Alexa বেসরকারি চাকরি প্রত্যাশীদেরও ডোপ টেস্ট

ঢাকা, শুক্রবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২১ ১৪২৬,   ০৮ রবিউস সানি ১৪৪১

বেসরকারি চাকরি প্রত্যাশীদেরও ডোপ টেস্ট

সালাহ উদ্দিন চৌধুরী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:০১ ১৬ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৯:৩৬ ১৬ নভেম্বর ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

এবার বেসরকারি চাকরি প্রত্যাশীদেরও দিতে হচ্ছে ডোপ টেস্ট (মাদকাসক্তি পরীক্ষা)। আর মাদকাসক্ত প্রমাণিত হলে লিখিত পরীক্ষার পরই অযোগ্য বিবেচিত হবেন। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে এ প্রক্রিয়া। এছাড়া পরিবহন খাতেও শুরু হচ্ছে ডোপ টেস্ট।

এদিকে মাদকাসক্ত সন্দেহ হলেই সরকারি কর্মচারীদের দিতে হবে মাদকাসক্তি পরীক্ষা। প্রমাণিত হলে পেতে হবে কঠিন শাস্তি।

রাজধানীর তেজগাঁও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে প্রতিদিনই সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ডোপ টেস্টের তালিকা পাঠানো হচ্ছে।  

চলতি বছরের অক্টোবর মাসে প্রথম দফায় ৭১৩ জনের ডোপ টেস্ট করা হয়। এতে পজিটিভ (মাদকাসক্ত) পাওয়া যায় ৪ জনের। 

এছাড়া নভেম্বরের প্রথম দিকে পল্লী বিদ্যুৎ, একটি গোয়েন্দা সংস্থা, ডেসকো, মিটফোর্ড হাসপাতাল ও একটি বেসরকারি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ডোপ টেস্টের তালিকা ডিএনসিতে পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, বর্তমানে মূত্র পরীক্ষার মাধ্যমে ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি শেষ ১০ দিনে কোনো মাদক গ্রহণ করেছেন কি না তা ধরা পড়বে। এজন্য ৬টি পরীক্ষা করা হয়। প্রতিটি টেস্টের জন্য খরচ হয় ৯শ’টাকা। এসব পরীক্ষায় গাঁজা, হেরোইন, ইনজেক্টেবল ড্রাগ, ফেনসিডিল ও ইথাইল অ্যালকোহল (মদ) এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

এছাড়া লালা পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ ৭ দিন, রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ ২ মাস, চুল পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ ১২ মাস এবং স্পাইনাল ফ্লুইড পরীক্ষার মাধ্যমে গত ৫ বছরের মধ্যে কেউ মাদক গ্রহণ করলেও তা পরীক্ষায় ধরা পড়বে। এ সব পরীক্ষা পদ্ধতি পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে বলে সূত্র জানায়।

তবে ডিএনসিতে বর্তমানে শুধু স্ট্রিপ টেস্ট পদ্ধতিতে মূত্র পরীক্ষার মাধ্যমে ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। আরো উন্নত পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি প্রয়োজন ডিএনসিতে। এজন্য অর্থ বরাদ্দের আবেদন জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি ডিএনসির কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র থেকে ডোপ টেস্ট ল্যাবরেটরির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বরাদ্দের চিঠি দেয়া হয়। এতে বলা হয়, মাদকাসক্ত সনাক্তের জন্য বর্তমানে শুধু স্ট্রিপ টেস্ট পদ্ধতিতে মূত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। মাদকদ্রব্য আইন, ২০১৮ এর ধারা ২৪(৪) বাস্তবায়নের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কমপক্ষে একটি অটোমেটিক ইউরিন অ্যানালাইজার ক্রয় করা একান্ত প্রয়োজন। মেশিনটি ক্রয়ের জন্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যায় ধরা হয়েছে। অধিদফতরের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি খাতের দুই কোটি ৭০ লাখ টাকা থেকে এই অর্থ বরাদ্দ দেয়ার জন্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন জানানো হয়।

এদিকে ডিএনসির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মচারীদের কাউকে মাদকাসক্ত বলে সন্দেহ হলে তারও ডোপ টেস্ট করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদিও বিধিমালায় তা অর্ন্তভুক্ত করা হয়নি। ফলাফল পজেটিভ হলে চিকিৎসা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে পদাবনতি, ইনক্রিমেন্ট হ্রাস বা বন্ধসহ নানা ধরনের বিভাগীয় শাস্তি পেতে হবে।

ডিএনসির কেন্দ্রীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারের সহকারি রাসায়নিক পরীক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম সরকার ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, নতুন আইন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর ফলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশের সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে চাকরিজীবীদের মধ্যে আর কোনো মাদকাসক্ত খুঁজে পাওয়া যাবে না। 

ডোপ টেস্টের জন্য পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির অভাব আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার যেহেতু মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স, তাই আশা করা যায়, এসব সমস্যারও দ্রুত সমাধান হবে। 

এ ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, এখন শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও কর্মী নিয়োগের আগে ডোপ টেস্ট করাচ্ছে, যা খুবই ইতিবাচক।

ডিএনসির মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দিন আহমেদ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ডোপ টেস্ট বিধিমালা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। স্ট্রিপ টেস্ট পদ্ধতিতে ডোপ টেস্ট সঠিক কি না এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি ঠিক আছে।  

আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ধীরে ধীরে সব সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হবে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে এখনো ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়নি। ক্রমান্বয়ে তাও করা হবে। 

তিনি জানান, খুলনা জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে সেখানকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ডোপ টেস্ট করেছেন। এরকম উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।

ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সভাপতি খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ১ ডিসেম্বর থেকে পরিবহন চালকদের ডোপ টেস্ট শুরু করার পরিকল্পনা থাকলে নতুন সড়ক আইন কার্যকরের কারণে তা পিছিয়ে দিতে হয়েছে। আইনটির পুরোপুরি প্রয়োগ শুরু হলে রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা কমে যাবে। এর উপর ডোপ টেস্ট শুরু করলে তা পরিবহন খাতে মারাত্বক প্রভাব ফেলবে। তাই প্রস্তুতি থাকা স্বত্বেও সবদিক বিবেচনা করে ডোপ টেস্ট কার্যক্রম পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে কবে তা শুরু করা হবে তা উল্লেখ করেননি তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে