি সন্তান দিনে অন্তত ৩০ মিনিট তাদের মা-বাবাকে সময় দেয়া উচিত। বাবা-মা বেঁচে থাকতে, তাদের সেবা করাই আসল কাজ। তারা বেঁচে থাকতে তাদের জন্য কিছু না করে, তাদের মৃত্যুর পর ঘটা করে শ্রাদ্ধ করে হাজারও লোক খাইয়ে সকাল বিকেল ছবিতে মালা দেন। তা ঠিক নয়।” 

দক্ষিণামূর্তি কৃষ্ণকুমারকে দেখে অনুপ্রাণিত হলেন অনেকেই। সবাই একবাক্যে মেনে নিলেন, সন্তান এমনই হওয়া উচিত।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ