Alexa ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৯ ১৪২৬,   ২৪ মুহররম ১৪৪১

Akash

ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত

 প্রকাশিত: ১৮:৩০ ২২ অক্টোবর ২০১৭  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে শহীদ মিনার চত্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের শুভ উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। এ সময় ট্রেজারার অধ্যাপক মো. সেলিম ভূঁইয়া, ডিন, রেজিস্ট্রার, চেয়ারম্যান, পরিচালক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের নেতৃত্বে ব্যান্ডদলে সুসজ্জিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহীদ মিনার চত্বর হতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে রায় সাহেব বাজার মোড় ঘুরে, ভিক্টোরিয়া পার্ক পরিক্রমণ করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শেষ হয়। এ সময় ছাত্র-ছাত্রীরা নানা রঙ-বেরঙের টি-সার্ট ও শাড়ি পরে নেচে গেয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। এ ছাড়া প্রতিটি বিভাগের শিক্ষক-ছাত্রছাত্রী, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা নিজস্ব বিভাগীয় ব্যানারে অংশগ্রহণ করে।

এরপর সকাল ১১টায় বিজ্ঞান ভবন চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, `আইন অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক যুগ পূর্তি হলেও প্রকৃতপক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এর কার্যক্রম শুরু হয় ২০১১ সাল থেকে। এই ১২ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় চ্যালেঞ্জ ছিল কালচারাল পরিবর্তন সাধন করা।

কলেজের কালচার থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমরা গুরুত্ব সহকারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পরিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি প্রবর্তনের জন্য এমফিল, পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু করার মধ্য দিয়ে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করি। অতীতে জার্নাল ছাড়া আমাদের অন্য কোনো প্রকাশনা ছিল না। এবার আমরা ১২ বছরে এসে প্রকাশনা কার্যক্রম শুরু করেছি।`

তিনি আরো বলেন, `একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল সম্পদ হলো মেধাবী শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। এই সম্পদের উন্নয়ন ঘটে গবেষণার মাধ্যমে নুতন জ্ঞান অন্বেষণে। যদিও আমাদের অবকাঠামোগতসহ বেশ কিছু সমস্যা বিদ্যামান রয়েছে, সেগুলো দূরীকরণে কাজ করছি। অবকাঠামোগত সমস্যা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের বাধা হতে দেয়া হবে না। কেরানীগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিশ্বমানের আবাসিক হল, ক্লাসরুম, লাইব্রেরি, জিমনেসিয়াম, মেডিক্যাল সেন্টার, খেলার মাঠ, বোটানিক্যাল গার্ডেন, গবেষণা কেন্দ্রসহ অন্যান্য অবকাঠামোসমূহ নির্মাণ করা হবে।`

আলোচনা সভায় রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামানের সঞ্চালনায় ট্রেজারার অধ্যাপক মো. সেলিম ভূঁইয়া, ডিনদের পক্ষ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. প্রিয়ব্রত পাল, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তরিকুল ইসলাম তুর্য ও সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নাল আবেদীন রাসেল প্রমুখ বক্তব্য প্রদান করেন। এদিকে ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ বার্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক শিক্ষকদের গবেষণাধর্মী পাণ্ডুলিপি পুস্তাকারে প্রথম প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

আলোচনা অনুষ্ঠানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় সংগীতানুষ্ঠান। এতে নৃত্য, দলীয় সংগীত, নজরুল গীতি, লোক সংগীত ছিলো উল্লেখযোগ্য। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় বিজ্ঞান ভবন চত্বরে আয়োজিত কনসার্টে গান পরিবেশন করেন ব্যান্ড দল দলছুট। পরে কনসার্ট শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৫টায়। এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সকলে উদ্বেলিত ও উৎফুল্ল হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একযুগ পূর্তি উদযাপন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০১৭ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনসমূহ আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে