Alexa ব্রেক্সিটের জন্য ২৫০ কোটি ডলার বরাদ্দ ব্রিটেনের

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ২ ১৪২৬,   ১৭ মুহররম ১৪৪১

Akash

ব্রেক্সিটের জন্য ২৫০ কোটি ডলার বরাদ্দ ব্রিটেনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

 প্রকাশিত: ০৭:১০ ২০ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ০৮:০৯ ২০ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

কোনোরকম চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিটকে ( ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বিচ্ছেদ) নিশ্চিত ধরে কাজ শুরু করেছে ব্রিটিশ সরকার। আর এ লক্ষ্যে ২০০ কোটি পাউন্ড বা ২৫০ কোটি ডলারের অর্থ বরাদ্দ করেছে থেরেসা প্রশাসন।   

একই সঙ্গে ব্রেক্সিট ইস্যুতে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা সামলাতে সাড়ে তিন হাজার সেনা প্রস্তুত রাখা হবে বলেও এক সরকারি বিবৃতিতে জানিয়েছে দেশটির সরকার।

মঙ্গলবার সরকারের তরফ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। খবর এএফপির।

আগামী ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন ও নতুন বছরের ছুটি শুরু হওয়ার আগে শেষবারের মতো বৈঠক করে মন্ত্রিসভা। এই বৈঠকেই চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটকে ‘কাজের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার’ হিসেবে বিবেচনা করে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বৈঠক শেষে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী গাভিন উইলিয়ামসন গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান। 

সরকারি ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ব্রেক্সিট তহবিলের সবচেয়ে বড় অংশটি পাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে এর একটা বড় অংশ খরচ হবে। আগামী ২৯ মার্চের মধ্যে ইইউ ছাড়তে হবে ব্রিটেনকে। তবে ১৮ মাস ধরে টানা আলোচনা চলার পরও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। 

প্রধানমন্ত্রী মে’র খসড়া চুক্তিটি পার্লামেন্ট সদস্যদের পছন্দ হয়নি। মূলত এ কারণেই চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিটের কথা বলা হচ্ছে। আরেকটি পথও অবশ্য রয়েছে। তা হচ্ছে পুনরায় গণভোট আয়োজন। অনেকে এমপিরা এখন এর পক্ষে কথাও বলছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী ব্রেক্সিট নিয়ে আবারো গণভোট আয়োজনের পক্ষে নন। ফলে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা।

তবে ব্রেক্সিটমন্ত্রী স্টিভ বার্কলে বলেন, মন্ত্রীরা এখনো প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে‘র খসড়া চুক্তির বিষয়ে হাউস অব কমন্সের অনুমোদন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। যে কোনো দায়িত্বশীল সরকারই আগামী ২৯ মার্চ ইইউ ছাড়ার ব্যাপারে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে চুক্তি ছাড়াই এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখবে বলে জানান তিনি। 

তিনি আরো বলেন, সরকারের মধ্যে প্রাধান্যের ভিত্তিতে কাজ করার এটি একটি বাস্তবভিত্তিক উপায় হতে পারে। তবে সার্বিকভাবে আমরা একটি চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী।

বার্কলে বলেন, ব্রেক্সিট ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে কী করে সবচেয়ে ভালো প্রস্তুতি নেয়া যায়, সে সম্পর্কে অবহিত করবে। 

অনেকেরই আশঙ্কা, বিষয়টি ব্রিটেনের অর্থনীতির ক্ষেত্রে বিপর্যয়কর হতে পারে। জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে শতাধিক পৃষ্ঠার পরামর্শপত্র দেয়া হবে। অন্তত ৮০ হাজার প্রতিষ্ঠানকে এই চিঠি ই-মেইল করা হবে।

এদিকে অর্থমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড এক বিবৃতিতে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন চাকরি, ব্যবসা ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইইউ থেকে বের হওয়ার এটিই সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা হতে পারে। 

ব্রিটেনের ইইউ ছাড়ার আর মাত্র ১৪ সপ্তাহ বাকি। 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে যে চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন, তা পার্লামেন্টের সমর্থন না পাওয়ায় কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই ব্রেক্সিটের দিকে এগুচ্ছে ব্রিটেন। তবে ওই খসড়া চুক্তিটি এখনই পুরোপুরি বাতিল করে দিতে চাইছেন না তিনি। বরং এটি নিয়ে আগামী মাসের মাঝামাঝি আবারো ভোটাভুটির ইচ্ছা আছে তাঁর। 

ধারণা করা হচ্ছে, চুক্তিটি গ্রহণ করার বিষয়ে এমপিদের এক ধরনের চাপে রাখতেই আবারো ভোটের ব্যবস্থা রাখতে চাইছেন মে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআইএস