Alexa বেতন ভাতা নিয়েও শেখানো হচ্ছে না কম্পিউটার

ঢাকা, সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ১ ১৪২৬,   ১৬ মুহররম ১৪৪১

Akash

বেতন ভাতা নিয়েও শেখানো হচ্ছে না কম্পিউটার

আ. সামাদ, ইসলামপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৩০ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২০:৪৪ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার শিক্ষার নামে প্রতি মাসে বেতন ভাতা নিচ্ছেন শিক্ষকরা। কিন্তু বাস্তবে কম্পিউটার বিষয়ে কিছুই শেখানো হচ্ছে না শিক্ষার্থীদের। এছাড়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক থাকলেও নেই কম্পিউটার।

কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর দেয়া হয়েছে এমন অনেক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। অন্যদিকে বিদ্যুৎ সংযোগ আছে কিন্তু এসব চালানোর জন্য দক্ষ শিক্ষকের অভাবের সংখ্যাও কম নয়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিজেই কম্পিউটার চালাতে পারেন না। এ কারণে শূন্যের কোটায় কম্পিউটার শিক্ষার মান।

উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১২টি ইউপি ও একটি পৌরসভার অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদরাসায় সরকারিভাবে কম্পিউটার দেয়া হয়েছে।

সরেজমিনে ওই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাগজে-কলমে কম্পিউটার থাকলেও বাস্তবে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটারের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। কম্পিউটার নষ্ট কিংবা অন্যের কাছ থেকে ধার করে আনা কম্পিউটার দেখিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করা হয়।

মাদরাসাগুলোর অবস্থা আরো করুণ। দুই তৃতীয়াংশ মাদরাসায় লোডশেডিংয়ের অজুহাতে শিক্ষা দেয়া হয় না। উপজেলার একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরেজমিনে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নের কথা বলে মোটা অংকের অনুদান নিয়ে এ বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু এ অর্থ প্রতিষ্ঠানের কোনো কাজে ব্যয় করা হয়নি। নিয়োগ পাওয়া বেশিরভাগ শিক্ষকের কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সনদ মানসম্মত নয়। যেসব প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার আছে সেগুলোর শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেন না।

পোড়ারচর আব্দুস সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, কম্পিউটার শিক্ষককে দিয়ে অন্য ক্লাস নেয়া হচ্ছে। কম্পিউটার শিক্ষার এমন অবস্থা গ্রামাঞ্চলের বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা জানান, একটি প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন পাঁচটি করে ক্লাস নেয়ার কথা। কম্পিউটার শিক্ষকদের এ বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়ে আনা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় না সেখানে অচিরেই অভিযান চালানো হবে।

তিনি আরো বলেন, এসব সমস্যা উত্তোরণ করতে হলে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদকে আন্তরিক হতে হবে। সংশিষ্ট শিক্ষককে সার্বিক সহযোগিতা করতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর