Alexa বেনিংটনের সুপরিচিতি ও ‘লিংকিন পার্ক’ গড়ার গল্প

ঢাকা, রোববার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৭ ১৪২৬,   ২২ মুহররম ১৪৪১

Akash

বেনিংটনের সুপরিচিতি ও ‘লিংকিন পার্ক’ গড়ার গল্প

সৈয়েদা সাদিয়া

 প্রকাশিত: ১৩:৩৭ ২০ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৩:৩৭ ২০ ডিসেম্বর ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মিডিয়া ভুবনে এমন অনেক তারকা আছে যাদের চলে যাওয়ার ঘটনা মেনে নেয়ায় দর্শকদের জন্য অনেক কষ্টকর। তার একটি কারণও আছে, হয়ত ওই মানুষটি মৃত্যুর আগে এমন কিছু কাজ করে গেছে যা দর্শকদের হৃদয়ে গেঁথে আছে। মূলত তার কাজ-কর্মই দর্শকদের কাছে বারবার নাড়া দেয় বলে তার মৃত্যু মেনে নিতে পারে না ভক্তকুল। এমনই একজন গায়ককে আমরা গত বছর হারিয়েছি, যিনি হলেন লিনকিন পার্ক-এর গায়ক চেস্টার চার্লস বেনিংটন। গত বছর তিনি লস অ্যাঞ্জেলসের পালোস ভার্দোস স্টেটে নিজ বাসভবনে আত্মহত্যা করেছেন।

এসময়ে তার পরিবার শহরের বাইরে থাকার কারণে তিনি একাই ছিলেন বাড়িতে। ওইসময় বেনিংটনের নিজস্ব ফ্ল্যাটে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ব্যক্তি জীবনে দু’বার বিয়ে করেছিলেন বেনিংটন। তার পরিবারে দুই স্ত্রী টালিন্ডা অ্যান্ড বেন্টলি ও ছয় সন্তান।

১৯৭৬ সালের ২০ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনাতে জন্মগ্রহণ করেন লিনকিন পার্ক-এর গায়ক চেস্টার চার্লস বেনিংটন। ৪১ বছর বয়সী এ গায়কের জীবনটা ছিল কাঠখড় পোড়ানো। তার বাবা ছিলেন গোয়েন্দা পুলিশ ও মানার্স। ছোটকাল থেকেই বেনিংটনের সংগীতের প্রতি ছিল গভীর আকর্ষণ।

১১ বছর বয়সেই তার বাবা-মা এর ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর বেনিংটনের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। তিনি দায়িত্ব পান তার বাবার। মূলত এরপর থেকেই বেনিংটন মারিজুয়ানা, মদ, অপিয়াম, কোকেইন, মেটাফেটামিন, এলএস ডি- ইত্যাদিতে আসক্ত হন। তার আসক্তিটা ছিলো মাত্রাতিরিক্ত।

এই আসক্তির আরেকটি কারণ ছিল, তিনি সাত বছর বয়সেই তার এক ছেলে বন্ধু থেকে নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু কেউ বেনিংটনকে সমকামী বলে আখ্যা দিবে সেই ভয়ে কারো কাছে তিনি ওই কথা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকেন। একসময় মাদকের বেড়াজালে আটকে পড়েন বেনিংটন। সেসময় আত্মহত্যার ভূত মাথায় চেপে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে অকপটে তিনি বলেছেন।

তবে একটা সময় অশান্তি থেকে বাঁচার জন্য তিনি ছবি আঁকা, কবিতা এবং গান লেখা শুরু করেন। ওইসময় ড্রাগ থেকে তিনি মুক্তিও পেয়েছিলেন। গান গাওয়াটা তখনই শুরু হয়। শুরুতেই গান থেকে জনপ্রিয়তাটা পাওয়া হয়নি। পরে অর্থের অভাবে বার্গার কিং-এ চাকরি নেন বেনিংটন। অল্প বয়সে বিয়েটাও সেরে ফেলেছিলেন। মাত্র ২০ বছর বয়সে মনটা হারিয়ে ফেলে সামান্হার চোখে। তখন তার এতই অর্থাভাব ছিলো যে স্ত্রীকে দেয়ার জন্য একটা রিং কিনতে পারেননি তিনি। তাতে কি! দুজনের আঙ্গুলে ট্যাটু একেই সে বিয়েটা হয়েছিলো।

বিয়ের পর পরই তিনি যোগ দেন ব্যান্ডদল ‘জিরো’তে। এটাই ছিলো লিনকিন পার্কের প্রতিষ্ঠাকালীন নাম। বেনিংটনের যোগ দেয়ার আগে ওই ব্যান্ডের অবস্থা তেমন সুবিধার ছিলো না। আস্তে আস্তে  বিভিন্ন কনসার্ট আর লাইভ শোর মাধ্যমে নামডাক ছড়িয়ে পড়ে ‘জিরো’র। কিন্তু সেই ব্যান্ডের নামটাও পরিবর্তন করতে হয়, কারণ তাদের আগে অন্য কোন দল এ নাম রেজিস্ট্রেশন করে ফেলেছিল।

পরে ব্যান্ডের সবাই মিলে হাইব্রিড থিওরী নামটা রেখে দেয়। এটাই ছিলো লিনকিন পার্কের সেল্ফ টাইটেলড ইপি। এই নাম রাখার একটা কারণও ছিল, তাদের গানে একসঙ্গে র্যাপ, হিপ হপ, রক আর নু মেটালের সংমিশ্রন ছিল। ফলে এই নামটা দলটির কাছে পারফেক্ট লাগে। হাইব্রিড থিওরি-র (২০০০) জন্য তারা নূমেটাল ধারার ব্যান্ডের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্বাধিক ব্যবসাসফল ব্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভ করে। মূলত এই ইপিটাই ১৯৯৯ সালে ওয়ার্নার ব্রসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে সাহায্য করে।

তবে নাম নিয়ে ঝামেলার শেষ হয় না। হাইব্রিড নামটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে লিগ্যাল নোটিশ পান তারা। কারণ ইউকে তে একটা ব্যান্ড ইতোমধ্যে এটা নিয়ে নিয়েছে। দলের নামটা আবার পরিবর্তন করতে হবে। প্রোবিং লেজারস, টেন পিএম স্টোকার, প্লাটিনাম লোটাস ফাউন্ডেশন নামগুলো বাতিল খাতায় রেখে চেস্টার বেনিংটন একটা নাম সাজেস্ট করে সবার কাছে সেটা হলো লিংকন পার্ক। এই নামটা দেয়ার উদ্দেশ্য হলো চেস্টার বেনিংটন যখন প্রাকটিস শেষ করে সান্টামোনিকার বাসায় ফিরতো তখন লিংকন পার্কের সামনে দিয়েই যেতো। 

কিন্তু ওইসময় লিংকনপার্ক.কম ডোমেইনটা এত মূল্যবান ছিলো যেটা তাদের ব্যান্ড মেম্বারদের পক্ষে কেনা অসম্ভব ছিলো। তাই তারা একটু বানানটা ভুল করে লিনকিন পার্ক রেখে দেয়! যা সর্বকালের সফল অল্টারনেটিভ রক ব্যান্ডগুলোর অন্যতম। এটি গঠন করা হয় ১৯৯৬ সালে। ২০০০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় তাদের অ্যালবাম যা ‘হাইব্রিড থিওরি’তে ছিল ‘ইন দ্য এন্ড’, ‘ওয়ান স্টেপ ক্লোজার’, ‘ক্রলিং’-এর মতো বিখ্যাত গান। ২০০২ সালে এটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে বেস্ট হার্ড রক পারফর্ম্যান্স বিভাগে পুরস্কার জেতে।

একসময় রক, মেটাল ও র্যাপ নিয়ে নিরীক্ষাধর্মী কাজ করেছে লিনকিন পার্ক। ২০০৪ সালে র্যাপার জে-জি’র সঙ্গে ‘কলিশন কোর্স’ অ্যালবামে গান করেছেন তারা। এর ‘নাম্ব-এনকোর’ গানটি ২০০৬ সালে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে বেস্ট র‍্যাপ সং কোলাবোরেশন বিভাগে পুরস্কৃত হয়। তাদের বিখ্যাত গানের তালিকায় আরো আছে ‘ফেইন্ট’। পুরো বিশ্বে তাদের অ্যালবাম বিক্রি হয়েছে প্রায় ৭ কোটি কপিরও বেশি।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ