ব্যাংক নয় বৃদ্ধি হোক ভালবাসা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৭ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১৩ ১৪২৬,   ২২ শাওয়াল ১৪৪০

ব্যাংক নয় বৃদ্ধি হোক ভালবাসা

 প্রকাশিত: ১৩:১৯ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৫:১৪ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

রাজনীতিক-কলামিস্ট-ব্লগার ও শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত মুখ মোমিন মেহেদী। তিনি বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার আন্দোলন জোটের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন ২০০৪ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত। পাশাপাশি একটি বৃহৎ ছাত্র সংগঠনের শীর্ষস্থানিয় নেতা হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি নতুনধারা বাংলাদেশ-এনডিবি’র চেয়ারম্যান-এর দায়িত্ব পালন করছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা ৪৪।

আমাদের দেশ শেষ সীমায় পৌঁছেছে দুর্নীতির। তবুও তাদের জৌলুস কমেনি, একবারের জন্যও ভাবনা জমেনি মনে; যাদের রাজনীতি ক্ষমতকে আকড়ে বেড়ে উঠেছে। 

যাদের রাজনীতি অর্থনীতি-শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি-সমাজ ও ধর্মকে ধ্বংস করার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। হয়তো একারনেই বাড়ছে ব্যাংক, ব্যাংকের মালিক আর কেউ কেউ আঙ্গুল ফুলে কলা গাছে পরিণত হচ্ছে; কেউ নিঃশ্ব হয়ে যাচ্ছে; আবার কেউ কেউ আটকে যাচ্ছে অজ্ঞাতশত্রু ও রাজনীতির গ্যারাকলে। যেমন- মোট ১১শ’ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের পৃথক চার মামলায় ক্রিসেন্ট গ্রুপের মালিক এমএ কাদেরের মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। দুর্নীতির দায় নিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে এগিয়ে চলা লোভাতুর প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা পৃথক চার মামলায় আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে প্রত্যেক মামলায় ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। 

দুদকের সহকারী পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান আসামির রিমান্ডের এ আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৪৫৪ কোটি ১০ লাখ ও ৫০০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা আত্মসাতের দুই মামলায় তিন দিন করে মোট ৬ দিন এবং ৬৮ কোটি ৩৪ লাখ ও ৭৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের দুই মামলায় দুই দিন করে মোট ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

গত ১০ বছর কাদেরের রাজনৈতিক আদর্শ বা দুর্নীতি নিয়ে কোন কথা না আসলেও যখন অজ্ঞাতশত্রুদের আঁতে ঘা লেগেছে, তখনই দুদক নড়েচড়ে উঠেছে; আবার তাদের পক্ষ থেকেই বলা হচ্ছে- মেসার্স ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লিমিটেডের নামে রফতানি ঋণ সুবিধা গ্রহণ করে ৬৮ কোট ৩৪ লাখ ৯৫ হাজার ১২০ টাকা, লেক্সকো লিমিটেডের নামে ৭৪ কোটি ৩৮ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৯ টাকা, মেসার্স রূপালী কম্পোজিট লেদার ওয়্যার লিমিটেডের নামে ৪৫৪ কোটি ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৩৮৪ টাকা এবং মেসার্স ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেডের নামে ৫০০ কোটি ৬৯ লাখ ৪৪ হাজার ৮৯৯ টাকা আত্মসাৎ ও পরবর্তী সময়ে তা স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ারম্যান এমএ কাদের। অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের এ অভিযোগে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর চকবাজার থানায় এ মামলাগুলো দায়ের করা হয়। প্রতিটি মামলায় এমএ কাদেরসহ ১৬ থেকে ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। একই সাথে দীর্ঘপরক্রমার পর এসে সোচ্চার হওয়া আমাদের তথাকথিত দুদক বলছে- ক্রিসেন্ট লেদার ৪২২ কোটি ৪৬ লাখ, রিমেক্স ফুটওয়্যার ৪৮১ কোটি ২৬ লাখ টাকা ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ ১৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকার পণ্য বিদেশে এক্সপোর্টের মাধ্যমে ওই টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। 

এমন নিত্যদিনের ঘটনা যখন জগদ্দল পাথর হয়ে এগিয় আসছে অর্থনীতি ধ্বংস করে দিতে; তখন বেসরকারি খাতে আরও তিনটি নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। ব্যাংকগুলো হল- বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, সিটিজেন ব্যাংক ও পিপলস ব্যাংক। একইসঙ্গে এসব ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৪০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। তবু ব্যাংকের মালিক হতে পিছপা হননি আমাদের দেশের ধনকুবেরগণ। কেননা, তারা সবাই-ই কোন না কোনভাবে কাদের-এর পথের পথিক। কোন না কোনভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিকে ব্যবহার করে অর্থনীতির রাস্তায় অগ্রসর। হয়তো তার সূত্রতায়- ২০১৭ সাল থেকে নতুন তিনটি ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম যাচাই-বাছাই করার পর পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ সন্তুষ্টচিত্তে এগুলোকে এলওআই (লেটার অব ইন্ট্যান্ট) দেয়ার সম্মতি জ্ঞাপন করেছে। 

অবশ্য সরকার হয়তো মনেই রাখেনি যে, নতুন নয়টি ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে সেগুলোও জাল জালিয়াতির দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। বেড়ে গেছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। ফলে এগুলোর অবস্থাও নাজুক। এর আগে নতুন ব্যাংক আসলেও ব্যাংকিং খাতে কোনো প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করতে পারেনি। তাছাড়া নতুন যে ব্যাংকগুলো অনুমোদিত হলো; তার গভীরে গেলে দেখা যাবে ভয়াবহ দুর্নীতি-তথ্য সহ ব্যাংকগুলো যাত্রা করছে। বিশেষ করে বললে বলা যায়- বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের মালিকানায় রয়েছে বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ড্রাস্টিজ। গ্রুপের চেয়ারম্যান হলেন আওয়ামী লীগের এমপি মোরশেদ আলম। একই গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান হলেন জসিম উদ্দিন। তিনি বাংলা ব্যাংকের পর্ষদের চেয়ারম্যান।

সূত্র জানায়, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক তিনজনের বিষয়ে উচ্চ আদালতে কর সংক্রান্ত মামলা চলছিল। সেগুলো নিষ্পত্তি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জানানোর পর পর্ষদ সেটির অনুমোদন দেয়। পিপলস ব্যাংকের পর্ষদের চেয়ারম্যান হলেন আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্র শাখার নেতা এমএ কাসেম। বিদেশে তার কী পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়ার নিয়ম রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সেটি বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানোর ফলে পর্ষদ এর অনুমোদন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সিটিজেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মা জাহানারা হক। এ ব্যাংকের প্রস্তাবে কিছু ঘাটতি ছিল। সেগুলো ঠিকঠাক করে উপস্থাপন করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। সেগুলো ঠিক করে আবার উপস্থাপন করায় এবার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর আগে এ তিনটি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদে উঠেছিল। কিন্তু তাদের ওইসব ঘাটতি থাকায় অনুমোদন দেয়া হয়নি। এগুলো ঠিক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দেয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেগুলো পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। টানা দুই মেয়াদ ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার প্রথম মেয়াদে নয়টি নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেয়। বর্তমানে দেশে ব্যাংকের সংখ্যা ৫৮টি। এর মধ্যে ৪০টি বেসরকারি খাতের, ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ত ও ৯টি বিদেশি ব্যাংক রয়েছে। পুলিশ ব্যাংকসহ নতুন চারটি ব্যাংক অনুমোদন দেয়ার দেশে বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা হবে ৪৪টি। সব মিলিয়ে দেশে তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়াবে ৬২টি। দেশ পরিচালনায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার দুই মেয়াদে এ নিয়ে ১৪টি ব্যাংকের অনুমোদন দিল।

বাস্তবতা হলো- রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন ব্যাংক দেয়ার ব্যাপারে বিরোধিতা করে আসছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, ব্যাংক খাতে রাজনীতি টেনে আনা উচিত হবে না। তাদের এ মতামত উপেক্ষা করে সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায়ই নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দিচ্ছে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও বলা হয়েছিল দেশের অর্থনীতির আকার অনুযায়ী নতুন ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। কিন্তু তাদের সে মতামতও উপেক্ষা করে নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে। তবে বরাবরের মত অবিরত আমি চাই সমাধান। নতুন প্রজন্মের রাজীতিক হিসেবে বাংলাদেশকে ভালোবেসে বলতে চাই- বেসরকারি খাতে আরও তিনটি নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স এমন সময় দেয়া হল যখন ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। জালিয়াতি ও লুটপাটে ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ লাগামহীনভাবে বেড়ে গেছে।

দিনদিন ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের আদালত থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার আদালত থেকে এক কোটি টাকার বেশি ঋণখেলাপিদের ঠিকানাসহ তালিকা চাওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। একই সঙ্গে বিদেশে অর্থ পাচার এবং সেগুলো ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়া যায় সে বিষয়ে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০ বছরে ব্যাংকিং খাতে ঋণের নামে অর্থ আত্মসাৎ, ঋণ বিতরণে অনিয়ম, সুদ মওকুফ সংক্রান্ত অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না সে বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়েছে। অর্থনীতির নগণ্য বিশ্লেষক হিসেবে বলবো- বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর যখন এমন অবস্থা তখন নতুন ব্যাংক অনুমোদন দেয়ায় কী পরিস্থিতি হয় তা দেখার বিষয়। তাদের মতে, ব্যাংকিং খাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি না বাড়ানো হলে এ খাতে আরও বিপর্যয় দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই সঙ্গে আরেকটি বিষয় হলো- টেকসই অর্থনীতি ও উন্নয়নের পূর্বশর্ত যেহেতু গণতন্ত্র। সেহেতু গণতন্ত্র আর সুশাসন না থাকলে অর্থনীতি ও উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়বে বলে আমি মনে করি। 

যদিও আমি ড. আকবর আলি খান-এর এই কথার সঙ্গে পুরোপুরি একমত না; যে কথাটি তিনি সম্প্রতি বলেছেন-‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল- দেশে এখন কোনো গণতন্ত্র আছে কি না। বর্তমানে দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল গণতন্ত্র। 

তিনি বলেন, গণতন্ত্র ছাড়া সুশাসন হবে না। আর সুশাসন না হলে উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য। তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলো বর্তমানে উত্তরাধিকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সত্যিকারের দল করতে চাইলে দলগুলোকে গণতান্ত্রিক হতে হবে। দেশের দলগুলোর মধ্যে দ্বিমত বা নানা মতের আলাপ-আলোচনা থাকতে হবে। কিন্তু সেটি নেই। আছে শুধু হালুয়া-রুটির ভাগবাঁটোয়ারা।’ তিনি সম্প্রতি অর্থনীতি ও উন্নয়ন নিয়ে আরো বলেছেন- তৃতীয় কোনো গণতান্ত্রিক দলের আগমন হলে অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে। এছাড়া গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন একসঙ্গে চাইলে হবে না। পর্যায়ক্রমে এগোতে হবে। এজন্য প্রথম দরকার গণতন্ত্র। এটি প্রতিষ্ঠিত হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে। আর সুশাসন প্রতিষ্ঠা হলে উন্নয়ন হবে। এখন দেশে যে উন্নয়নের ম্যাজিক দেখছেন, তা হল বিদেশে কর্মরত প্রবাসী, পোশাক খাতে কর্মরত শ্রমিক এবং কৃষকের অবদান। এ ধারা অব্যাহত রাখতে হলে সুশাসন প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশে যে গণতন্ত্র আছে, তাতে নানা ত্রুটি আছে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে একটা পরিবর্তন দরকার।’

এই পরিবর্তনে নতুন প্রজন্মকে কতটা সহযোগিতা করছেন বা করেছেন ড. আকবর সাহেব; তা আমার জানা নেই। তবে এতটুকু জানি নতুন প্রজন্মেররাজনীতিক হিসেবে- বাংলাদেশকে ভালোবেসে সবাই এগিয়ে আসে না। কেউ কেউ আসে। সেই এগিয়ে আসা মানুষদের তালিকায় আমাদের ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদ সালাম আছেন, আছেন জব্বার, রফিক সহ অনেক ভাষাসৈনিক। জীবিতও আছেন অনেকে। একই সাথে স্বাধীনতা যুদ্ধেও বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, হামিদুর সহ লক্ষ লক্ষ শহীদ আছেন; আছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গণ; আছেন বীরাঙ্গণাদের একটা লম্বা মিছিল। এই মিছিলের পাশাপাশি স্বৈরাচার বিরোধী নূর হোসেন, জিহাদ, ডা. মিলনও আছেননিবেদিত নাম হিসেবে। বরাবরের মত অবিরত চাই এমন নিবেদিত মানুষদেরকে; যারা রাজনীতিকে কখনো নিজের ভাগ্য বা দলের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য ব্যবহার করবেন না। বরং শিক্ষা-খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান ও চিকিৎসার অধিকার রক্ষায় নিবেদিত থাকবে। ব্যাংক বাড়বে না; দৃঢ় হবে অর্থনীতির ভিত্তি, আদালত বাড়বে না; আইনের প্রতি সম্মান বৃদ্ধি পাবে, থানা বা ফাঁড়ি বাড়বে না; নিয়ন্ত্রিত হবে অন্যায়-অপরাধ। এমন চিন্তায় আমরা এগিয়ে যেতে চাই। বলতে চাই- ‘বিজয় বাংলাদেশ’। ভাষা আন্দোলনের মাসে সবার আগে গড়ে তুলতে হবে বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা। সেই ভালোবাসায় আঁধার দূর হবে; ভয়াবহতা কমবে, বিশ্বাসের উপর ভর করে এগিয়ে যাবো বিনম্র ভালোবাসা-শ্রদ্ধায়...  

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর