Exim Bank
ঢাকা, রোববার ২২ এপ্রিল, ২০১৮
Advertisement
বিজ্ঞাপন দিন      

বোরোতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

 রাজু আহমেদ, ঝিনাইদহ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৫৮, ১৬ এপ্রিল ২০১৮

১৮৪ বার পঠিত

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঝিনাইদহে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের আওতাভুক্ত জমির কৃষকরা পানি না পেয়ে বোরো ধান রোপন করতে পারেনি। প্রধান সেচখালসহ শাখা খালগুলো শুকিয়ে গেছে। জিকে প্রকল্পের আওতায় সেচের পানির অভাবে কৃষকরা দিশেহারা।

ফলে জিকে সেচ আওতায় কয়েক লাখ হেক্টর জমির রোপা বোরো ধানের রোপনের শঙ্কা ও ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব মতে জেলায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে পানি সরবরাহ করে থাকে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ঝিনাইদহ জেলার ৬টি উপজেলায় ৮২ হাজার ১৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

হরিনাকুণ্ড উপজেলার জটারখালীর কৃষক জহির হোসেন বলেন, পানির অভাবে এখনো বোরা ধান রোপন করতে পারিনি। ফলে এলাকার কয়েক হাজার কৃষক জিকে খালের পানির দিকে তাকিয়ে আছে।

হরিনাকুণ্ডর উপজেলার সাত ব্রিজ এলাকার জানার উদ্দীন ও কাওসার জানান, এ বছর সময় মত ক্যানেলে পানি না পেয়ে বোরো ধান রোপন করতে পারছি না। কবে নাগাদ পানি আসবে সেটা জানাতে পারছে না পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

হরিনাকুণ্ড উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরশাদ আলী চৌধুরি জানান, জিকে সেচ প্রকল্পে সমস্যার কারণে আগাম পানি পাওয়া সম্ভব হয়নি। সেচ পাম্পগুলো চালু করা হয়েছে। দ্রুতই ক্যানালগুলোতে পানি চলে আসবে।

ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক কৃপাংশু শেখর বিশ্বাস জানান, বোরো রোপা ধানের উৎকৃষ্ট ফলন পেতে জানুয়ারি মাসের ১৫-২০ তারিখের মধ্যে রোপন শেষ করতে পারলে ভাল হয়। দেরিতে চারা রোপনের ফলে বীজতলায় চারা বয়স্ক হয়ে যায়। এই চারা জমিতে রোপন করলে রোগের ঝুঁকি থাকে। অপরিণত বয়সে ধান ক্ষেতে শীষ দেখা দেয়। উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়, ফলন কমে যায়।

হরিণাকুণ্ড পানি উন্নয়ন বোর্ডের খুরশিদ শরিফ জানান, ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে পানি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। ভেড়ামারা পাম্প হাউস থেকে পানি উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। চলতি বোরো রোপনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্দেশ ছিল ১৫ই জানুয়ারির মধ্যে পানি উত্তোলনের পাম্প চালু করতে। নদী থেকে সেচ পাম্প পর্যন্ত পলি অপসারণ, সেচ পাম্প মেরামতের ধীরগতির কারণে সঠিক সময়ে পানি দেয়া সম্ভব হয়নি। ক্যানালের বিভিন্ন ব্রিজ নির্মাণ কাজের বর্তমান অগ্রগতির যে অবস্থা সে অবস্থায় পানি ছাড়লে ব্রিজ নির্মাণে ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের দাবি ক্যানালে পানি ছাড়ার ব্যবস্থা করে চলমান অবস্থা জরুরিভাবে নিরসন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগী কৃষকরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/এমআরকে

সর্বাধিক পঠিত