Exim Bank
ঢাকা, বুধবার ২৫ এপ্রিল, ২০১৮
Advertisement
বিজ্ঞাপন দিন      

বৈশাখের বৃষ্টি বিকেল...

 আরিফুল ইসলাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৫৩, ১৪ এপ্রিল ২০১৮

আপডেট: ২২:০২, ১৪ এপ্রিল ২০১৮

২৫১ বার পঠিত

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বৃষ্টি। এই শব্দের মধ্যেই যেন রয়েছে অন্যকিছু, ভিন্ন অনুভূতি। ইতিবাচক-নেতিবাচক দুটি বিষয়ই বৃষ্টির সঙ্গে জড়িত। বৃষ্টি কখনো সুখের, আবার কখনো কারো জন্য অনেক কষ্টের। আর এই বৃষ্টি যদি হয় কোন বিশেষ দিনে, তাহলে তো কথাই নেই। বিশেষ দিনে কারো আনন্দ দিগুণ করে দেয়। আবার কারো আনন্দ নিরানন্দে পরিণত করে।

এবছর পহেলা বৈশাখের দিনটি শুরু হয় সূর্যের হাসিতে। আর শেষ হয় আকাশের কান্নায়। বিকেল পর্যন্তই ছিলো ঠিক ঠাক; হাসি একুট বেশি। সূর্যের বেশ তাপ। প্রচণ্ড গরমে হাঁপিয়ে উঠেছিলো রাজধানীতে ঘুরতে বেরোনো মানুষজন।

ঘোরা শেষে অনেকেই ফিরেছেন বাসায়, আবার কেউ ফিরছেন, আর কেউ মাত্র ঘুরতে বের হয়েছেন বা বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন-এমন সময় কোনো এক অজানা কারণে আকাশের মন খারাপ হয়ে গেলো। আবেগ ধরে রাখতে পারলো না- কষ্টে ‍মন খারাপের কিছু পরেই কাঁদতে শুরু করলো। আকাশের কান্নায় কেউ খুশি হলো, আর কেউ পেলো ভীষণ কষ্ট।

তবে বিকেলে দিকে যে বৃষ্টি হতে পারে তা অনেকেই ধারণা করতে পেরেছিলেন। আবার কেউ কেউ মনে মনে চাচ্ছিলেন বিকেলে যেন বৃষ্টি নামে। দুপুরের আগে আহমদ নূর তার ফেসবুকে লিখেছেন- প্রখর তাপে অনুভব হচ্ছে- আজ থেকে বৈশাখ শুরু। এখন ঝড়ের অপেক্ষা। বিকেলে বৃষ্টি শুরুর পর তিনি লেখেন- যদি বর্ষে/ নববর্ষে/ মন নাচে/ চিত্তাকর্ষে...।

বৈশাখের বিকেলে বৃষ্টিতে আনন্দে মেতে ওঠেন অনেকে। বিশেষ করে বৃষ্টি ভেজাই যাদের নেশা। বৃষ্টি পড়লেই যারা ভিজতে রাস্তায় কিংবা ছাদে চলে যান। বৈশাখে বৃষ্টিতে ভিজে আনন্দের পর সব বন্ধুদের এক রঙ্গের পাঞ্জাবি পরা ছবি পোস্ট করে তাহমিদ লিখেছেন- বৃষ্টি ভেজা বৈশাখ। তবে মজা হয়েছে প্রচুর। সবাই নিল। ভাই ব্রাদার একসাথে।

জিন্নাত ইসলাম নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী তার আইডিতে লিখেছেন-‘বৃষ্টির জলে পুণ্য স্নান’। সঙ্গে নিজের একটি সুন্দর ছবিও দিয়েছেন।

বৃষ্টি শুরুর পর বৃষ্টি নিয়ে কেউ কেউ করেছেন রশিকতা। রফিকুল ইসলাম রনি লিখেছেন, ‘বেরসিক বৃষ্টি আটা ময়দা সব ধুয়ে দিলো’। জাহা শিহাব লিখেছেন, ‘অফিস আছে... ঘুরতে পারবো না - জেনে যারা মজা নিলেন! তারা বৃষ্টিতে কেমন ঘুরলেন? শাড়ি পাঞ্জাবি সব ঠিকঠাক?’

মুকসিমুল আহসান অপু লিখেছেন-‘মানুষ চাইলো –বৈশাখ/প্রকৃতি দিলো -কাল বৈশাখ। আবারো প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তি বেশি।’

সীমান্ত হীন লিখেছেন- ‘আজ আল্লাহ আমার আশা পূরুন করেছে। পহেলা বৈশাখে বৃষ্টি দিয়ে। আর কিছু কিছু মানুষের সপ্ন ভেঙেছে।’ সীমান্ত একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন।

মডেল বন্যা সিদ্দিকী লিখেছেন-‘যাক আল্লাহ দোয়া কবুল করেছেন, পহেলা বৈশাখে বৃষ্টি শুরু। সকাল থেকে এলে পুরা দোয়া কবুল হতো।’

সারাদিনে বের হননি। পরিকল্পনা শেষ বিকেলে বেরোবেন, বৈশাখের আনন্দে ভাসতে। কল্পনা জল্পনা। বিনোদন স্পট নির্ধারণ। দুপুরের পর থেকেই সাজুগুজু। সব প্রস্তুতি শেষে বেরোনের পালা। ঠিক এমন সময় নামলো বৃষ্টি। ঘুরতে যাওয়া হলো না অনেকেরই। বৈশাখের বিকেলে বের হতে না পেরে যে যেভাবে পেরেছেন মনের কষ্ট প্রকাশ করেছেন। কেউ গোমরা মুখে বসে রয়েছেন, কেউ স্বামীকে দুষেছেন- সকালে কেন বের হলো না, কেউ কপাল মন্দ ধরে নিয়েছেন আর কেউ কেউ মনের কষ্ট প্রকাশ করেছেন ফেসবুকে। বৃষ্টি যাদের বিনোদনে বাধা হয়েছে- তারা এটাকে দেখছেন নেতিবাচক ভাবে।

তমিস্রা তনু বেড়াতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার তিনটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন- ‘বৃষ্টি ভেজা বৈশাখ কার অভিশাপ, বাইরে যেতে পারলাম না।’

সাদিয়া আফরোজ লিখেছেন-‘এই ভোতরা জীবনে বৃষ্টিও শত্রু’।

বৃষ্টিতে যেমন অনেকে বাইরে যেতে পারেনি, তেমনি বাইরে থাকা অনেকের ঘরে ফিরতে হয়েছে ভোগান্তির শিকার হয়ে। সড়কের অনেক জায়গা পানি জমে গেছে। ফলে যানচলাচল ও মানুষের চলাচলে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।

বৃষ্টির জন্য যে যাকেই দোষ দিকনা কেন আবহাওয়া অধিদফতর কিন্ত আগে থেকেই বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলো। সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ঢাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৩০ মিলিমিটার। বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতা ছিলো ৯৪ শতাংশ। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ২৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় বাতাসের গতি ও দিক ছিলো-দক্ষিণ/দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় (০৫-১০) কিলোমিটার যা অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ায় পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম ঘণ্টায় (৪০-৫০) কিলোমিটার।

সন্ধ্যা ছয়টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার পর্বাভাসে বলা হয়েছে- ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় বিজলী চমকানোসহ অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে

সর্বাধিক পঠিত