Alexa বেলা বয়ে যায়, আসে না ডাক্তার

ঢাকা, শনিবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৬ ১৪২৬,   ২১ মুহররম ১৪৪১

Akash

চরভদ্রাসন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

বেলা বয়ে যায়, আসে না ডাক্তার

আবদুস সবুর কাজল, চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৪৮ ২১ মে ২০১৯   আপডেট: ২০:০৩ ২১ মে ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে খেয়াঘাট। তারপর ৩০ টাকা ভাড়া দিয়ে ট্রলারে পদ্মা পাড়ি দিয়ে কাজীবাড়ি ঘাট। এরপর রিকশায় ২০ টাকা ভাড়া দিয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোমর ব্যথার চিকিৎসা নিতে এসেছেন কসিমুদ্দীন ভূঁইয়ার স্ত্রী কইতোরী বেগম। ঠিকানার কথা জানতে চাইলে বললেন হরিরামপুর ইউনিয়নের চরশালেপুর গ্রামে তার বাড়ি। সঙ্গে মেয়ে সাহেদা বেগমও এসেছেন চিকিৎসা নিতে।

তিনি এসেছেন মাতৃত্বজনিত চিকিৎসা নিতে। তাদের কথা অনুযায়ী চরহরিরামপুরে ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য কিছু হলেই চরভদ্রাসন আসতে হয়। দুজনেই অপেক্ষা করছেন কখন ডাক্তার আসবেন। এ রকম অনেকেই হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে বসে আছেন ডাক্তারের অপেক্ষায়। বেলা বয়ে যায় কিন্তু ডাক্তার আসে না

হাসপাতালের ভিতর গিয়ে দেখা যায়, নোংরা আর আবর্জনার অপর নাম যেন পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড। হাসপাতাল মেরামতের কাজ চলার অজুহাতে রোগীদের রাখা হয়েছে নোংরা পরিবেশে।

দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে এক্স-রে মেশিন। তার উপর পড়ে আছে বালতি আর কাঠের টেবিল। লোকবলের অভাবে বন্ধ রয়েছে প্যাথলজি বিভাগ। ইসিজি যন্ত্রটিও দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে আছে। রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য যেতে হচ্ছে স্থানীয় ক্লিনিক বা জেলা শহরে। গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা, ফলে বিপাকে পড়ছেন হতদরিদ্র রোগীরা।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৭ সালে ৬ একর ৯৫ শতাংশ জায়গার উপর ৫টি আবাসিক ভবন ও প্রশাসনিক ভবনসহ ৩১ শয্যার চরভদ্রাসন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাজ শুরু হয়। ১৯৭৮ সালের ১৪ আগস্ট এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ২০১২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর-৪ এর সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি স্থপতি বেগম নিলুফার জাফরুল্লাহ এটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ কাজের উদ্বোধন করেন। ২০১৭ সালের ২ জুলাই থেকে প্রশাসনিকভাবে ৫০ শয্যার হাসপাতালের স্বীকৃতি পেলেও রয়েছে লোকবল সংকট।

মূলত ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জনবল দিয়েই চলছে এর কার্যক্রম। অ্যানেস্থেসিয়া, সার্জারি, মেডিসিন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার পদে নেই কোনো ডাক্তার। ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হিসেবে এখানে ১০ জন চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে সেখানে কর্মরত আছেন ৬ জন। এই ৬ জনের মধ্যে দুইজন প্রেষণে রয়েছেন। এদের মধ্যে হারবাল চিকিৎসক মাসুদ রানা আছেন টাঙ্গাইল জেলার একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অপর চিকিৎসক মোস্তফা আরিফ আছেন ঢাকার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বর্তমানে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদসহ মোট চারজন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। অন্য তিনজনের মধ্যে দন্ত বিশেষজ্ঞ আইরিন ফেরদৌস রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। বাকি গাইনীর রেজওনা পারভীন এবং মেডিকেল কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান কর্মরত আছেন।

চরহরিরামপুর ও চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের সাব সেন্টারের জন্য দুজন চিকিৎসক রয়েছেন। রেজাউল করিম অ্যাসিস্টেন্ট সার্জন অর্থপেটিক ও  আ. মতিন সহকারী সার্জন। তবে ওই দুটি ইউনিয়নে কোনো সাব সেন্টার না থাকায় তারা এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। চিকিৎসক আ. মতিন বলেন, আমরা যে ভবনটিতে থাকি তা একেবারেই বসবাসের অযোগ্য। আবাসন সুবিধা না থাকায় আমরা চাইলেও পরিপূর্ণ সেবা দিতে পারছি না।

স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল কালাম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, সব ডাক্তার নিয়মিত নন। তাই তারা রোস্টার করে অফিস করেন না। গত দুই বছর ধরে তারা এমনই করছে। এটা তার ব্যর্থতা কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কী করার আছে। শোকজ ছাড়া বেশি কিছু বলতে পারি না। পর্যাপ্ত  জনবল না থাকায় সেবা দিতে পারছি না।

ময়লা আবজর্নার ব্যপারে তিনি বলেন, মেরামতের কাজ চলছে। ইট বালু সিমেন্ট সব সময়ই পড়তে থাকে। তিনি আরো বলেন, হাসপাতালের যেটুকু সুবিধা আছে রোগীরা ততটুকুই পাবে, এর বাইরে আমাদের কিছু করার নেই।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর/এস