Alexa বেদেদের কৌশলী চাঁদাবাজি!

ঢাকা, শুক্রবার   ১৮ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ২ ১৪২৬,   ১৮ সফর ১৪৪১

Akash

বেদেদের কৌশলী চাঁদাবাজি!

ইদ্রিস আলম

 প্রকাশিত: ১৯:১৬ ১ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১১:০৭ ২ ডিসেম্বর ২০১৮

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

নাকে নথ, পায়ে নুপুরের ঝুমঝুম আওয়াজ রাজপথে। পরনে শাড়ি, কারো থ্রী পিস, হাতে ছোট ছোট বাক্স। দাদা, সাহেব, স্যার, আপু, ভাইয়া এমন সব মিষ্টি কথার ফুলঝুড়ি নিয়ে রাজধানী জুড়ে চলছে বেদে মেয়েদের কৌশলী চাঁদাবাজি। 

নগরীর রাস্তা ঘাট, চলন্ত গাড়ি- এমনকি বাসা বাড়িতে হিজড়াদের চাঁদাবাজি হার মানিয়েছে সাপ দেখিয়ে চাঁদাবাজি। বেশ কিছু বছর ধরে রাজধানীর প্রায় সব স্কুল, কলেজ, বিনোদন পার্ক কিংবা রাস্তাঘাটে দেখা মেলে এসব সাপুড়েদের । বাসা বাড়ির নারীরাও রেহাই পাচ্ছেন না তাদের অত্যাচার থেকে।

উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টর লেকপাড়ে স্কুল-কলেজের ছেলে মেয়েদের আড্ডা দীর্ঘ দিনের। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাপের ভয় দেখিয়ে প্রায় প্রতিদিনই চাঁদাবাজি করছে তারা। ভদ্র পরিবারের এক ছেলে নিরিবিলি বসে ঘাটছিলেন স্মার্টফোন। হঠাৎ চার থেকে তাকে ঘিরে ফেলে সাপুড়ে বেদে মেয়েরা। মাত্র তিন মিনিটের মাথায় উচ্চ স্বরে শব্দ। আশে পাশে বাড়তে থাকে মানুষ ভীড়। 

কি হয়েছে জানতে চাইলে আবির নামের ওই ছেলে বলেন, বসে আছি মনটা ভালো নেই। হঠাৎ এরা এসে দশটা টাকা চায়। প্রথমে না বলি। অনেক জোড়াজুড়ি করছে দেখে, নিজের কাছে খারাপ লাগে তাই ২০ টাকা বের করে দেই।

তিনি আরো বলেন, ম্যানিব্যাগে অনেক টাকা দেখে তারা আমাকে বলে খুচরা আশি টাকা দিচ্ছি আমাকে নতুন ১শ টাকার নোট দিতে বলে। আমি না বললে হাত পা ধরতে থাকে। পরে আমি ১০০ টাকা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাড়া ৮০ টাকা না দিয়ে চলে যেতে শুরু করে। আমি রেগে যখন থামতে বলি, আমাকে বলে ভদ্র মানুষ হয়ে আমাদের হাত ধরলেন কেন? আমি অবাগ হয়ে গেলাম। 

এবার সবাই তাদের ধমকের সুরে কথা বলতে গেলে নুপুর নামের এক বেদে মেয়ে ডেইলি বাংলাদেশকে বলে, দাদা আমাদের ভুল হয়ে গেছে মাফ করে দেন। পেটের দায়ে এমন করে থাকি। বেদে নুপুর আরো বলে, আমাদের সম্প্রদায়ের নীতি অনুযায়ী স্বামী ঘরে বসে থাকবে আর মেয়েরা কাজ করে টাকা উপার্জন করবে। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামতে হয়। কান্না ভেজা কণ্ঠে বলে আমরা গালি বকা খেয়ে কষ্ট করে টাকা নিয়ে যাই আর স্বামীরা নেশা আর জুয়া খেলে সেই টাকা শেষ করে। 

বাক্সে কি আছে জানতে চাইলে রুমকি নামের আরেকজন বেদে বলে, স্যার কিছু নেই, আমরা সাপের ভয় দেখিয়ে টাকা নেয়। কেন এমন করো? প্রতি উত্তরে বলে, কি করব তাছাড়া কেউ টাকা দিতে চায় না।

তাহলে এই ছেলের সঙ্গে মিথ্যে কথা বললে কেন? যেভাবে টাকা নিলে এটা ছিনতাই বলে জানো তোমরা? পুলিশে দেয়া হবে এখন। এমন কথার পর হাত, পা ধরে কান্নাকাটি শুরু করলে ছেড়ে দেয়া হয় তাদের।

আইনশৃংখলা বাহিনীর নাকের ডোগার সামনে এমন চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে তারা। পুলিশের নিরব ভূমিকাতে থাকতে দেখা যায় বলে উপস্থিত সবার দাবি। তাদের শাসন না করে উল্টো মজা করে পুলিশ। 

৫নং সেক্টরের একজন বাড়িওয়ালা ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, তাদের আর হিজড়াদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ আমরা। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মনে করি। সরকার তাদের জন্য সাভারে বেদে পল্লী তৈরি করেছে। সেখানে লেখাপড়া ও কাজ শেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতো কিছুর পরও থেমে নেই তাদের এই নিরব চাঁদাবাজি। এখনই তাদের থামানো না গেলে দিন দিন বেড়ে যাবে তাদের অপকর্ম।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/এসআইএস/শান্ত/এমআরকে