Alexa বোরো চাষে সেচ সংকট

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৮ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৪ ১৪২৬,   ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪০

বোরো চাষে সেচ সংকট

 প্রকাশিত: ১৭:১২ ২২ মার্চ ২০১৮   আপডেট: ১৭:১২ ২২ মার্চ ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঝালকাঠিতে বোরো আবাদে সেচ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ছোট-বড় খাল অপরিকল্পিতভাবে ভরাট ও খননে সাগর চুরির ফলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

গত ৯ বছরে বিএডিসি সেচ কর্তৃপক্ষ ৯৭ কিলোমিটার খাল খননের জন্য প্রায় ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। কিছু প্রকল্পের সিকি ভাগ কাজ হলেও অনেক প্রকল্পের কাজ না করেই সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ম্যানেজ করে বিল তুলে নিচ্ছে ঠিকদাররা।

খাল খনন না করায় কৃষকরা সেচের পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছে না। তাই ধান রোপনের আগে চারা সবুজ থাকলেও পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে। তাই কৃষকদের প্রশ্ন খাল খননের নামে এ টাকা গেল কোথায়?

ঝালকাঠি জেলার অধিকাংশ খাল ভরাট হয়ে পানি কমে যাওয়ায় ইরি আবাদের মৌসুমে সেচের পানি না পাওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে। মেশিন দিয়েও পানি উঠানো যাচ্ছে না।

ঝালকাঠি ও নলছিটির অধিকাংশ এলাকা ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। পাশের ডোবা-নালা থেকে হাতে সেচ দিয়ে জমিতে পানি দিচ্ছে কৃষকরা।

বিএডিসি’র আওতায় ১৬ টি সেচ নালার কাজ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত চালু করা যায়নি বিদ্যুতের অভাবে। এছাড়া ব্লকের আরো কিছু পাম্প বসানোর পর অকেজো হয়ে পরে থাকায় সেচের অভাবে বোরো আবাদ করতে পারছেনা কৃষকরা।

নলছিটির কাঠিপাড়ার খলিলুর রহমান বলেন, গত বছর এবং এ বছর মাটির নীচে পানির লাইন বসালেও বেশিরভাগ এলাকায় তা চালু করা হয়নি। সেচের এই মৌসুমে পানি না পেলে কৃষকরা এগুলো দিয়ে কি করবে। সরকার আমাগো উপকারের জন্য এসব দিলেও বিএডিসির কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে এর সুফল পাচ্ছেনা কৃষকরা। এখন পর্যন্ত বিদ্যুতের লাইন না দেয়ায় অনেক নালা চালু করা যাচ্ছেনা। তাছাড়া। যে নালার সহায্যে বিদ্যুতের মাধ্যমে পানি দিয়ে বোরো আবাদ করা হচ্ছে তাতে খরচ বেশি পড়ছে বলেও এ কৃষকরা জানান।

কৃষক আ. হালিম মিয়া জানান, আমাদের নিজস্ব প্রচেষ্টায় মেশিন দিয়ে খাল থেকে পানি উঠিয়ে সেচ দিতে বিঘা প্রতি খরচ ৳২০০০-২৫০০ টাকা। অথচ বিএডিসির মাধ্যমে ব্লকে পানির বিনিময়ে কাঠিপাড়া ব্লক ম্যানেজার আলী আকবর যে ধান কেটে নিয়ে যায় তার দাম ৫-৬ হাজার টাকা।  সে নিজেই জমি থেকে ধান কেটে নিয়ে যায়। এ কারণেও অনেক কৃষক বোরো আবাদ করছে না।

ঝালকাঠি বিএডিসি সেচ বিভাগের কর্মকর্তাদের জানানো হলেও তারা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলেও কৃষকদের অভিযোগ।

কৃষ্ণকাঠির কৃষক লাবু সিকদার, নয়াবাড়ি এলাকার আ. ছবুর মিয়া, আ. আজিজসহ অনেক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, আমাদের এলাকার ছোট-বড় খাল গুলো ক্রমান্বয়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। অনেক খাল দখল করা হয়েছে।

খালগুলো খনন করা হলে বোরো আবাদের এই মৌসুমে সেচ সংকট হতো না। একমাত্র বড় খালে কিছু পানি থাকায় সেখান থেকে দূরবর্তী জমিতে পানি সেচ দিতে প্রচুর টাকা খরচ পড়ায় অনেকে বোরো আবাদ ছেড়ে দিয়েছে। শুনেছি সরকার বিএডিসির মাধ্যমে প্রতি বছর খাল খননের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দেআসে। তা কোথায় কিভাবে খরচ করেন সেটা তারাই জানেন। 

কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখানো হলেও বাস্তবতার মিল পাওয়া যাচ্ছেনা। বিএডিসির চালু পাইপ দিয়ে পানি সেচের খরচ বেশি হওয়ায় কৃষকরা আগ্রহ হারাচ্ছে বোরো আবাদে। পাশাপাশি শুকনো জমি চাষে ট্রাক্টরও  বিকল হয়ে পড়ছে।

ঝালকাঠি বিএডিসি সেচ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০০৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ৭২ টি সেচ নালা তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে চালু আছে ৫৬ টি। বাকি ১৬ টি নালা বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে চালু করা যাচ্ছেনা। ৪৬ হাজার মিটার সেচ নালার মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হজার হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া ৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যায়ে ২০০৯ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ৯৭ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। চলতি বছর জেলায় ৮৪৭৬ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঝালকাঠি বিএডিসির সহকারি প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম জানান, ভরাট খালগুলো সেচ কমিটির মাধ্যমে তালিকা করে খনন করা হবে। এছাড়া ২০ টি স্কিমে বিদ্যুৎ সংযোগ হয়নি। পল্লী বিদ্যুতের মাধ্যমে সংযোগ পেলে সেগুলো চালু হলে কৃষক সেচ সুবিধা পাবে।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতরের উপ পরিচালক শেখ আবু বকর সিদ্দিক জানিয়েছেন,  লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এবার বোরো আবাদ বেশি হচ্ছে। কৃষকদের সেচ ও সুষম সার প্রয়োগের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। শতাধিক ভরাট খালের তালিকা প্রতি বছর বিএডিসি সেচ বিভাগে ও এলজিইডিতে দেয়া হয়। এগুলো সেচের আওতায় এনে সেচ দেয়া সম্ভব হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/আরআর