Alexa বেড়া বুনেই স্বচ্ছল

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৫ ১৪২৬,   ২০ মুহররম ১৪৪১

Akash

বেড়া বুনেই স্বচ্ছল

শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৭:২১ ২ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৭:২১ ২ ডিসেম্বর ২০১৮

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

মেহেদীর রং না মুছতেই ম্লান হয় হাসির মুখ। দারিদ্রের নির্মমতায় ঢাকা পড়ে তার স্বপ্নগুলো। দু’বেলা খাবার জোটানো নিয়ে দেখা দেয় দাম্পত্য কলহ।

বাধ্য হয়েই হাসি নেমে পড়ে স্বামীর পেশায়। তার স্বামী হাফেজ উদ্দিনের সঙ্গে সমানতালে নেমে যান বাঁশের বেড়া বুননে। স্কুল ছুটির পর তাদের সহযোগিতা করে আট বছরের মেয়ে হাসিনাও। হাসির আত্মবিশ্বাস আর নিরলস প্রচেষ্টায় মাত্র ৩/৪ বছরের ব্যবধানে সংসারে আসে স্বচ্ছলতা।

এ ব্যাপারে হাসি বলেন, আমরা দু’জনে দিনে দুই থেকে তিনটি করে বেড়া বুনে প্রায় ৫/৬শ টাকা আয় করতে পারি। স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা করার। কিন্তু বাবার দারিদ্রতার কারণে হয়নি। দুই মেয়ে হাসিনা ও হাদিয়াকে পড়াশোনা করিয়ে নিজের আশা পূরণ করতে চাই।

তার স্বামী হাফেজ উদ্দিন বলেন, বেড়া বানাইয়া সংসারের খরচ করি। তারপরেও মাসে ৩/৪শ করে টাকা জমা হয়।

হাসির মতো তার প্রতিবেশী গৃহবধুরাও বসে নেই। কেউবা আস্ত বাঁশ চেরাই করে শলা তুলছেন। কেউ শলা দিয়ে কুলা, চালুন, মাছ ধরার বুরোং, পাইরে, খালইসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত। সবাই পরম নিষ্ঠার সঙ্গে কাজটি করছেন।

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার চাউলিয়া, দহেড়পাড়, বালিয়াচন্ডি, কুরুয়া, বকচর, গড়খোলা, শিমূলচূড়া, ঝগড়ারচর, কর্ণঝোরাসহ ১০/১২টি গ্রামে বাঁশ শিল্পের কাজ হয়। এসব গ্রামে প্রায় এক হাজার পরিবার শুধুমাত্র বাঁশের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরির ওপর নির্ভর করে সংসার চালায়।

তবে ৯৫ ভাগ পরিবার চাউলিয়া ও দাহেড়পাড় গ্রামেই। অন্যসব গ্রাম গুলোতে কেউ কুলা, চালুন, হাতপাখা, ডোল, কেউবা ঢালা, বেড়, খাড়ি, খলই, টোপা, খাঁচা, বুরোং, হেঙ্গা, পাইড়ে, সিলিং, দরমাসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে। তবে এসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে বছরে কার্তিক-অগ্রহায়ণ ও চৈত্র-বৈশাখ মাসে।

তবে তৈরি বা বুননের কাজে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরাই বেশি পারদর্শী।

চাউলিয়ার হাফেজ উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম, হাবিবুর, গৃহবধূ মাজেদা খাতুন, আজিজল, আবু শামা, দহেড়পাড় গ্রামের জোবেদা বেগম, মতিউর রহমান, বিধবা আয়শা, গৃহবধু মাজেদা বলেন, প্রতি মৌসুমে তারা প্রত্যেকে কমপক্ষে ২ লাখ টাকার পণ্য সামগ্রী বিক্রি করেন। তাদের গ্রামের উৎপাদিত পণ্য গ্রাম থেকেই পাইকারি বিক্রি হয়। পাইকাররা ভ্যান-পিকাপসহ বিভিন্ন যানবাহনে শহরে নিয়ে যায়। তাদের মতে, সরকারি-বেসরকারি ভাবে পৃষ্ঠ পোষকতা পেলে আরো আয় করা সম্ভব।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস