Alexa বোনাস আটকে কোটি টাকা চাঁদাবাজি

ঢাকা, শুক্রবার   ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৮ ১৪২৬,   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

বোনাস আটকে কোটি টাকা চাঁদাবাজি

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১২:১৫ ৩০ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৪:৪১ ৩১ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রফিট বোনাস আটকে এবারো অর্ধকোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এরইমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে একইভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকা আদায় করেন এমডি এসএম নূরুল আওরঙ্গজেব। সে সময়ও বিষয়টি গোপন রাখতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোরআন শরীফ ছুইয়ে শপথ করানো হয়। কয়েকজন কর্মকর্তা এতে অস্বীকৃতি জানালে ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। বিষয়টি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশ হলে পেট্রোবাংলা নূরুল আওরঙ্গজেবকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে।

গত সাত মাস আগে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন ফজলুর রহমান। জানুয়ারি মাসের শুরুতেই স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারিদের প্রফিট বোনাস দেয়ার আগে কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের পরিকল্পনা নেয় একটি চক্র।
এমডির আস্থাভাজন জিএম (অর্থ ও হিসাব) গোপাল চন্দ্র সাহা ও ব্যবস্থাপক (মাইনিং) মোশাররফ হোসেন এ মিশন বাস্তবায়নে মাঠে নামেন। 

তারা ১৪৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য মাথাপিছু ৬০ হাজার টাকা করে এমডির চাঁদা ধার্য করেন। এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিলে চাঁদা কমিয়ে ৪০ হাজার করা হয়। এই চাঁদা দিতে বিলম্ব হওয়ায় কোম্পানির ট্রাস্টি বোর্ডের একাউন্টে প্রফিট বোনাসের অর্থ জমা হলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তা বন্টনও পিছিয়ে দেয়া হয়। এ অবস্থায় বাধ্য হয়েই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ওই চাঁদা পরিশোধ করেন। হিসাব অনুযায়ী চাঁদার মোট পরিমাণ প্রায় ৫৮ লাখ টাকা। বিষয়টি গোপন রাখতে গতবারের ন্যায় এবারও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শপথ করানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আবারও তা প্রকাশ হলে হৈ চৈ পড়ে পেট্রোবাংলায়। এর আগে পাওয়া অভিযোগ তদন্তে পেট্রোবাংলা উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছে।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফজলুর রহমান বলেন, ১০৯২ জন নিয়মিত শ্রমিক ২০ হাজার টাকা করে বোনাস পেলেও আউটসোর্সিং হিসেবে ১৫২জন শ্রমিক বোনাস থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এজিএম হয়ে যাওয়ার কারণে তাদের জন্য অর্থ বরাদ্দের সুযোগও নেই। ফলে মানবিকভাবে তাদের বোনাস দেওয়ার জন্য ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিকট থেকে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা করে তোলার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু জামায়াতপন্থী কিছু লোকের কারণে বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করায় তা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যাদের টাকা নেয়া হয়েছে তা ফেরৎ দেয়া হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম