Alexa বোর্ড-ক্রিকেটারদের নিবির সম্পর্ক জরুরি

ঢাকা, শুক্রবার   ২২ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৭ ১৪২৬,   ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

বোর্ড-ক্রিকেটারদের নিবির সম্পর্ক জরুরি

 প্রকাশিত: ১৮:৫৬ ২৪ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৯:০৭ ২৪ অক্টোবর ২০১৯

দৃশ্যত পরিচয়ে সাহাদাৎ রানাকে সাংবাদিক হিসেবেই চেনে সবাই। তবে শুধু সাংবাদিক তিনি নন। গল্প, কবিতা লেখা, সাংগঠনিক দক্ষতাসহ তার রয়েছে নানা গুণ। বর্তমানে বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজে কর্মরত রয়েছেন। দায়িত্ব পালন করেছেন সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য এই সাংবাদিক।

ক্রিকেট এখন আমাদের কাছে শুধু একটি খেলা নয়। ক্রিকেট আমাদের কাছে বিশেষ কিছু। এর সঙ্গে এখন আমাদের আবেগ জড়িত। 

ক্রিকেটে ভালো করলে আমরা আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠি। আবার ক্রিকেটে খারাপ ফলাফল করলে আমরা কষ্ট পাই। নিজের অজান্তে চোখের কোণ ভিজে যায়। এটা শুধু সম্ভব হয়েছে দিনদিন ক্রিকেটে সাফল্য পাওয়ায়।

তবে গত সোমবার বিকেল থেকে টানা প্রায় ৫৪ ঘণ্টা ক্রিকেট নিয়ে জাতির মধ্যে ছিল চরম উৎকণ্ঠা। কোনো উত্তেজনাকর ম্যাচে জয়-পরাজয়ের বিষয় নিয়ে এ উৎকণ্ঠা নয়। উৎকণ্ঠা ছিল আমাদের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে। কারণ হঠাৎ করে কাউকে কিছু না জানিয়ে ক্রিকেটাররা ১১ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। হুমকি দেন ক্রিকেট না খেলার। এতে শুরু হয় বিসিবির সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধ। বিসিবিও নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করে জানিয়ে দেয় ক্রিকেটাররা যখন যে দাবি করেছে বোর্ড সবসময় সেই দাবি পূরণ করেছে। তাদের কাছে না জানিয়ে এভাবে হুকমি দেয়া ঠিক হয়নি। পাশাপাশি বলা হয় ক্রিকেটাররা এখন যে দাবি করছে তা আগে কখনো বিসিবিকে বলেনি। তবে ক্রিকেটাররা সেই দাবি প্রত্যাখান করে বলেছে বোর্ড তাদের দাবি কখনো গুরুত্ব দেয়নি।

এখন দেখা যাক কি ছিল ক্রিকেটারদের ১১ দফা দাবি। ক্রিকেটারদের দাবিগুলো নিন্মরূপ। ১. ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন কোয়াবের বর্তমান কমিটিকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। ক্রিকেটারদের সরাসরি ভোটে ঠিক করা হবে নতুন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। ২. ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দলবদলের নিয়ম আগের মতো করতে হবে। যে যার পছন্দমতো দলে যাবে। ৩. এ বছর না হোক, তবে পরের বছর থেকে আগের মতো (ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে) বিপিএল আয়োজন করতে হবে। স্থানীয় ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বাড়াতে হবে। ৪. প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ ফি ১ লাখ করতে হবে। চুক্তিভুক্ত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন ৫০% বাড়াতে হবে। ১২ মাস কোচ-ফিজিও দিতে হবে, প্রতি বিভাগে অনুশীলনের ব্যবস্থা করতে হবে। ৫. আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যে বল দিয়ে খেলা হয়, ঘরোয়া লিগে সেই বল ব্যবহার করতে হবে। দৈনিক ভাতা ১৫০০ টাকায় কিছু হয় না, তা বাড়াতে হবে। এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুতে যাওয়ার জন্য যাতায়াত ভাড়া মাত্র ২৫০০ টাকা। তা বাড়াতে হবে অথবা প্লেন ভাড়া দিতে হবে। হোটেল ভালো হতে হবে, জিম ও সুইমিংপুল সুবিধা থাকতে হবে। ৬. জাতীয় দলে চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারের সংখ্যা অন্তত ৩০ করতে হবে ও বেতন বাড়াতে হবে। ৭. দেশি সব স্টাফদের বেতন বাড়াতে হবে। কোচ থেকে শুরু করে গ্রাউন্ড স্টাফ, আম্পায়ার-সবার বেতন বাড়াতে হবে। ৮. জাতীয় লিগের পর আগে একটি ওয়ানডে লিগ হতো, সেটি ফিরিয়ে আনতে হবে। বিপিএলের আগে আরেকটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট দিতে হবে। ৯. ঘরোয়া ক্যালেন্ডার চূড়ান্ত হতে হবে। ১০. ডিপিএলের (ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ) পাওনা টাকা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দিতে হবে। ১১. বিদেশে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ দুটির বেশি খেলা যাবে না, এমন নিয়ম তুলে দিতে হবে। সুযোগ থাকলে সবাই খেলবে। প্রথমে ১১ দফা নিয়ে আসলেও পরে সোমবার সন্ধ্যায় আইনজীবীর মাধ্যমে আরও নতুন দুটি দাবি বাড়নো হয়। নতুন দুটি দাবি হলো- ক্রিকেটের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও বিসিবির আয়ের একটা অংশ ক্রিকেটারদের দিতে হবে। সবশেষ দাবি ছিল- নারী ক্রিকেটারদের তাদের ন্যায্য হিস্যা দিতে হবে। এছাড়া আরো কিছু দাবি রয়েছে যা তারা উল্লেখ করেন- ঘরোয়া ক্রিকেটে অনিয়ম, দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ, তৃতীয় বিভাগে ইচ্ছে করেই কোনো দলকে জেতানো বা হারানো হয়। এসব বন্ধ করতে হবে।

অবশ্য ক্রিকেটারদের এসব দাবির বিষয়ে পাল্টা-পাল্টি বক্তব্য আসে দুই পক্ষ থেকে। এতে শুরু হয় বিসিবির সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধ। বিসিবিও নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করে জানিয়ে দেয় ক্রিকেটাররা যখন যে দাবি করেছে বোর্ড সবসময় সেই দাবি পুরুণ করেছে। কিন্তু ক্রিকেটাররা এখন যে দাবি করছে তা আগে কখনো বিসিবিকে বলেনি। তবে ক্রিকেটাররা সেই দাবি প্রত্যাখান করে বলেছে বোর্ড তাদের দাবি কখনো গুরুত্ব দেয়নি। মূলত এতেই বিরোধের সূত্রপাত হয়। তবে দীর্ঘ ৫৪ ঘণ্টা পর সেই বিরোধের অবসান হয়। বুধবার রাতে বিসিবি কার্যালয়ে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ক্রিকেটারদের অধিকাংশ দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিসিবি। এর প্রেক্ষিতে ক্রিকেটাররা তাদের আন্দোলন স্থগিত করেছে। এর ফলে শনিবার থেকে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেয়ার ঘোষণা দেন ক্রিকেটাররা। পাশাপাশি শঙ্কা কেটে যায় নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় ভারত সিরিজ নিয়েও।

বিসিবি-ক্রিকেটারদের সমস্যার সমাধান আপাতত হলেও এই ইস্যুতে কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে। বিষয়টি পরিস্কার। প্রথমত ক্রিকেটাররা বিসিবির উপর সন্তুষ্ট নয়। অন্যদিকে বিসিবিও ক্রিকেটারদের আচরণে অসন্তুষ্ট। এটাই আপাতত ভয়ের কারণ। অথচ সবার মধ্যে ধারণা ছিল ক্রিকেটার ও বিসিবির মধ্যে নিবির সর্ম্পক রয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে ক্রিকেটে সাফল্য পাচ্ছে। কিন্তু এখন যা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ক্রিকেটার ও বিসিবির মধ্যে সর্ম্পক ভাল নয়। অথচ একটি দেশের ক্রিকেট এগিয়ে যেতে হলে ক্রিকেটার ও বোর্ডের সর্ম্পক সবার আগে জরুরি। 

ইতিহাসে দেখা যায় ক্রিকেটার ও বোর্ডের সঙ্গে নিবির সর্ম্পক না থাকায় অনেক দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। বেতন-ভাতার দাবি নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে দ্ব›দ্ব মূলত এর প্রধান কারণ। আমরা চাই না বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটুক। এখানে শেষ হয়ে যাক, ক্রিকেটার-বিসিবির দ্বন্দ্ব। দুই পক্ষ কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ করুক এমনটাই প্রত্যাশা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর