.ঢাকা, শুক্রবার   ২২ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৭ ১৪২৫,   ১৫ রজব ১৪৪০

ব্যক্তিগত কম্পিউটারের অজানা ইতিহাস (দ্বিতীয় পর্ব)

মেহেদী হাসান শান্ত

 প্রকাশিত: ১১:৪৮ ১৩ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১২:০২ ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক সময়ে আমরা অ্যাপল, এইচপি বা ডেল-এর যেসব কম্পিউটার ব্যবহার করি, মূল কম্পিউটারের কাঠামো ও কার্যপদ্ধতি কিন্তু এসবের ধারে কাছেও ছিলো না! প্রথম দিকের কম্পিউটারকে বলা যায় মেশিনের সহায়তায় পরিচালিত এক ঠুঁটো জগন্নাথ, যাতে ব্যবহার করা হতো অনেক রিলে, টেলিফোন সম্বন্ধীয় যন্ত্রপাতি ও বায়ুশূন্য টিউবের মত কাঠামো।

প্রযুক্তির ইতিহাসে পিসি বা পার্সোনাল কম্পিউটারের আবিষ্কার সত্যিকার অর্থেই মানব সভ্যতার জন্য বড় একটি উল্লম্ফন ছিলো। এটি সম্ভব হয়েছিল মাইক্রোপ্রসেসরের উৎকর্ষতার জন্য, যা উৎপাদন খরচ কমিয়ে এই দারুন ও জটিল যন্ত্রকে অনেক স্বল্প মূল্যে বিক্রয়ের উপযুক্ত করে তোলে এবং পাশাপাশি জনসাধারণের জন্য এর ব্যবহার সহজবোধ্য করে তোলে। এই আয়োজনের আজ দ্বিতীয় পর্ব-

প্রথম পর্ব পড়ুন- ব্যক্তিগত কম্পিউটারের অজানা ইতিহাস

১৯৮৪: পার্সোনাল কম্পিউটারের দুনিয়ায় অ্যাপলের রাজত্ব চলতে থাকে। সে অবস্থান আরো পাকাপোক্ত হয় তাদের ম্যাকিনটোশ রিলিজ দেয়ার পর। এ কম্পিউটারে সর্বপ্রথম গুই বা গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস ব্যবহার করা হয়। যা আধুনিক কম্পিউটারের সবচেয়ে কার্যকরি অংশের মধ্যে একটি। ম্যাকিনটোশ এ অসাধারণ গ্রাফিক্স ছিলো ম্যাকপেইন্ট প্রোগ্রামের ফল। এ বছরই কম্পিউটারের ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক যুক্ত হয়। সেটি হচ্ছে সিডি রম-এর ব্যবহার। যা কম্পিউটারকে উপহার দেয় আরো বেশি স্টোরেজ এবং সহজে ডাটা ম্যানেজমেন্টের ক্ষমতা।

কম্পিউটারে উইন্ডোজ ১.০

১৯৮৫: এ বছরই উদ্ভাবন হয় উইন্ডোজ ১.০ । এটি ছিলো মাইক্রোসফট ডস-এর উত্তরসূরী। ম্যাকিন্টোসের যুগান্তকারী গুই ইন্টারফেস সংযুক্ত হয়েছিলো উইন্ডোজে। বিল গেটস উইন্ডোজকে পরিচিত করে দিয়েছিলেন ‘পেশাদার কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের জন্য একটি মৌলিক সফটওয়্যার’ হিসেবে। এতে ব্যবহার করা হয়েছিলো ড্রপডাউন মেনু, আইকন, স্ক্রলবার, ইনফর্মেশন বক্স এবং এমএস পেইন্ট নামে বহুল জনপ্রিয় ফিচার।

১৯৮৮: এ বছর মুক্তি পায় কম্প্যাক এসএলটি ২৮৬ মডেলের ল্যাপটপ, যাতে সর্বপ্রথম ভিজিএ (ভিডিও গ্রাফিক্স অ্যারে) ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়।

১৯৯০: উইন্ডোজ ১.০-এর আরো উন্নত ভার্সন উইন্ডোজ এনটি মুক্তি পায় এ বছর। এটিতেও ব্যবহার করা হয়েছিলো গুই স্টাইলের ইন্টারফেস। এসবই অ্যাপলের ম্যাকিন্টোসের অনুকরণে তৈরি হবার কারণে সফটওয়্যার নিয়ে অ্যাপল এবং মাইক্রোসফট এর মধ্যে আইনি লড়াই জমে ওঠে। এ বছরই টিম বার্নার্স লি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব তৈরি করেন, যা সর্বপ্রথম আমাদের ইন্টারনেট সম্পর্কে ধারণা দেয়। এ প্রজেক্টে অন্তর্ভুক্ত ছিলো এইচটিটিপি-যেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট প্রটোকল, ওয়েব কোডিং ল্যাঙ্গুয়েজ এইচটিএমএল। আরো ছিলো সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত ওয়েব ব্রাউজার, ওয়েব সার্ভার এবং ওয়েব পেজ এর সমাহার।

১৯৯৪: বাজারে আসে অ্যাপলের পাওয়ার ম্যাকিনটোশ। ডিজিটাল মিডিয়া ও গ্রাফিক ডিজাইনারদের মাথায় রেখে বানানো হয় এ কম্পিউটারটি। এ বছরই নেটস্কেপ নিয়ে এসে তাদের যুগান্তকারী ওয়েব ব্রাউজার, যেটি ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে করে তোলে বেশ সহজ।

১৯৯৫: অপারেটিং সিস্টেমের দুনিয়ায় এ যাবৎকালে সম্ভবত সবচেয়ে জনপ্রিয় মাইক্রোসফট ৯৫ মুক্তি পায় এ বছর। এর ব্যাপক সফলতার কারণে বেশ কয়েক বছর অপারেটিং সিস্টেমটি সকলের পছন্দের শীর্ষে অবস্থান করে। এটি ছিলো সর্বপ্রথম উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম, যেখানে বিল্ট-ইন ইন্টারনেট সাপোর্ট দেয়া ছিলো। আরো ব্যবহার করা হয়েছিলো প্লাগ এন্ড প্লে কনসেপ্ট।  সংযুক্ত হয়েছিলো উইন্ডোজ-এর যুগান্তকারী স্টার্ট বাটন, টাস্কবার ও মিনিমাইজ/ম্যাক্সিমাইজ এবং ক্লোজ অপশন।

১৯৯৮ সালে গুগলের জন্ম হয়

১৯৯৮: সবার প্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগল-এর জন্ম হয় এ বছর। ওয়েব ব্রাউজিং এর ক্ষেত্রে গুগল অসাধারণ উন্নতি সাধন করে, তাদের একক কল্যাণে বহু মানুষ ইন্টারনেটে আসক্ত হয়।

১৯৯৯: অ্যাপল রিলিজ করে তাদের নতুন আই বুক, যাতে ছিলো ওয়াইফাই স্লট। ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড ওয়ারলেস প্লাটফর্মগুলোর সাথে খুব সহজেই সমন্বয় সাধন করে না এই ডিভাইসটি। পরবর্তীতে অন্যান্য ব্র্যান্ডগুলোও অ্যাপলকে অনুসরণ করে। তারবিহীন এ প্রযুক্তি হোম কম্পিউটিংকে দেয় ভিন্নমাত্রা। ওয়াইফাই রেঞ্জ-এর মধ্যে থেকে যে কোনো জায়গায় ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা সত্যিই মানুষের কাছে বেশ ভালো গ্রহণযোগ্যতা পায়।

২০০০: এ বছরই সর্বপ্রথম বাজারে ইউএসবি ফ্লাশ ড্রাইভ বিক্রি হওয়া শুরু হয়। ডাটা ম্যানেজমেন্টকে তা করে আরো উন্নত।

২০০১: আমাদের প্রজন্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত উইন্ডোজ এক্সপি বাজারে আসে এ বছর। এক্সপি ছিলো অন্য সব কম্পিউটার কোম্পানিদের ধরাছোঁয়ার বাইরের এক প্রযুক্তি! এর অসংখ্য ভার্সন পরবর্তীতে রিলিজ পেয়েছে। রিমোট ডেস্কটপ, সিস্টেম রিস্টোর ও এনক্রিপটিং ফাইল সিস্টেম এর মতো সর্বাধুনিক সব প্রযুক্তি সাপোর্ট করতো উইন্ডোজ এক্সপিতে। এই অপারেটিং সিস্টেমটি একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে কম্পিউটারের অভিজ্ঞতাকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে যায়, সে কথা বলাই বাহুল্য।

ডেইলিবাংলাদেশ/এনকে