Alexa বেলুন মেকাররাই আবহাওয়া পর্যবেক্ষক!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৬ ১৪২৬,   ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

বেলুন মেকাররাই আবহাওয়া পর্যবেক্ষক!

হারুন আনসারী, ফরিদপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৪৯ ৬ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৪:৫৬ ৬ নভেম্বর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আবহাওয়া নির্ণয়ের জন্য মেঘের নিচে বৃহদাকার বেলুন পাঠান বেলুন মেকাররা। তবে পাঁচ বছর ধরে ফরিদপুরের আবহাওয়া অধিদফতরে কোনো বেলুন উড়াননি দুই বেলুন মেকার। কিন্তু বেলুন না উড়ালেও আবহাওয়া পর্যবেক্ষকের কাজ করে বেতন নিচ্ছেন তারা। এদিকে অধিদফতরে পর্যবেক্ষকের পাঁচটি পদই শূণ্য রয়েছে।  

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আবহাওয়ার আগাম পূর্বাভাস দিতে ফরিদপুর আবহাওয়া দফতরটি স্থাপন করা হয়। এক সময় ডিসি কার্যালয়ের ভবনে দফতরটির কাজ চললেও ১৯৮১ সালে শহরের চাঁদমারিতে এক একর ৫৪ শতাংশ জমিতে নিজস্ব কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। নিজস্ব জমিতে ভবন নির্মিত হলেও এখনো প্রযুক্তি উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। ৩৮ বছরের পুরনো গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি দফতরটি এখনো পুরাতন পদ্ধতিতে চলছে।

একজন পেশাগত সহকারী, তিনটি সিনিয়র ওয়েদার অবজারভার তথা জেষ্ঠ্য আবহাওয়া পর্যবেক্ষক ও দুটি আবহাওয়া সহকারী পদসহ ফরিদপুরের আবহাওয়া অধিদফতরে পদ রয়েছে সাতটি। এর মধ্যে সিনিয়র ওয়েদার পর্যবেক্ষক ও আবহাওয়া সহকারী পদে কেউ কর্মরত নেই। সেখানে একজন পেশাগত সহকারীসহ কর্মরত রয়েছেন পাঁচজন। বেলুন না থাকলেও এখানে বেলুন উড়ানোর জন্য রয়েছেন দুইজন বেলুন মেকার। যারা আবহাওয়া পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। 

অধিদফতরে বায়ুর চাপ পরিমাপের জন্য ব্যারোমিটার, সূর্য থাকার সময় জানতে সানশাইন রেকর্ডার, সূর্যের তীব্রতা মাপার জন্য পায়রনোগ্রাফ, শিশির পরিমাপের জন্য ডিউব্যালেন্স, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য থার্মোমিটার, উইন্ডশিল্ড পরিমাপের জন্য কাপ এনোমিউমিটার, বাতাসের দিক নির্ণয়ের জন্য উইন্ড ব্যান্ড, বৃষ্টির পরিমাপ জানতে সেলফ রেকর্ডিং রেইনগজসহ আনুষঙ্গিক আরো কিছু যন্ত্রপাতি রয়েছে। সবই পুরনো। এর মধ্যে বেশ কিছু যন্ত্রপাতি অচল হয়ে পড়লে মেরামত করে সচল করা হয়েছে।

এখানকার জলবায়ু পর্যবেক্ষণ ও আবহাওয়ার সূচক সংগ্রহে ব্যবহৃত যন্ত্রগুলো অনেকদিনের পুরোনো হয়ে পড়েছে। মাঝেমধ্যে সেগুলো অকেজো হয়ে পড়ে। তারপর আবার মেরামত করে ঠিক করা হয়। অনেক সময়ে এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার উপযোগী থাকে না। 

আবহাওয়া দফতরের কাজ হচ্ছে- আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানতে জলবায়ুর তথ্য ও সূচক সংগ্রহ করা। আর কৃষি কাজের জন্য মাটি ও পানির তাপমাত্রাসহ আনুষঙ্গিক তথ্যাদি অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন থেকে জানা হয়। ফরিদপুরের আবহাওয়া অধিদফতরেও একটি অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন রয়েছে। জেলা শহর ছাড়াও কয়েকটি উপজেলাতে অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন গড়ে তোলা হয়েছে। তবে সেখানে আধুনিক যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বারবার তারা আধুনিক যন্ত্রপাতি চেয়ে ঊর্ধ্বতন মহলে জানানোর পর এসব ওয়েদার স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। যন্ত্রপাতিও চলে আসবে। ফরিদপুর একটি কৃষিভিত্তিক অঞ্চল হওয়ায় এখানে অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশনেরও গুরুত্ব রয়েছে। 

আবহাওয়া দফতর ও ওয়েদার স্টেশন দিনরাতের আবহাওয়ার তথ্যসহ মাটি ও পানির তাপমাত্রার পরিমাপ জানা যায়। তবে মেঘের স্তরের (ক্লাউড লেয়ার) নিচের জলবায়ুর তথ্য জানা যায় না। এজন্য কয়েক হাজার মিটার উচ্চতায় বৃহদাকারের বেলুন উড়ানো হয়। যার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় আবহাওয়া অধিদফতরের কাছে পৌঁছে যায়। দেশের বিভাগীয় আবহাওয়া দফতরগুলোতে এ বেলুন উড়ানো হলেও ফরিদপুরে এখনো এ বেলুন উড়েনি। কৃষিভিত্তিক ফরিদপুর অঞ্চলের জন্য বেলুন খুবই জরুরি।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর আবহাওয়া দফতরের পেশাগত সহকারী সুরজুল আমীন বলেন, জেলা পর্যায়ের এ অধিদফতর থেকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয় না। প্রতিদিন দুই বার আবহাওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন সূচকের তথ্য সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠাই। এছাড়া ওয়েদার স্টেশন থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়। 

জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতির সংকটের ব্যাপারে তিনি বলেন, যন্ত্রপাতি আধুনিক হলে প্রাপ্ত তথ্যাদিও নিখুঁত হবে। এছাড়া বেলুন উড়ানো গেলে অনেক উচ্চতা থেকে আবহাওয়ার তথ্যাদি সংগ্রহ সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে ফরিদপুরের ডিসি বলেন, এ অধিদফতরটিকে উন্নতমানের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রূপ দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। এরইমধ্যে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখে জানানো হয়েছে, যাতে কৃষিভিত্তিক জনপদের মানুষ কৃষিকাজের উপযোগী ও ক্ষতিকর জরুরি আবহাওয়া বিষয়ক তথ্যাদি পেতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ