Alexa ব্রুস লির অকাল মৃত্যুর কারণ

ঢাকা, সোমবার   ১৯ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৪ ১৪২৬,   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

ব্রুস লির অকাল মৃত্যুর কারণ

খালিদ মাহমুদ খান

 প্রকাশিত: ১৪:৫৫ ৩০ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৪:৫৫ ৩০ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

রাস্তায় বখাটে ছেলেদের হাতে মার খাওয়া থেকেই জীবনের দিক পরিবর্তন হয় ছেলেটির। এর সঙ্গে সঙ্গেই ছেলেটি মার্শাল আর্টে ঝুঁকে পড়ে। পরবর্তীতে সেই ছেলেটির হাত ধরেই মার্শাল আর্টকে চলচ্চিত্র রূপ দান করানো হয়। এতক্ষণ যে ব্যক্তির কথা বলা হচ্ছিল তিনি আর অন্য কেউ নন, মার্শাল আর্টের জনক তথা কিংবদন্তী ব্রুস লি। মার্শাল আর্ট জগতের কিংবদন্তী ব্রুস লির অকাল মৃত্যু এখনো পুরো পৃথিবীর কাছে অমীমাংসিত একটি রহস্য হয়েই আছে। হাজারো ভক্তকে চোখের জলে ভাসানো ব্রুস লির মৃত্যুর পেছনের কিছু গুপ্ত কারণ সম্পর্কে চলুন জেনে আসা যাক-

"ভাগ্যের নির্মম পরিহাস" এই প্রবাদটি বোধ হয় ব্রুসলির সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি যায়। একের পর এক বক্স অফিস কাঁপানো ছবি, মুভিতে নতুনত্বের ছোঁয়া, সর্বোচ্চ দর্শক জনপ্রিয় এই অভিনেতার মাত্র ৩২ বছর বয়সের মৃত্যু কারোর পক্ষেই মেনে নেয়া সম্ভব ছিলো না। তাই স্বভাবতই ব্রুস লির মৃত্যু নিয়ে রয়েছে নানা সন্দেহ এবং বিতর্ক। হঠাৎ করেই ১৯৭৩ সালে একটি চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের সময় ব্রুসলির মস্তিষ্কে প্রদাহ শুরু হয় এবং মস্তিষ্ক ফুলে উঠতে শুরু করে এবং মাথা ব্যথায় কাতর হয়ে যান তিনি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় সেরিব্রাল এডেমা। ‌

ডাক্তারদের সার্বিক চেষ্টায় ব্রুস লি সেই যাত্রায় মস্তিষ্কের সমস্যা থেকে মুক্তি পান কিন্তু সেই মুক্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি বরং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মস্তিষ্কের ফোলা কমতে শুরু করলেও আবারো ৬ সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে তা আবার পূর্বের রূপ ধারণ করে। ১৯৭৩ সালের ২০ জুলাই তার সহ-অভিনেত্রী বেটি টিং পেইর কাউলুনের বাড়িতে একটি সিনেমার শুটিং এর আলাপচারিতার উদ্দেশ্যে যান। হঠাৎ করেই তার সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে থাকা অবস্থায় ব্রুসলির মাথা ব্যথা শুরু হয় এবং তাকে ইকুয়াজেসিক নামে একটি পেইন কিলার খেতে দেয়া হয়। পেইনকিলারটি খাওয়ার পর ব্রুস লি ঘুমাতে যান কিন্তু ঘুম থেকে ব্রুস লিকে কোনোভাবেই উঠানো সম্ভব হচ্ছিল না বলে কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ডাক্তাররা তার জ্ঞান ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও বারবার ব্যর্থ হয় এবং কয়েক ঘন্টা পর ঘোষণা করা হয় যে মার্শাল আর্ট কিংবদন্তী ব্রুস লি মারা গেছেন।

মার্শাল আর্ট কিংবদন্তী ব্রুস লির মৃত্যু নিয়ে অনেকগুলো বিতর্ক থাকলেও কোনো কারণকেই প্রকৃত কারণ হিসেবে ধরা যায় না। কেউ কেউ বলেন যে অতিরিক্ত ড্রাগ নেয়ার কারণেই ব্রুস লির মৃত্যু হয়েছে, আবার কারো কারো ধারণা এই যে মস্তিষ্কে ইনজুরির কারণে ব্রুস লি মারা গেছেন। অনেকে এটিও বলে থাকে যে অস্বাভাবিক ডায়েটের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছিল আর স্বভাবতই মার্শাল আর্ট অনুশীলন করার সময় পর্যাপ্ত ডায়েট করতে হয়। ব্রুস লি কাঁচা মাংস, কাঁচা ডিম, এবং কাঁচা দুধ পান করতেন এছাড়া উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার তার খাদ্য তালিকায় রাখতেন যেগুলো তাকে সবসময় ফিট রাখতো।

তবে ব্রুস লির প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী পেইন কিলার এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার দরুন সৃষ্ট এলার্জির কারণে ব্রুস লি মৃত্যুবরণ করেছেন। ব্রুস লি নিয়মিত পেইন কিলার ব্যবহার করতেন মাথা ব্যথা থেকে রেহাই পেতে, তবে তার মৃত্যুর সরকারি রিপোর্টে বলা হয়েছে আকস্মিক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছিল। ব্রুস লি সম্পর্কে এমন গুজবও শোনা যায় যে চলচ্চিত্র পরিচালক ও মাফিয়াদের নির্মম চক্রান্তের শিকার হয়েছেন ব্রুস লি আর এসব পরিচালকই তার মৃত্যুর জন্য দায়ী। অবিশ্বাস্য জনপ্রিয়তা এবং তার সিনেমার বক্স অফিসের বিপুল চাহিদা দেখে কিছু পরিচালক ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে উঠেন। এমনকি কতিপয় পরিচালকেরা ব্রুসের ছবির সাথে বক্স অফিসের রেকর্ডে পাল্লা দিয়ে উঠতে পারছিলো না। সেই পরিচালকরাই হয়তো ক্ষিপ্ত হয়ে কোনোভাবে ব্রুস লি কে হত্যা করেছে। এছাড়াও হংকং-এর কিছু মাফিয়া লির উপর ক্ষিপ্ত ছিল। ব্রুস লিকে হত্যা করা ছাড়া তাদের পারস্পরিক সমস্যার সমাধান হবে না বলে তারা হয়তো এই পথ বেছে নিয়েছেন বলে অনেকে দাবি করে। এমনকি ব্রুস লীকে হত্যা করার জন্য ভাড়াটে খুনিও নিয়োগ দেয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।

কিছু কিছু মানুষ ধারণা করেন সেই অভিনেত্রীর বাড়িতে যেদিন ব্রুস লি পেইনকিলার খেয়েছিলেন সেদিনই হয়তো কিছু একটা হয়েছিল যেটির জন্য সে অভিনেত্রীকে দায়ী করা হয় যদিও এর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কয়েকজন ডাক্তার ধারণা করেন, অতিরিক্ত ক্যানাবিস সেবনের কারণে মৃত্যু হয়েছিল ব্রুস লির। তারা দাবি করেন হাশিস এবং মারিজুয়ানার মতো ড্রাগের কারণে ব্রুসলির মস্তিষ্ক ফুলে উঠেছিল। ডক্টর মিল্টন হালপার্ন নামক মার্কিন বিশেষজ্ঞ বলেছিলেন, ক্যানাবিসে বিষাক্ত কিছু থাকতে পারে বলে তার জানা নেই সেহেতু সেই রিপোর্টটি কিছু বিশেষজ্ঞকে বেশ অবাক করেছিল। বেশি ডোজের ক্যানাবিস সেবনে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে কিন্তু এই অত্যধিক বেশি ডোজ তো শুধুমাত্র গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে তা ব্রুস লি সেবন করবেনই বা কেন।

তবে সবকিছু ছাপিয়ে ব্রুস লির মৃত্যুর আরেকটি কারণ খুব বেশি প্রচলিত এবং তার পরিবার থেকেই ধারণা করা হয়, ব্রুস লির পরিবারের কোনো ছেলে সদস্যের মৃত্যুর সঙ্গে অভিশাপ জড়িত প্রকৃতপক্ষে এই অভিশাপের শুরু ব্রুস লির বাবাকে কেন্দ্র করেই। ব্যবসায়িক কারণে একবার ব্রুসলির বাবা লি হোয়ে চুয়েন ব্যবসায়িক সম্পর্কের জের ধরে কিছু চীনা ব্যবসায়ীকে ক্ষুব্ধ করে তোলেন এবং সেটি এমন পর্যায়ে চলে যায় যে ব্যবসায়ীরা চুয়েনকে অভিশাপ দেন এই বলে যে তার পরিবারের যে পুরুষ সদস্য জন্ম নেবে সেই অকালে মৃত্যুবরণ করবে এবং ব্রুস লির বড় ভাইয়ের অকাল মৃত্যুতে সেই সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয় যার কারণে ব্রুস লিকে ছোটবেলা থেকে পরিবারের সদস্যরা ফান বলে ডাকতেন আর ফান শব্দটি সচরাচর মেয়েদের নামের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়।

তবে যে কারণটিই সত্যি হোক না কেন চলচ্চিত্র প্রেমিকরা নিঃসন্দেহে হারিয়েছিল চলচ্চিত্রে নতুন মাত্রা সংযোজন করা এক মহান পুরুষকে যারা আজও ইশ! এই চরিত্রে যদি ব্রুস লি অভিনয় করতো এটি বলে আফসোস করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস

Best Electronics
Best Electronics

শিরোনাম

শিরোনামকুমিল্লার বাগমারায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নারীসহ নিহত ৭ শিরোনামবন্যায় কৃষিখাতে ২শ’ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হবে না: কৃষিমন্ত্রী শিরোনামচামড়ার অস্বাভাবিক দরপতনের তদন্ত চেয়ে করা রিট শুনানিতে হাইকোর্টের দুই বেঞ্চের অপারগতা প্রকাশ শিরোনামচামড়া নিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সমাধানে বিকেলে সচিবালয়ে বৈঠক শিরোনামডেঙ্গু: গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১৭০৬ জন: স্বাস্থ্য অধিদফতর শিরোনামডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন দুপুরে আদালতে উপস্থাপন শিরোনামডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমছে: সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক শিরোনামইন্দোনেশিয়ায় ফেরিতে আগুন, দুই শিশুসহ নিহত ৭ শিরোনামআফগানিস্তানে বিয়ের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, নিহত বেড়ে ৬৩