ব্রিজের জন্য দুর্ভোগে ৩০ গ্রাম

ঢাকা, রোববার   ১৬ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ২ ১৪২৬,   ১১ শাওয়াল ১৪৪০

ব্রিজের জন্য দুর্ভোগে ৩০ গ্রাম

 প্রকাশিত: ১৫:৫৬ ৯ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১৫:৫৬ ৯ অক্টোবর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

হবিগঞ্জে একটি ব্রিজের জন্য দুর্ভোগ পড়েছে হবিগঞ্জ ও মৌলভী বাজারের ৩০ গ্রামের সাধারণ মানুষের। দুই জেলার সংযোগস্থল এরাবরাক নদীতে ব্রিজ না থাকায় এ দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।ব্রিজ না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে শিক্ষার্থীসহ হাজারা মানুষ।বাঁশের সাঁকো ও নৌকা দিয়ে চলাচলই এখন তাদের একমাত্র ভরসা। 

এরাবরাক নদীর এপারে হবিগঞ্জ আর ওপারে মৌলভী বাজার। দুই জেলার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি যেন ওই নদীটির উপর একটি ব্রিজ করা হয়। কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের দেয়া আশ্বাস শুধু আশ্বাসই থেকে যায়। মৌলভী বাজারের মানুষ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের জন্য হবিগঞ্জে আউশকান্দি বাজারে আসতে হয়। এছাড়াও ওই এলাকার শিক্ষার্থীরা আউকান্দির.প উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজসহ নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানে লেখাপড়া চালিয়ে আসছে। আর এতে করে পড়া লেখায়ও বিঘ্ন ঘটছে ওইসব শিক্ষার্থীদের। 

দুর্ভোগ পোহানো গ্রামগুলো হল, মৌলভীবাজার জেলার কেশবচর, সাবটিয়া, দেওয়াননগর, হলিমপুর, ঘোড়ারাই, কাটারাই, কাঞ্চনপুর, চানপুর, নামুয়া, খলিলপুর ও সাদুহাটি। হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার মিঠাপুর, ফরিদপুর, নোয়াহাটি, সিটফরিদপুর, ধর্মনগর, আলমপুর, নাজিমপুর, ফরাসতপুর, বখশিপুর, মুকিমপুরসহ আরও বেশ কয়েকটি গ্রাম। 

এদিকে, প্রায় ৩শ মিটার প্রশস্ত নদীটিতে একটি সেতু না থাকার ফলে একদিকে যেমন ওইসহ গ্রামের লক্ষাধিক সাধারণ মানুষদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ অন্যদিকে, একটি সেতুর অভাবে ওই এলাকার লোকজন আধুনিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সাথে বঞ্চিত থাকতে হচ্ছে আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকেও। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না থাকায় সবচেয়ে বেশি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গর্ভবতী মা ও শিশুরা। 

আলতাফ উদ্দিন নামে এক বৃদ্ধ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভোটের সময় আসলে প্রার্থীরা আমাদের ব্রিজটি নির্মাণ করে দেবে বলে শুধু আশ্বাস দেয়। আর ভোট চলে গেলে তাদের আরও খুঁজে পাওয়া যায় না। আমরা বাশের তৈরি সাঁকোটি দিয়ে পার হতে পারি না। তবুও অনেক কষ্ট করে পার হতে হয় জীবিকার তাগিদে। তাই তিনি সরকারের কাছে দ্রুত একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান। 

কেশবচর গ্রামের কৃষক এনায়েত উল্লাহ বলেন, আমাদের চাষাবাদের জমি নদীর দুই পারেই রয়েছে। তাই চাষাবাদ করার সময় কৃষি যন্ত্রপাতি এপার থেকে ওপার দিয়ে আনা কষ্ট হয়ে যায়। এছাড়াও গরু বাছুর ত সাঁকো দিয়ে আনা যায়ই না। ফসল আনা-নেয়া করতে হয় কষ্টের পাশাপাশি ব্যয় বেশি হয়ে যায়। তাই সেতুটি নির্মাণ করা হলে আমরা উভয় পাড়ের লোকজন উপকৃত হবে।

শিক্ষার্থী রেদুয়ান আহমেদ জানান, স্কুলে আসা যাওয়ার সময় অনেক সময়ই তাড়াহুড়া করে আসতে হয়। সাঁকোটি পারাপার হওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। অনেক সময় আবার কেউ কেউ নদীতে পড়ে যায়। আর এতে করে বই খাতাসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নদীতে তলিয়ে যায়। ফলে মাঝে মধ্যে স্কুলে যাওয়া সম্ভব হয় না। 

এদিকে প্রায় বছরখানেক পুর্বে মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসিন ও হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনের সংসদ সদস্য এমএ মুনিম চৌধুরীকে অতিথি করে উভয় জেলার বাসিন্দাদের উদ্যোগে এক সভা করা হয়েছিল। ওই সভায় উভয় সংসদ সদস্যই সেতুটি নির্মাণ করে দেবেন বলে আশ্বস্থ করেন। কিন্তু তাতেও কোন আগ্রগতি হয়নি।

ডেইলি বাংরাদেশ/জেডএম