ব্যক্তিগত সম্পর্কের খপ্পরে জবি বাঁধন, অফিসে তালা

ঢাকা, শুক্রবার   ১০ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৭ ১৪২৬,   ১৬ শা'বান ১৪৪১

Akash

ব্যক্তিগত সম্পর্কের খপ্পরে জবি বাঁধন, অফিসে তালা

জবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪৮ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) বাঁধন ইউনিটের অফিসে তালা দিলো ২০১৯ কমিটির কার্যনির্বাহী ও সাধারণ কর্মীরা। দীর্ঘদিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বাঁধন ইউনিটের ২০২০ কমিটি নিয়ে মতবিরোধ হয়ে আসছিলো। তারই প্রেক্ষাপটে ২০১৯ কমিটি নতুন কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়েছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ২০১৯ কমিটির সভাপতি নিয়াজ শরীফ টুটুলের সভাপতিত্বে ২০২০ কমিটি অবৈধ ঘোষণা করা হয় এবং সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ২০১৯ কমিটি বাঁধন ইউনিট পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেন।

জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বাঁধন ইউনিটের ২০২০ কমিটি গঠনের পক্রিয়ায় উপদেষ্টাদের হস্তক্ষেপে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে ছাত্র উপদেষ্টা মকবুল হাসান সোহান, আমিনুল হক রবিন ও আক্তারুজ্জামান আতিকের বিরুদ্ধে সরাসরি অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ২০২০ কমিটি গঠনে স্বজনপ্রীতি, দক্ষ কর্মীদের মুল্যায়ন না করা ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগ উল্লেখ করে কর্মীদের পক্ষ থেকে সভাপতি প্রধান শিক্ষক উপদেষ্টা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন এবং এ বিষয়ে সেন্ট্রাল ও জোনকেও জানানো হয়।

জবি বাঁধন ইউনিটের সমস্যা সমাধানে সেন্ট্রালের পক্ষ থেকে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানানো হয়। কিন্তু সেই কমিটির কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। আবার শিক্ষক উপদেষ্টারা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও জবির ইউনিটের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছেন। গত সোমবার বাঁধন কর্মীদের উভয় পক্ষের সাথে শিক্ষক উপদেষ্টা বসেও কোনো সমাধান করতে পারেননি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বাঁধন ২০১৯ কমিটির সভাপতি নিয়াজ শরীফ বলেন, সাবজেক্ট কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গঠিত কমিটিতে দক্ষ কর্মীদের মূল্যায়ন না করা এবং কমিটি গঠনে অনিয়ম করায় ২০১৯ কমিটির কার্যকরি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সম্মতিক্রমে ‘কার্যকরি পরিষদ ২০২০’ পাস করা হলো না। পরবর্তি কার্যকরি পরিষদ গঠন না করা পর্যন্ত ২০১৯ কমিটি অফিস পরিচালনা করবে। 

তিনি আরো বলেন, অফিসের নিরাপত্তার জন্য আগে ব্যবহারিত দুটি পুরাতন তালা পরিবর্তন করে নতুন তালা লাগানো হয়েছে।

অভিযোগ আছে, নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাসনিম জান্নাতির সঙ্গে ছাত্র উপদেষ্টা মীর মাহফুজুর রহমান এবং কোষাধ্যক্ষ জান্নাতুল ফেরদৌসি তমার সঙ্গে ছাত্র উপদেষ্টা আমিনুর রহমানের ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। এই দুইজন ছাত্র উপদেষ্টা সাবজেক্ট কমিটিতে না থাকলেও তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কর্মীদের পদে নিয়ে আসেন। এজন্য সস্ক্রিয় কর্মীরা পদ থেকে বঞ্ছিত হয়। এছাড়াও নতুন কমিটির বর্তমান কমিটির মাসিক সভায় পাশের নিয়ম থাকলেও ছাত্র উপদেষ্টারা তা করতে দেননি। এমন অনিয়ম না করে গঠনতন্ত্রের নিয়ম মেনে কমিটি করার অনুরোধ করি কিন্তু তারা তা আমলে না নিয়ে বিগত কমিটির নামে নানা  মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হেনস্থা করছে তারা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম