Alexa বৌলতলীতে অর্থনৈতিক অঞ্চলের দাবি

ঢাকা, বুধবার   ২১ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৬ ১৪২৬,   ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

বৌলতলীতে অর্থনৈতিক অঞ্চলের দাবি

 প্রকাশিত: ১৮:২০ ৭ জুন ২০১৮  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী বা  আশপাশ এলাকায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ এখন এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি হয়ে উঠছে।

এরইমধ্যে জেলাবাসী গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ ফজলে বলেছেন, প্রথম ধাপেই গোপালগঞ্জে গড়ে উঠতে যাচ্ছে দু’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল।

অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ করে পাঠানো হয়েছে। এ কারনেই উত্তর গোপালগঞ্জের উলপুর, দূর্গাপুর, করপাড়া, বৌলতলী, সাতপাড়, সাহাপুর, সিংগা, জলিরপাড়, হাতিয়াড়া, নিজড়া ইউনিয়নের মানুষ বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়ে উঠছে। এই এলাকায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে তারা ভবিষ্যতে এখান থেকে নানা ধরনের উপকার পেতে পারবে। বিশেষ করে কাজের সুযোগ বাড়বে। নতুন নতুন শিল্প-কলকারখানা হলে এলাকার উন্নয়নও তরান্বিত হবে এটা চিন্তা করে তারা তাদের এলাকায় এই অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন।

সদর উপজেলার বৌলতলী বাজারের উত্তরে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কের পাশে কুমার- মধুমতির তীরে বৌলতলী বিলে রয়েছে প্রায় ৭০০ একর জমি। এখানকার জমির মালিকরা অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরিতে তাদের জমি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আর এখান থেকে কোটালীপাড়া, কাশিয়ানী, রামদিয়া, গোপালগঞ্জ, মুকসুদপুর, টেকেরহাটসহ চারদিকে যাতায়াতের জন্য রয়েছে অসংখ্য প্রশস্ত পাকা সড়ক।

এখানেই কুমার-মধুমতি নদীতে রয়েছে সাতপাড়, জলিরপাড়, বৌলতলী ও উলপুর ব্রিজ। যে কারণে এই এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি হলে মানুষের যাতায়াত ও পন্য পরিবহনে কোনো সমস্যা দেখা দেবে না। তাছাড়া এই এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল হলে গোপালগঞ্জের সবচেয়ে অনুন্নত এই এলাকার হাজার হাজার বেকার যুবক ও যুব-মহিলা কর্ম-সংস্থানের সুযোগ পাবে। এ কারণেই উত্তর গোপালগঞ্জের প্রায় ১৫টি ইউনিয়নের মানুষ সদর উপজেলার বৌলতলী বা আশপাশ এলাকায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির দাবি জানিয়েছে।

উলপুর ইউপি কামরুল ইসলাম বাবুল, দূর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাজিব আহম্মেদ, করপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সিকদার শাহ সুফিয়ান, বৌলতলী ইউপি চেয়ারম্যান সুকান্ত বিশ্বাস, সাতপাড় ইউপি চেয়ারম্যান সুজিৎ মণ্ডল, সাহাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সুবোধ হীরা, সিংগা ইউপি চেয়ারম্যান প্রণব সরকার, জলিরপাড় ইউপি চেয়ারম্যান অখিল বৈরাগী, হাতিয়াড়া ইউপি চেয়ারম্যান দেব দুলাল বিশ্বাস ও নিজড়া ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান সরদার বলেছেন, স্বাধীনতার পর ধেকেই উত্তর গোপালগঞ্জের তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। জেলার অন্যান্য এলাকায় ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মানের উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। বিশ্ববিদ্যালয়, চক্ষু হাসপাতাল, এ্যাসেনশিয়াল ড্রাগস্, প্রাইমারী শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, শেখ রেহানা টেক্সটাইল কলেজ, মৎস্য প্রশিক্ষণ ইসষ্টিটিউট, পারমানবিক কেন্দ্র, সরকারি পলিটেকনিক কলেজ, মহিষ প্রজনন কেন্দ্রসহ অনেক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান  হয়েছে। যার সুফল পাচ্ছে সেখানকার বাসিন্দারা।

উত্তর গোপালগঞ্জের এই এলাকায় সম্প্রতি কেবল  কয়েকটি রাস্তা ও কয়েকটি ব্রীজ  ছাড়া উন্নয়নমূলক আর কিছুই হয়নি। এসব কারণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উত্তর গোপালগঞ্জের বৌলতলী বা এর আশপাশের এলাকায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মানের দাবি জানিয়েছেন। যাতে এই এলাকার হাজার হাজার বেকার যুবক ও যুব-মহিলা কর্ম-সংস্থানের সুযোগ পায়।

যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির জনশক্তি ও কর্ম-সংস্থান সম্পাদক বাবুল আকতার বাবলা, গোপালগঞ্জ শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম নজরুল ইসলাম, জেলা কৃষক লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক লিয়াকত আলী খান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য এস এম নজরুল ইসলাম, সাতপাড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বিধান বালা, সাহাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রঞ্জিত হীরা, বৌলতলী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি হরিচাঁদ বালা, সাতপাড় যুবলীগ সভাপতি বিধান বালা, করপাড়া স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি রুবেল হোসেন রবজেল, সাহাপুর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি গোপাল সরকার, সাতপাড় স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মানব বিশ্বাস, করপাড়া ছাত্রলীগ সভাপতি সজিব মোল্লাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উত্তর গোপালগঞ্জের বৌলতলী বা এর আশপাশ এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার বলেন, গোপালগঞ্জে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মানের জন্য অনুমোদন পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের মাঝে গড়ে তোলা হবে এটি। গোপালগঞ্জে আরো কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করা হবে। কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরায়, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বালাডাঙ্গায়, সদর উপজেলার গোলাবাড়িয়ায় জায়গা দেখা হয়েছে। মোখলেসুর রহমান সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। তবে এফবিসিসিআই’র সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম সাতপাড়-রামদিয়া সড়কের পাশে সাতপাড় এলাকায় একটি জায়গা দেখেছেন। তবে উত্তর গোপালগঞ্জের সবাই যদি চায় যে, বৌলতলী বা আশপাশে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ করা হোক এবং এলাকার মানুষ তাদের জমি দিতেও রাজী হয় তাহলে আমরা সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/আরআর

Best Electronics
Best Electronics