Alexa বেরোবি: বঙ্গবন্ধু পরিষদ নেতার রুম ভাংচুর নিয়ে ধুম্রজাল

ঢাকা, শনিবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৭ ১৪২৬,   ২২ মুহররম ১৪৪১

Akash

বেরোবি: বঙ্গবন্ধু পরিষদ নেতার রুম ভাংচুর নিয়ে ধুম্রজাল

বেরোবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:০০ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমানের রুম ভাংচুর নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার একই বিভাগের সেকশন অফিসার আনোয়ার হোসেন মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর দিন ওই শিক্ষকের রুম ভাংচুরের ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। তবে ঘটনার একদিন পেরিয়ে গেলেও বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষকই মুখ না খোলায় এ নিয়ে ক্যাম্পাসে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে ভবনে কর্মরত নিরাপত্তা প্রহরী শরিফুল ইসলাম বলেন, বুধবার আনুমানিক রাত ১০ টায় গণিত বিভাগের শিক্ষক মশিউর রহমানসহ আরো একজন একাডেমিক ভবন (০২) এর দ্বিতীয় তলায় মশিউর রহমানের ব্যক্তিগত অফিসকক্ষে যান। তারা  চলে গেলে প্রধান গেটে তালা দিয়ে ঘুমাতে যাই। সকাল ৮ টা পর্যন্ত আর কেউ ভবনে আসেনি।

সকাল ৮ টায় আরেক নিরাপত্তা প্রহরী জাহাঙ্গীর আসলে শরিফুল চলে যান।

জাহাঙ্গীর বলেন, সকাল ৮ টার কিছুক্ষণ পর ভবনে আসেন শিক্ষক মশিউর রহমান। ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর তিনি  আমাকে ডেকে নিয়ে তার ভাংচুর করা রুম দেখান। বিষয়টি আমি তাৎক্ষণিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাই।

এদিকে সকাল ৯ টার দিকে শিক্ষক মশিউর রহমান নিজস্ব ফেইসবুক টাইমলাইনে নিজ কক্ষ ভাংচুরের ছবি দিয়ে স্ট্যাটাসে লেখেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি, রাজাকার, আলবদরের বংশধর ও বিএনপি-জামাত-শিবিরের হামলা আমার রুমে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়া বলেন, ২০১৪ সালের পর থেকে ক্যাম্পাসে জামাত-শিবির বা ছাত্রদলের কোনো কার্যক্রম নেই। সিসি ফুটেজ দেখলেই বুঝা যাবে বিষয়টি কারা ঘটিয়েছে।

রুম ভাংচরের বিষয়ে দুপুরের দিকে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগপত্রে শিক্ষক মশিউর রহমান উল্লেখ করেন, ৪ সেপ্টেম্বর (বুধবার) দুপুর ১টায় ব্যক্তিগত অফিসক্ষ ত্যাগ করেন এবং পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টায় অফিসে এসে নিজ কক্ষটি ভাংচুর অবস্থায় দেখতে পান।

এ বিষয়ে প্রক্টর আতিউর রহমান (চলতি দায়িত্ব) জানান, বিষয়টি সন্দেহজনক। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে রাত ১০টার দিকে মশিউর রহমানসহ আরেকজনকে প্রবেশ করতে দেখা যায় এবং পরের দিন সকাল ৮ টা পর্যন্ত অন্য কাউকে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি। সিসি ক্যামেরা ও নিরাপত্তাপ্রহরীকে ফাঁকি দিয়ে ওই ভবনে প্রবেশ করা সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু ওই ভবনে প্রবেশের জন্য একটি মাত্র গেইট আছে এবং সেখানে সিসি ক্যামেরা বসানো আছে সুতরাং এটা অনেকটাই অসম্ভব। বিষয়টি সেন্সেটিভ হওয়ায় উপাচার্য মহোদয়কে জানানো হয়েছে। তদন্ত কমিটির মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে।

এ বিষয়ে তাজহাট থানার ওসি রোকোনুজ্জামান রোকন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি সিসি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামতের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ